বিএনপি নেতা-কর্মীদের অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কর হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস ও শাহজাহান ওমর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু সরকার শাহজাহান ওমরকে চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচনে রাজি করিয়ে রাতারাতি বের করে আওয়ামী লীগে যোগদান করিয়েছেন। নির্বাচনে তাকে এমপিও বানানো হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, বিচার বিভাগ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে? বিচার বিভাগ একপেশে আচরণ করলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের চাওয়া, রাষ্ট্রযন্ত্র কোনো দলের নিজস্ব বাহিনীতে রূপান্তর না হয়ে যাতে তাদের কাঠামো মেনে চলে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোট পড়া নির্বাচনের মধ্যে অন্যতম। ভোট উৎসবের পরিবর্তে চট্টগ্রামে ভোট বর্জনের এক নীরব প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে।’
নির্বাচনকে প্রহসনের ও তামাশার ভোট মন্তব্য করে ডা. শাহাদাত বলেন, ‘যেখানে নিজেরা নিজেরা ভোট করেছে সেখানেও ভোটের এ অবস্থা। তাতেই বোঝা যায় বিএনপি কী কারণে এ ভোট বর্জন করেছে। এসব আসনে প্রার্থীরা ভোটার আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেখানে ভোট পড়েছে ২০-২৬ শতাংশ। কিন্তু সারা দেশে ভোটের হার দেখানো হয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। যেখানে এজেন্ট ছিল না সেখানে জাল ভোটের মহোৎসব হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটের কাস্টিং বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন বিএনপির ডাকা হরতাল চলার সময় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে নেতা-কর্মীদের আহত করে ১২ জনকে আটক করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের পরের দিন থেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে চান্দগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক হয়রানিমূলক অভিযান, পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও মারধরের ঘটনা বিরতিহীনভাবে চলে আসছে। চান্দগাঁও থানা এলাকায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ জনগণ এখন একাত্তরের দিনগুলোর চেয়েও চরম সংকটকাল অতিক্রম করছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। চান্দগাঁও থানা পুলিশ বিএনপি নেতাদের বাসায় না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করছে। দিনে রাতে যেকোনো সময় নেতা-কর্মীদের ধরতে বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে। আটককৃত নেতা-কর্মী কিংবা তাদের আত্মীয় স্বজনদের থানায় নিয়ে গিয়ে অবর্ণনীয় নির্যাতন করা হচ্ছে। চান্দগাঁও থানা এলাকা এখন অনেকটা পুরুষশূন্য। পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে সাধারণ মানুষও ঘরে থাকতে পারছে না। পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, আওয়ামী লীগের কর্মচারী নন। আপনারা আওয়ামী লীগের কর্মীর ভূমিকার অবতীর্ণ হবেন না।’
তিনি নির্বাচনের দিন চান্দগাঁও এলাকায় সংঘটিত ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা বিএনপি নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করে অবিলম্বে সব নেতা-কর্মীর মুক্তির জোর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, আবদুল মান্নান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুন জামান, মাহবুব আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আনোয়ার হোসেন লিপু, মো. কামরুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ।