কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের স্বজনরা ছিল তাদের প্রধান টার্গেট। জেলখানা, থানা কিংবা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে সংগ্রহ করতেন তাদের মোবাইল নম্বর। তারপর র্যাবের সিও, ডিসি, এসপি কিংবা জেল সুপার পরিচয়ে বিপদাপন্ন মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এমন প্রতারক চক্রের মূলহোতা তোরাব আলী ওরফে রেজাউল করিমসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল ইসলাম শামীম।
তিনি বলেন, ‘তোরাব নিজেকে অবিবাহিত জানিয়ে ১১টি বিয়ে করেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে আয় করা কোটি টাকা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ব্যয় করছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করেছিলেন।’
পারভীন, নুরুল আমিন ও আসমা-উল হুসনা নামে তিন ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, তাদের তিনজনের স্বজন একাধিক মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। খোঁজ-খবর নিয়ে তাদেরকেই এই প্রতারক চক্র টার্গেট করে। লটারির মাধ্যমে তাদের স্বজনরা কারাগার থেকে ছাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে নিজেদের ডিসি, এসপি কিংবা জেল সুপার পরিচয় দিয়ে মোবাইলে কল করতেন। চক্রের প্রধান তোরাব আলী মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস বিকাশের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অ্যাডিশনাল এসপি আনোয়ারুল ইসলাম শামীম বলেন, ‘দুই বছর আগেও তিনি (তোরাব আলী) ছিলেন হতদরিদ্র। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বনে যান বিপুল সম্পদের মালিক। এখন কোটি টাকার অনুদান দিয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশ করছেন, হচ্ছেন প্রধান অতিথি। কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও ঘোষণা দেন। যার পুরো অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া, যা তিনি র্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।’
তিনি আরও জানান, প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ র্যাবের কাছে আসে। এরপর তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে প্রতারক চক্রের নতুন ফাঁদ। এরপর সোমবার দিবাগত রাতে চকরিয়ায় প্রতারণার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা হয় ওই চক্রের মূলহোতা তোরাব আলীসহ ছয়জনকে। জব্দ করা হয় নগদ টাকা, ডলার, একটি মাইক্রোবাস, ১০টি মোবাইলসহ ১৪টি সিম কার্ড। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চক্রটির অন্তত ২০ জন সদস্য কক্সবাজারে সক্রিয় রয়েছেন।