কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মো. জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মোকাম গ্রামের বাড়িতে পুলিশের অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়ার পর সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন জাকির হোসেন। তবে পুলিশ বলছে, অভিযানে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। এ ছাড়া মৃত্যুর বিষয়ে তার পরিবার থেকেও কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও জাকির হোসেনের প্রতিবেশী অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সোমবার ভোরে পুলিশ জাকির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ভয়ে কেউ দরজা না খোলায় তার টিনের ঘরের দরজায় পুলিশ সজোরে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। পরে জাকিরের স্ত্রী দরজা খোলার পর জাকির পালানোর জন্য দৌড় দিলে পুলিশও তার পিছু নেয়।
একপর্যায়ে পুলিশ তাকে ধরে ফেললে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় জাকির মাটিতে পড়ে যায়। আমার মনে হয়, তার অবস্থা খারাপ দেখে হ্যান্ডকাফ খুলে পুলিশ চলে যায়। সকালে ঘরের পাশের ৫০ গজ দূর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে আমরা মরদেহ দেখতে গিয়ে তার চোখে-মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি।’ পরিবারটি অত্যন্ত নিরীহ হওয়ায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। বাদ জোহর জানাজা শেষে জাকির হোসেনকে দাফন করা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী পলি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের সময় ঘর থেকে পালিয়ে দীর্ঘ সময় ঘরে না ফেরায় আমরা ভেবেছিলাম তাকে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে গেছে। কিন্তু সকালে বাড়ি থেকে একটু দূরে স্থানীয়রা জাকিরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে সেখান থেকে দ্রুত তাকে কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।’
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি আবুল হাসনাত খন্দকার বলেন, ‘একটি মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ জাকির হোসেনের বাড়িতে গিয়েছিল। তবে ওই সময় তাকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ আসার খবরে তিনি পালিয়েছেন।’
ওসি আরও বলেন, ‘জাকিরের স্ত্রীর কাছ থেকে আমরা শুনেছি তিনি এর আগে দুবার স্ট্রোক করেছেন। এটাসহ তিনবার স্ট্রোক হয়েছে। স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হতে পারে। তার পরিবার এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। জানাজার সময় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করার চেষ্টা করছেন। এর পরও অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এমএ/এআর