চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ইব্রাহিম নেওয়াজের আত্মহত্যার ঘটনায় কারা উপ-মহাপরিদর্শককে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অন্যরা হলেন একজন সহকারী সার্জন, একজন জেল সুপার ও একজন জেলার।
বুধবার (২০ মার্চ) এ কমিটি গঠন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন। এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ওয়ার্ড তালাবন্দি করার পর থেকে কয়েদি ইব্রাহিম নেওয়াজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যায় ইফতারের পর কারাগারের গুদামের পাশে তার লাশ পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ইব্রাহিমের লাশ আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিন উল্লাহ মৃত ঘোষণা করেন। ইব্রাহিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি। মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পরে গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
নিহত ইব্রাহিমের লাশের সুরতহাল করেছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই শামসুল ইসলাম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার লাশে ফাঁস দেওয়ার সব ধরনের আলামত পাওয়া গেছে।’
সাধারণত কারাগারে গুদামের কাজে কেউ নিয়োজিত হতে চান না। কেননা গুদামে কঠিন কাজ করতে হয়। যা অনেকেই সইতে পারেন না। ধারণা করা হচ্ছে ইব্রাহিম নেওয়াজকে গুদামের কাজে দেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘নিহতের লাশ সব প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারাবিধি অনুসারেই বন্দিদের কাজ সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা হয়। বন্দি ইব্রাহিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া যেকোনো বন্দিরই আবেদন করে কাজ পরিবর্তন করার সুযোগ সব সময়ই রয়েছে। তার কাজ পরিবর্তনসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তিনি অথবা অন্য কেউ কখনো করেননি। তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।’
নিহত কয়েদি ইব্রাহিম নেওয়াজ (৩০) রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার আলমদক এলাকার নেওয়াজ বাড়ির আলী নেওয়াজের ছেলে। তার কয়েদি নম্বর ৭৯৫৩/এ । তিনি রাউজান থানার একটি অস্ত্র মামলার ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং কারাগারের যমুনা-১৯ নম্বর ওয়ার্ডে থাকতেন। ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি কারাগারে অন্তরীণ হন।