চাঁদপুরে হত্যা মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে চাঁদপুর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. মহসিনুল হক এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মোস্তফা (২৫) ও মিলন হোসেন (২৩), আব্দুর রহিমের স্ত্রী বিলকিস বেগম (৪০), তার ছেলে রিপন হোসেন (২৪) ও সাদ্দাম হোসেন (২৭)।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, আসামি বিলকিস বেগম নিজ বাড়িতে অনৈতিক কাজ করতেন। এ নিয়ে বাড়ির লোকজন ও স্বজনরা বাধা দিলেও তিনি কথা শোনেননি। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ সন্ধ্যার দিকে একই বাড়ির মোবারক হোসেন তাকে বাড়িতে অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মোবারক ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগমকে মারধর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জখম করে আসামিরা। বাড়ির লোকজন ও আত্মীয়-স্বজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে মোবারকের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় এক মাস পর ৩ এপ্রিল মোবারক মারা যান।
পরে ৪ এপ্রিল মোবারক হোসেনের ছেলে মো. জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. আখতার হোসেন মামলাটি তদন্ত করে ৫ এপ্রিল আসামি বিলকিসকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান। মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজিত রায় চৌধুরী বলেন, ‘১০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা মামলায় আদালত ১৩ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেন। স্বাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামিরা তাদের অপরাধ শিকার করায় বিচারক এ রায় দেন। রায়ের সময় আসামি বিলকিস, সাদ্দাম ও মোস্তফা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মিলন ও রিপন হোসেন পলাতক রয়েছে।’