বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার সাইঙ্গ্যা দানেশপাড়া এলাকায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউনিব্লক দিয়ে দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ ছাড়া করা হয়েছে একটি কালভার্ট ও ড্রেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত ইউনিব্লক ইট তৈরি করা হয় বালি, পাথর ও সিমেন্টের মিশ্রণে, যা রোদে শুকিয়ে ব্যবহার উপযোগী করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো বিষয় নেই, ফলে এটা পরিবেশবান্ধব।
এ দিকে ইটের রাস্তা সবার কাছে পরিচিত হলেও জেলায় এই প্রথম ইউনিব্লক দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের কাছে বিষয়টি খুবই আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম আইয়ুব আনছারী বলেন, ‘রাস্তাটি হওয়ায় এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত। আগে বান্দরবান যেতে যেখানে ১ ঘণ্টা সময় লাগত এখন ১৫ মিনিটেই আমরা বান্দরবান সদরে পৌঁছে যাচ্ছি। এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার এই উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এলাকাবাসীর পক্ষ হতে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা কৃষক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সাঙ্গু নদীর তীরে আমরা চাষাবাদ করি। এত দিন চাষাবাদের ফসল পরিবহনে আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করতে হত। রাস্তাঘাট ভালো না থাকায় এখানে গাড়ি আসতে চাইত না। এখন এই রাস্তাটি হওয়ার কারণে জমির ফসল পরিবহনে ঝামেলা নেই। খুব সহজেই আমরা উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারছি।’
এ দিকে নিজের ওয়ার্ডে প্রথম ইউনিব্লক দিয়ে দৃষ্টিনন্দন রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারাছা ২ নম্বর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. মোরশেদ। তিনি বলেন ‘রাস্তা অনে (হওয়ায়) এলাকার মানুষ খুব খুশি হইয়ে (হয়েছে), আইও (আমি) খুশি অইয়ি (হয়েছি)।’
জেলায় প্রথম ইউনিব্লকের এই দৃষ্টিনন্দন সড়কটি নির্মাণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বার আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবদুল মান্নান রুবেল বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ইউনিব্লক দিয়ে সড়কের এই কাজটি করতে একটু ভয় কাজ করছিল। তবুও চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। মেয়াদের আগেই কাজটি শেষ করলাম। এলাকাবাসীর সঙ্গে আমিও আনন্দিত।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়াউল ইসলাম মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০২৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে ইউনিব্লকের ব্যবহার বাড়াতে মূলত এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ইউনিব্লক দিয়ে সড়ক নির্মাণের ফলে এক দিকে যেমন সড়কটি দৃষ্টিনন্দন দেখায়, পাশাপাশি এর স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কম। তাই এটা বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে দিন দিন।