ফেনীতে নাশকতা রোধে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ২৮ কিলোমিটার রেলপথ পাহারায় আনসার ও গ্রামপুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) ফেনী রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের সময় এ তথ্য জানান ফেনী জেলার আনসার-ভিডিপি পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. জানে আলম সুফিয়ান।
চলমান রাজনৈতিক সংকটে রেলপথ রক্ষা করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে সব ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ১৫টি পয়েন্ট ও ৫টি রেলওয়ে স্টেশন পালা করে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দুইজন আনসার সদস্য ও তিনজন গ্রামপুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
মো. জানে আলম সুফিয়ান জানান, ফেনীতে এখনো রেলপথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গত ৩০ অক্টোবর থেকে রেল ও জনসাধারণের জানমালের রক্ষার্থে আনসার-গ্রামপুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
এসব আনসার সদস্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রেলপথে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
ধর্মপুত্র ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন শাকা খবরের কাগজকে বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে নাশকতা শুরু করেছে। তাদের নাশকতা থেকে রেলপথ রক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুইজন আনসার সদস্যের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনজন গ্রামপুলিশ দেওয়া হয়েছে। তারা ৫ জন করে দুটি শিফটে রেলপথ পাহারা দেয়। পাশাপাশি মাঠে রয়েছে ছাত্রলীগ যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।’
শর্শদি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ‘নাশকতা ঠেকাতে ছাত্রলীগ যুবলীগ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামের ফতেহপুরে সড়ক ও রেলপথে নাশকতা ঠেকাতে ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের পক্ষে দুটি অস্থায়ী টিম পালাক্রমে অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া শর্শদি রেলওয়ে স্টেশনে একটি টিম দায়িত্ব পালন করে। যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা সব সময় সোচ্চার রয়েছি।’
ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘ফেনীর ২৮ কিলোমিটার রেলপথ অংশে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এগুলো হলো- গোপাল ইউনিয়ন, ফাজিলপুর, কালিদহ, শর্শদি ও ধর্মপুর ইউনিয়ন। রেলপথ নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাশকতা ঠেকাতে আনসার, পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও দায়িত্ব পালন করছে।’
তোফায়েল আহাম্মদ/জোবাইদা/অমিয়/