বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলারসহ নিখোঁজ হওয়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার সেই ১৫ জেলে বাড়ি ফিরেছেন।
বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে তারা আনোয়ারা উপকূলের রায়পুর ঘাটে এসে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয়রাও জেলেদের দেখতে ভিড় জমান। এ সময় জেলেদের ফেরা নিয়ে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ফিরে আসা ১৫ জেলে হলেন- মো. নুরুজ্জমান ওরফে কালু, আবদুল মন্নান, মহিউদ্দিন, মো. রায়হান, কালু মিয়া, আলী হোসেন, মো. রাশেল, মো. মোরশেদ, মো. বোরহান, আবুল মনসুর, আলী আহমদ, আবদুল হান্নান, জালাল উদ্দিন, আবু ছাদেক, আবদুল করিম। তাদের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে।
গত ৩ জানুয়ারি এফবি মা জননী ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান এই ১৫ জেলে। একপর্যায়ে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে তারা গভীর সাগরে হারিয়ে যান। পরে ভাসতে ভাসতে তারা মিয়ানমারের সীমান্তে পৌঁছালে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনীর একটি ট্রলার তাদের দেখে মিয়ানমারের একটি মাছ ধরার ট্রলারকে বুঝিয়ে দেয়। তিন দিন পর মিয়ানমার তীরে ফিরে ওই ট্রলারটি।
পরে ১৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের নৌবাহিনী জেলেদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। কোস্টগার্ড গত রবিবার রাত ১১টায় তাদের সেন্টমার্টিন দ্বীপে নিয়ে আসে। উদ্ধারের পর মিয়ানমার নৌ বাহিনী বিপদগ্রস্ত জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারসহ জ্বালানি তেল দিয়ে সহায়তা করে।
পরে সেন্টমার্টিনে কোস্টগার্ডের জেটিতে জেলেদের নষ্ট ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামত শেষে জেলেদের বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়রায় নিয়ে আসা হয়।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমিন শরীফ খবরের কাগজকে বলেন, ‘জেলেরা আজ দুপুরে তাদের বাড়িতে ফিরে এসছেন। আমরা ইউএনওসহ কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ফেরার বিষয়ে সবকিছু ব্যবস্থা করেছি। তাদের কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সেটি দেখব।’
মনির/সাদিয়া নাহার/অমিয়/