জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েলে তৈরি হয় আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদার ৬ বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় স্ত্রী রাশেদা বেগম (৬৫) ওই এলাকায় স্বামীর বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির নিজের বাড়িতে থাকতেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন।
বৃদ্ধা রাশেদা বেগমের বাবার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের বাঁশনিয়োগী গ্রামে। তিনি বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশ সূত্রে ৫৬ শতাংশ জমির মালিকানা পান। পরে পারিবারিকভাবে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই ৫৬ শতাংশ জমি ভাইদের নামে লিখে দেন। পরবর্তীতে সেই ৮ লাখ টাকা দিয়ে নিজের নামে জমি কেনেন।
কিন্তু ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের সঙ্গে আলোচনা না করে জমির প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম টাকায় ভাইদের কাছে জমি লিখে দেওয়ায় মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। পরবর্তীতে মায়ের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতেন ছেলে। বিষয়টি নিয়ে রাশেদা বেগম এর আগেও সরিষাবাড়ী থানায় অভিযোগ করেছিলেন।
এ নিয়ে একপর্যায়ে গেন্দারপাড়া গ্রামের বাড়িতে তালা দিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান রাশেদুল। পরে রাশেদা বেগম গেন্দারপাড়ার স্বামীর বাড়িতে এলে স্থানীয়রা গেটের তালা ভেঙে তাকে ঘরে প্রবেশ করতে সহায়তা করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
রবিবার সকাল থেকে আবারও সালিশ শুরু হলে জমি লিখে দেওয়ার জন্য মায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন রাশেদুল ইসলাম জাকির। এতে রাশেদা বেগম রাজি না হওয়ায় কৌশলে মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে। পরে রাশেদা বেগমের ভাইয়েরা এসে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় বৃদ্ধা রাশেদা বেগম হাতে কোরআান শরীফ নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তার ভাইয়েরা ও অন্যান্য স্বজন তাকে ইজিবাইকে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানা ভাবে হয়রানী ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছিলো। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার কারণে আমাকে আমার স্বামীর বাড়ীতে যেতে দেয় না। আমি গেলে আত্মহত্যা করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিবে বলেও হুমকি দেয়। রবিবার দুপুরে আমাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। পরে বিষয়টি আমার ভাইদের জানালে তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকিরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সরিষাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি খোজ নিব।
রিফাত/