নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে রহিমা আক্তার সুমি (১৯) হত্যার অভিযোগে স্বামী আবু ইউসুফকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রবিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সোনাইমুড়ী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও সাতক্ষীরা পুলিশের সহায়তায় সীমান্ত এলাকার হোটেল থেকে আবু ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের গণি মাস্টারের পোল-সংলগ্ন এলাকার ভাড়া বাসার টয়লেট থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ মাস আগে ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে চাটখিল উপজেলার উত্তর রামনারায়ণপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের মেয়ে রহিমা আক্তার সুমি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর গ্রামের মো. আবু ইউসুফকে বিয়ে করেন। গত ১ অক্টোবর সকালে আবু ইউসুফ বিদেশ যাওয়ার জন্য সুমির কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সুমির গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাসায় তালা দিয়ে চলে যান ইউসুফ। পরদিন সকালে তিনি আবার বাসায় গিয়ে স্ত্রীর মরদেহ গুম করতে টয়লেটে রেখে তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর আবু ইউসুফ হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। স্ত্রীকে হত্যা করে সাতক্ষীরার পূর্বপরিচিত খাদিজার কাছে চলে যান তিনি। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সীমান্তের এক হোটেলে অবস্থান করেন।
নিহতের বড় ভাই আরাফাত হোসেন খবরের কাগজকে জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামীকে নিয়ে সোনাইমুড়ীর ওই ভাড়া বাসায় থাকতেন সুমি। ফোন বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকালে তার খোঁজে বাসায় গেলে গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায়। কিন্তু ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে বাসার টয়লেট থেকে সুমির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।