দীর্ঘ তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন মোহাম্মদ বাবুল মিয়া (৬৭)। প্রতারণা মামলায় তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তিনি দেশে এসে আদালতে হাজির হন। জামিন নেওয়ার পর মামলার আদ্যোপান্ত জেনে হতবাক এই বয়োবৃদ্ধ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী হলেও তার নাম ব্যবহার করে কোম্পানি গঠন, ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ, ফ্ল্যাট বিক্রয় করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্ক্যাপ প্ল্যানার্স নামে যে কোম্পানি খোলা হয়েছে, তাতে বাবুল মিয়ার অজান্তেই তাকে কখনো পরিচালক আবার কখনো চেয়ারম্যান দেখানো হয়েছে। যেসব তারিখে তাকে উপস্থিত দেখিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে এসব প্রতারণা করা হয়েছে, সে সময় তিনি দেশেই ছিলেন না। যেহেতু মামলা হয়ে গেছে, মামলার প্রতিটি তারিখে হাজিরা দেওয়ার জন্য তাকে আমেরিকা থেকে দেশে আসতে হয়েছে।
আদালত ঘটনা তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল তথ্য।
বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) এই জালিয়াতি মামলার আসামি মো. মোমেন (৪৭) চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল আলমের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মোমেন সিটি স্ক্যাপ প্ল্যানার্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মুসাপুর চাঁদেরগো বাড়ির মৃত আবদুল বাতেনের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল নূর খবরের কাগজকে জানান, সন্দ্বীপ উপজেলার ইয়াছিন সুকানির বাড়ির মৃত মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ বাবুল মিয়ার করা প্রতারণা মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে আসামি মোমেনসহ ১৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন সন্দ্বীপ উপজেলার মুসাপুর গ্রামের মো. আরাফাত (৪০), শিহাব উদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব (৪০), মাহবুবুর রহমান (৪৫), এ এস এম রফিকুল ইসলাম (৪১), এস এম সাইফুল ইসলাম (৩৯), মোহাররামুল কবির (৪৯), পীযূষ চন্দ্র রায় (৪০), সুরাইয়া বেগম (৬১), মোহাম্মদ শাহজাহান (৮০), জেসমিন মান্নান (৫১), শাহরিয়ার মাহমুদ (৩৯) ও রাশেদ হোছাইন (৩৫)।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বাদীর স্বাক্ষর নিজেরা দিয়ে সিটি স্ক্যাপ প্ল্যানার্স লিমিটেড ডেভেলপার কোম্পানি গঠন, ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ও ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব ঘটনায় বাদীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।