ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল মিরপুরে অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ তুরস্ককে এফ-৩৫ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর আহ্বান জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী তানধান ডিপিটি রিনিউয়েবল ডিভিশনের সৌর ও লিথিয়াম পাওয়ার সলিউশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট চলতি বছরে সুদানে অন্তত ৩৩০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপান চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ২৫ বছর পূর্তিতে দেশের সবচেয়ে ইমপ্যাক্টফুল ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ব্র্যাক ব্যাংকের সম্মাননা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য-সহিংসতা প্রতিরোধে সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি: ডেপুটি স্পিকার পাকুন্দিয়ায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জনের মৃত্যু

বিদ্যুৎ বিভাগের গায়েবি বিল! বিপাকে অর্ধশত গ্রাহক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:১১ এএম
বিদ্যুৎ বিভাগের গায়েবি বিল! বিপাকে অর্ধশত গ্রাহক
দোচালা ঘরে দুটি ফ্যান, তিনটি বাল্ব ও একটি ফ্রিজ চালিয়ে বিল এসেছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ টাকা। ওই বিল হাতে নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রাঙামাটি পৌর শহরের শাবানা বেগম/ খবরের কাগজ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে যখন দিনমজুর স্বামীর রোজগারে সাধ আর সাধ্যের টানাপড়েনে হাঁসফাঁস অবস্থা গৃহবধূ শাবানা বেগমের, তখন এক মাসের বিদ্যুতের বিল যেন তার কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। দোচালা টিনের ঘরে দুটি ফ্যান, তিনটি বাল্ব আর একটি ফ্রিজ চালানোর খেসারত গুনতে হচ্ছে ৬৩ হাজার ৩৬৫ টাকা। তাই কপালে পড়েছে তার দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

শুধু শাবানা বেগমই নন, আকস্মিক এমন ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা রাঙামাটির পৌর এলাকার পুরানপাড়া, ইসলামপুর ও শরীয়তপুরের অর্ধশত গ্রাহক। তাদের মার্চ মাসের এক বিলেই কারো কারে দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত; যা পরিশোধের শেষ সময় ছিল গত ২৮ এপ্রিল। গ্রাকদের দাবি, আগে মাসে এক হাজার টাকার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল এলেও নিয়মিত পরিশোধের পরও প্রিপেইড মিটার পরিবর্তনের নামে এমন ভূতুড়ে বিল চাপিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ অফিস। তবে বিদ্যুৎ অফিস বলছে- রাজস্ব মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। তবে গ্রাহকরা চাইলে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

এসব এলাকার বেশির ভাগ মানুষই দিনমজুর ও জেলে। তাই একদিকে বকেয়া পরিশোধের অসামর্থ্যতা অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা পড়ার দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে তাদের। সম্প্রতি পুরনো ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন করে নতুন প্রিপেইড মিটার সংযোগ পাওয়ার পর এমন ভোগান্তিতে পড়েন এই গ্রাহকরা। ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। 

সম্প্রতি সরকার ঘোষিত ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন কর্মসূচির অধীনে রাঙামাটি জেলায় এরই মধ্যে ৩ হাজার ৬০০ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাদের মধ্যে এমন ভূতুড়ে বিলে বিপাকে পড়েছেন অর্ধশত গ্রাহক। এ নিয়ে গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েও গ্রাহকরা সমাধান পাননি।

এমন ভোগান্তি নিয়ে কথা হয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে। পুরানপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আজিজের স্ত্রী শাবানা বেগম। ছোট্ট দোচালা টিনের ঘরে বিদ্যুতে চলে দুটি ফ্যান, তিনটি বাল্ব আর একটি পুরনো ফ্রিজ। ভাই মো. হারুনের নামেই স্থাপন করা আছে মিটার সংযোগটি। শাবানা বেগম বলেছেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে বিল এসেছিল, ১ হাজার ১১১ টাকা, জানুয়ারিতে ৯১৯ টাকা। মিটার পরিবর্তনের পরে ভেবেছিলাম শেষ বিলে আসবে বড়জোড় আর ৫০০ টাকা। কিন্তু কার্ড মিটার দেওয়ার পরে আসছে ৬৪ হাজার ৩৩৫ টাকা! এই গায়েবি বিল কোত্থেকে এল। আমার আগের তো সব বিল পরিশোধ করা আছে। সংসার চালাতে পারি না। বিল কীভাবে দেব? আমি এর বিচার চাই।’

ওই এলাকার মো. রফিক বলেন, ‘মিটার বদলানোর পরে বিল দিয়েছে ৩ হাজার ৪২ টাকা। পরিশোধ করেছি। এরপরে বিল দিয়েছে ৭৭ হাজার ৩১৩ টাকা। এত বিল কীভাবে এল আমার বুঝে আসছে না। গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যুৎ অফিসে আমরা সবাই গিয়েছি। তারা প্রত্যেককে আলাদাভাবে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। তারা ঢাকায় পাঠাবে, মন্ত্রণালয় থেকে কিছু করা যায় কি না চেষ্টা করবে। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা পাইনি।’

স্থানীয় খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রতিমাসে এক হাজার টাকার নিচে বিল আসত। মিটার পরিবর্তনের পরে এসেছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। জিগ্যেস করেছি আর কোনো বিল আসবে কি না? তারা বলেছিল আর ছয় দিনের বিল আসবে। ভেবেছি খুব বেশি হলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আসবে। কিন্তু দিয়েছে ৫২ হাজার টাকার বিল! কাপ্তাই হ্রদে বাবার সঙ্গে মাছ ধরে সংসার চালাই। এত টাকা কীভাবে দেব? আবার বকেয়ার জন্যও লাইন কেটে দেবে। কী করার আছে বুঝতে পারছি না।’

মো. রফিক বলেন, ‘আগে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা বিল আসত। সারা বছর বিল পরিশোধ করেছি। মিটার পাল্টানোর পরে ১১৭৭ টাকা বিল দিয়েছে। এরপর আবার ২৩ হাজার ৮০৫ টাকার বিল দিয়েছে!’ আব্দুল গফুর বলেন, ‘ডিজিটাল মিটারে আসত ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। কিন্তু প্রিপেইড মিটার দিয়ে বিল দিয়েছে ১০ হাজার ৩০৪ টাকা। মিটার খুলে নেওয়ার সময় আমাদের রিডিংও দেখায়নি, কিছু বলেওনি। এখন এই বিল দিয়ে হয়রানি করছে।’

গ্রাহকদের এই ভোগান্তির সুরাহা ও দায় নিয়ে কথা বলেছেন রাঙামাটি বিউবোর বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জালাল উদ্দীন। তিনি বলেন, লোকবল সংকটে নিয়মিত মিটার রিডিং নিতে না পাড়ায় পুরনো মিটারে এই পরিমাণ বিল জমেছে। গ্রাহকদের মিটার পরিবর্তনের সময় যে পরিমাণ রিডিং ছিল তা নেওয়া হয়নি আগে। রাজস্ব মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। তবে গ্রাহকরা চাইলে পরবর্তী কয়েক মাসের কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।’

সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:১২ পিএম
সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমিন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তান (৫০) ও ছেলে ফরহাদ শাহ (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নুরুল আমিনের বাড়িতে একটি মুদি দোকান রয়েছে। সেই দোকানঘর দুপুরে মেরামত করছিলেন তিনি ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ। এসময় দোকান ঘরের টিনে বিদ্যুৎ লাইনের তার জড়িয়ে যায়। এতে নুরুল আমিন ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এসময় স্থানীয়দের চিৎকার শুনে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দোকানঘর মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস/এএফ

নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁয় মানত পূরণ করতে গিয়ে সাঁতরে নদী পার হওয়ার সময় পানিতে ডুবে শাহিদা বানু (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুরে শহরের ছোট যমুনা নদীর বিহারী কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর টানা কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহত শাহিদা বানু সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী। 

নিহতরে পরিবার এবং থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিদা বানু মাথাব্যথা ভালো হওয়ার জন্য নদীর পূর্বপাশে অবস্থিত জিন্দা পিরের মাজারে যান। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন ছোট যমুনা নদী দুইবার সাঁতরে পার হলে তার মাথা ব্যথা ভালো হয়ে যাবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোমবার দুপুর একটার দিকে মাজারে মানত শেষে তিনি একাই নদীর পূর্ব পাড় থেকে সাঁতার কেটে পশ্চিম পাড়ে আসছিলেন। এ সময় নদীর মাঝামাঝি স্থানে পৌঁছালে তিনি পানিতে ডুবে যান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার করতে গেলে তাকে আর পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে তাকে মৃত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করে। 

নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। 

হারুন/নাঈম

সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে তৈরি হয় আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার ৬ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম (৬৫) ওই এলাকায় স্বামীর বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির নিজের বাড়িতে থাকতেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।

বৃদ্ধা রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাঁশনিয়োগী গ্রামে। তিনি বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা পান। পরে পারিবারিকভাবে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই ৫৬ শতাংশ জমি ভাইদের নামে লিখে দেন। পরবর্তীতে সেই ৮ লাখ টাকা দিয়ে নিজের নামে জমি কেনেন।

কিন্তু ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গে আলোচনা না করে জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম টাকায় ভাইদের কাছে জমি লিখে দেওয়ায় মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। পরবর্তীতে মায়ের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন ছেলে। বিষয়টি নিয়ে রাশেদা বেগম এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন।

এ নিয়ে একপর্যায়ে গেন্দারপাড়া গ্রামের বাড়িতে তালা দিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান রাশেদুল। পরে রাশেদা বেগম গেন্দারপাড়ার স্বামীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা গেটের তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

রবিবার সকাল থেকে আবারও সালিশ শুরু হলে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন রাশেদুল ইসলাম জাকির। এতে রাশেদা বেগম রাজি না হওয়ায় কৌশলে মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে। পরে রাশেদা বেগমের ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় বৃদ্ধা রাশেদা বেগম হাতে কোরআান শরীফ নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাইয়েরা ও অন্যান্য স্বজন তাকে ইজিবাইকে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ভাবে হয়রানী ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলো। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার কারণে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ীতে যেতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। রবিবার দুপুরে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি আমার ভাইদের জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোজ নিব।

রিফাত/

পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং
ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে রাঙামাটির বিভিন্নস্থানে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে শহরের শিমুলতলী এলাকাসহ কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

রাঙামাটি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসলাম সারোয়ার খবরের কাগজকে জানান, টানা বর্ষণ শুরু হলেই আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য প্রচার করি এবং তারা যেন বর্ষণ শুরু হলে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে অবস্থান না করে।

তিনি জানান, আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১১টিসহ জেলায় ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পৌর এলাকার ২৮টি স্থানকে পাহাড়ধস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পাহাড়ধসের আশঙ্কার মধ্যেও জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি, লোকনাথ মন্দির এলাকা ছাড়াও আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণস্থানে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে।

এএফ/

নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ পিএম
নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে
শ্রী শিমুল কর্মকার। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে শ্রী শিমুল কর্মকার নামে এক হিন্দু যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে আদালতে চালান দিলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ সোমবার দুপুরে নাটোর শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

শ্রী শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পোস্ট অফিস এলাকায় বাসিন্দা। বর্তমানে শিমুল ঢাকায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম জানান, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পোস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ওই হিন্দু যুবকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কাবাবিরোধী পোস্ট করার অভিযোগ ওঠে। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ওই পোস্টের প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে গুরুদাসপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। ওই যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেওয়া হয়।

তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অভিযুক্তের তালাবদ্ধ বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তিনি আরও জানান, রবিবার রাতে মাওলানা জামিল আহম্মাদ বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কামাল/রিফাত/