প্রেমিকের কথায় নিজের ২২ দিনের শিশুকে রাতের আধারে পানিতে ফেলে হত্যা করে থানায় গিয়ে শিশু চুরির মামলা করেন মা মিতা খাতুন। ঘটনার চারদিন পর পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে আসল ঘটনা। নিজের শিশু জান্নাতীকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয় মা মিতা খাতুন (২৫), তার কথিত প্রেমিক ও চাচাতো ভাই শেরেবুল ইসলাম (২৮), মিতার চাচা সাইদুল ইসলাম এবং ভাবী চাঁদনী খাতুনকে।
আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহের চিথলিয়া গ্রামে। গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যমতে ২৯ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহের চিথলিয়া গ্রামের অভিযুক্তদের বাড়ির পাশের জিকে খাল থেকে শিশুটির মহদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ মাসে আগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহের চিথলিয়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে মিতা খাতুনের সঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা খলিশাকুণ্ডি এলাকার ইদ্রিন আলীর ছেলে রাজু আহাম্মেদেরর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছুদিন পরেই রাজু বুঝতে পারেন তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা। এনিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় মিতা। এই সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিয়ে মিতা এবং তার স্বামীর মধ্যে কলহ চরম আকার ধারন করে। যার প্রেক্ষিতে স্বামীর সঙ্গে রাগারাগি করে সন্তান নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন মিতা।
বাবার বাড়িতে আসার পর মিতা তার আগের প্রেমিক ও চাচাতো ভাই শেরেবুলের সঙ্গে পরিকল্পনা করে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ মে রাতে সেরেবুল ও মিতা তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী জিকে খালে শিশুটিকে ফেলে দেয়। এই কাজে সহযোগিতা করেন মিতার চাচা সাইদুল ইসলাম এবং ভাবী চাঁদনী খাতুন। পরে তারা অপপ্রচার করতে থাকেন খলিসাকুন্ডি থেকে মিতার স্বামী রাজু বাচ্চাটি চুরি করে নিয়ে গেছে।
এই ঘটনার পরের দিন মিতা খাতুন বাদী হয়ে শিশু চুরির অভিযোগে মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে মিরপুর থানা পুলিশ।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির নিখোঁজের মামলা হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে তদন্ত শুরু করেন । এক পর্যায়ে মিতা খাতুনকে জিজ্ঞাসাদ করলে মিথ্যা ও এলোমেলো কথাবার্তা বলতে থাকেন । এরপর তার প্রতি পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে আরও কিছু তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে ২৯ তারিখ সকালে মিতাকে থানা হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার মেয়ে জান্নাতিকে পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন।’
পরে দুপুরে পুলিশ মিতাকে সঙ্গে নিয়ে তার প্রেমিক শেরেবুল, চাচা সাইদুল ইসলাম এবং ভাবী চাঁদনীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেখানো মতে ওই এলাকার জিকে খাল থেকে শিশু জান্নাতীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি মমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘শিশুটির মা মিতা খাতুনের স্বীকারোক্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করে তাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জিকে খাল থেকে শিশু জান্নাতীর মরদেহ উদ্ধার করি। আসামিদের শুক্রবার সকালে আদালতে নেওয়া হবে।’
মিলন উল্লাহ/সুমন/