ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: মির্জা ফখরুল একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি টাকা খেলেন, জেল পেলেন! উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র

চমেকে অর্থাভাবে বন্ধ স্মৃতিস্তম্ভের কাজ

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৪, ১২:১৬ পিএম
চমেকে অর্থাভাবে বন্ধ স্মৃতিস্তম্ভের কাজ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর। খবরের কাগজ

আজ নয়তো কাল, মাহবুব ফিরবেই। এটা ছিল মরিয়ম খাতুনের বিশ্বাস। ছেলের পথ চেয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর প্রহর গোনেন তিনি। কিন্তু মাহবুব আর ফেরেননি। ২০০৪ সালে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ছেলের কাছেই চলে যান মরিয়ম খাতুন। ৩৭ বছর পর পরিবার এবং স্বজনরা জানতে পারেন, চট্টগ্রামের প্রথম চার শহিদের একজন মাহবুবুল আলম চৌধুরী। তার লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেছনে গণকবরে মাটি চাপা দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী।

শুধু শহিদ মাহবুবুল আলম চৌধুরী নন, পাকিস্তানি নরপশুরা অন্তত ২৫ জন বাঙালিকে গণহত্যা করে সেখানে মাটি চাপা দিয়েছিল। ওই গণকবরে রয়েছেন চট্টগ্রামের প্রথম চার শহিদের একজন ওমর গণি এম ই এস কলেজের ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুল আলম চৌধুরী, একজন দরবেশ, দুজন ইপিআর সদস্য ও আরও অজ্ঞাত ২১ জন। 

মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘২৬ মার্চের পর চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নৌ ভবনে অবস্থান নেওয়া পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৭ মার্চ ছাত্রলীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (প্রয়াত সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি), মোছলেম উদ্দিন আহমদ (প্রয়াত এমপি ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি)সহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে নির্যাতন চালায়।’

এরপর ২৮ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যদের একটি দল পুরোনো বিমান অফিসের পেছনের গলি দিয়ে মেথর পট্টি হয়ে এবং লাভ লেইন দিয়ে ডিসি হিলে উঠে অবস্থান নেয়। ২৮ মার্চ ছাত্রনেতা বশরুজ্জামানসহ চারজন এক গাড়ি নিয়ে নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রসদ নিয়ে যাচ্ছিলেন।

২৮ মার্চ বিকেল ৪টায় তাদের ১১ জনের একটি দল দুটি গাড়িতে করে আন্দরকিল্লা হয়ে চেরাগী পাহাড়ের মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি নেভাল ফোর্স ডিসি হিল থেকে তাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি করে। তারাও প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। কিন্তু সুসজ্জিত হানাদার বাহিনীর সামনে স্বল্প শক্তির ১১ মুক্তিযোদ্ধা টিকতে পারেননি। এই যুদ্ধে বশরুজ্জামান চৌধুরী, দিলীপ বড়ুয়া, জাফরসহ চারজন শহিদ হন। পৌর চেয়ারম্যান ফজল করিমের কেয়ারটেকার আলী এবং প্রতিবেশী জহুর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাহবুবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। 

শহিদ মাহবুবুল আলম চৌধুরীর ছোট ভাই রফিকুল আলম চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ‘তার বড় ভাই ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ২৮ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে শহিদ হন। চট্টগ্রাম শহরের চেরাগী পাহাড় মোড়ের এই প্রতিরোধ যুদ্ধে তিন সহযোদ্ধা শহিদ বশরুজ্জামান চৌধুরী, শহিদ জাফর আহমদ, শহিদ দীপক বডুয়াও বীরত্বের সঙ্গে শহিদ হন। তারা হলেন চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এবং চারজনই চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ও এম ই এস কলেজ ছাত্র সংসদের সিনিয়র নেতা।’ 

তবে তার ভাই যে যুদ্ধের একদম শুরুতেই শহিদ হয়েছিলেন তা তারা জানতে পারেননি। সেসময় যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন ভালো না থাকায় কেউ খবর দেয়নি। আবার ফটিকছড়ির গ্রাম থেকে কেউ খোঁজ নিতে আসারও সুযোগ পাননি। স্বাধীনতার পরও ছেলে ফিরে না আসায় ১৯৭৬ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি পুত্রশোকে মারা যান পিতাও। তারপরও আশায় বুক বেঁধে ছিলেন মা ও ছোট ভাইয়েরা।
 
রফিকুল আলম জানান, স্বাধীনতার প্রায় চার দশক পর স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম ‘মেডিকেল কলেজে একাত্তরের শহিদদের গণকবরের সন্ধান’ শীর্ষক লেখাটি পড়ে ভাইয়ের সন্ধান পান তারা। 

মূলত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানেই মেডিকেলের পেছনে মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব কোণার বধ্যভূমির তথ্যটি উঠে আসে। মেডিকেলের দশম ব্যাচের ছাত্র ডা. ওমর ফারুক তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে ঐতিহাসিক এই তথ্যটি প্রকাশ করেন। ডা. ফারুক স্বাধীনতার পরপরই কলেজে এসে নিজেই দেখেছেন মাটিচাপা দেয়া জায়গাটি। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াল দিনগুলোতে কর্তব্যের খাতিরে কলেজে থাকতে বাধ্য হওয়া কর্মচারীদের কাছেও গণকবরের কথা তিনি শুনেছেন। 

স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর গণকবরের স্থানটি সংরক্ষণ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিশেষ উদ্যোগে কাজটি শুরু হয়। গণকবরের চারপাশ পাকা দেয়াল দিয়ে ঘেরাও করা হয়েছে। তবে শহিদ বেদী নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগেই কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম খবরের কাগজকে জানান, অর্থাভাবে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে।

একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক
অসচেতনতায় নিভে গেল একই পরিবারের তিন প্রাণ। ছবি: খবরের কাগজ

একটি পুকুর, কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা, তারপর তিনটি ছোট্ট প্রাণের নিথর দেহ—এভাবেই শেষ হয়ে যায় কত পরিবারের স্বপ্ন।

দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন দীর্ঘ থেকেই দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শোকের মাতম উঠছে, অথচ একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারত অমূল্য জীবনগুলো।

এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহমদপুর গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো—চর আহমদপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মুফাচ্ছেরের মেয়ে সুমাইয়া (১৩)। এদের মধ্যে ফাতেমা ও আশামনি স্থানীয় খোরশেদ মিয়ার নাতনি এবং সুমাইয়া খোরশেদ মিয়ার ছোট ভাইয়ের মেয়ে। নিহতদের মধ্যে দুজন কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণি এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ওই তিন শিশু বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। দীর্ঘ সময় পার হলেও তারা পানি থেকে না ওঠায় বাড়ির অন্য এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তল্লাশি চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।

এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চর আহমদপুর গ্রামের বাতাস।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সন্ধ্যা নাগাদ পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরেছে। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন

বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হলে জাহাজ ভাঙা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পিএইচপি শিপ স্ক্র্যাপার্স লিমিটেডের  মো. মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে খাজা আজমীর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. সেলিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট পদে রাইজিং গ্রুপের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রিট খারিজ হয়ে গেলে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেননি। 

এতে সর্বোচ্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. নুর উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজের গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন— মো. জাহিদুল হক (প্যাসিফিক স্টিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড), মো. তসলিম উদ্দিন (কেআর শিপ রিসাইকেলিং ইয়ার্ড), এস.এম. নূরুন নবী (বিওবি রিসাইকেলার্স), মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ (মেসার্স ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), উবাইদা আসাদী (প্রগ্রেসিভ শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), হোসাইনুল আরেফিন (জনতা স্টিল লিমিটেড) এবং এ.কে.এম. সাইফ উল্লাহ সায়েক (মাস্টার স্টিল অ্যান্ড অক্সিজেন লিমিটেড)।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। ৮৪ ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোট দিয়েছেন। 

বিকেল ৩টায় নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করেন, বিএসবিআরএ নির্বাচনি বোর্ড-২০২৬-এর চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সদস্য মো. রাসেল প্রদানিয়া, আশরাফ মাহমুদ ও শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা । 

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহসভাপতি পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ও সদস্য পদে নয়জনের মধ্যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
গরম থেকে রক্ষা পেতে ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।

এদিকে সকাল থেকে সূর্যের প্রখর খরতাপে পুড়ছে সিলেট। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতায় ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষজন এই গরমে চরম কষ্টে আছেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে বের হচ্ছেন।  

তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে সিলেট নগরীর রাস্তায় মানুষের চলাচলও অনেকটা কম। সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলও অনেকটা কম। গরমের কারণে বেশী বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে দুপুর ৩টায় এই তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এই বছরের মানে ২০২৬ সালের আজকে পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।’

রিফাত/

সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: এ্আই

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের রাতাল গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর সোয়া একটার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই শিশুর নাম রহমত আলী (৭)।  শিশুটি একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় কয়াখাস  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানান, শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বাড়ির পাশেই  নিজেদের একটি ছোট পুকুরে গোসল করতে যায় শিশুটি। এক পর্যায়ে   পানিতে ডুবে যায়। স্বজন ও স্থানীয়রা অনেক চেষ্টায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

কামাল মৃধা/এসএন

ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়গুলো থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে শতাব্দী প্রিয় সেই বিলুপ্তপ্রায় স্বাদ।

স্থানীয় সূত্র ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগেও ধনবাড়ী উপজেলার উল্লেখযোগ্য যমুনার শাখা ঝিনাই নদী, বংশাই নদী-খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও কৃত্রিম জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ পাওয়া যেত। তখন অনেক মানুষ মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেই পেশাজীবী মানুষেরা বাধ্য হয়েছেন অন্য পেশায় ছুটতে। মৎস্য সংশ্লিষ্টদের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে শতাধিক প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, ভেটকি, ভোলা, মাগুর, শৈল, চেলা, টাকি, চাঁদা, বাইশ, কাকিলা, খলিসা ও গুলশা মাছ উল্লেখযোগ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার বেশিরভাগ মাছই একসময় ধনবাড়ীর জলাশয়ে প্রচুর পাওয়া যেত।

মৎস্য কর্মকর্তারা দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-নদী-নালা ও খাল-বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া, চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক ব্যবহার, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয়ে সেচ দিয়ে মাছ ধরা এবং ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ শিকার।মূল কারণ হচ্ছে ধনবাড়ী উপজেলার বিল গুলোকে লিজ দেওয়া। 

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৯৮  বছর বয়সী হোসেন আকন্দ গতানুগতিক সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম, বিলে বিলে মাছ ভরা থাকত। জাল ফেললেই যেন মাছ উঠত। বর্ষায় তো পানির সঙ্গে ঘরেই মাছ ঢুকে যেত। কিন্তু এখন খাল- বিলে মাছের দেখাই মেলে না। পানিটাই যেন মরে গেছে।

বানিয়াজান ইউনিয়নের ইউসুপ মিয়া দীর্ঘদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, বহু বছর ধরে মাছ ধরে বেচে খেয়েছি। সংসারের সব ব্যয় মিটিয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে যা আসে, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ কেনার কথাও ভাবতে পারে না। এক কেজি ছোট টেংরা মাছের দাম এখন ৫০০-৬০০ টাকা! আমলা মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই সুরে কথা বলেন।

তারা জানান, এক সময় আমলা বাজারে দেশীয় ছোট মাছের কোনো সংকট ছিল না। গরিব-দুঃখী সবাই স্বল্পমূল্যে এসব মাছ কিনে খেতে পারতেন। বর্তমানে অল্প যা পাওয়া যায়, তার দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ধনবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছেলেবেলায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরত এবং মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো চিত্রে দেখে জানবে পুঁটি, টেংরা, মাগুর মাছের অস্তিত্বের কথা!’

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দেশীয় মাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এছাড়া সেচ দিয়ে মাছ শিকার ও জলাশয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবেও দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কিছু প্রজাতি এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন চায়না দুয়ারী জাল বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন এবং বর্ষায় মাছের অবাধ চলাচলের জন্য নদী-খালের সংযোগ রক্ষা করা।

গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘স্হানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা গেলে দেশীয় মাছ রক্ষা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সময় ক্ষয় নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জুয়েল রানা/রিফাত/