চট্টগ্রামের পেট্রোল পাম্পে কাগজে লিখে দেওয়া হয়েছে অকটেন নেই। ডিজেল নিতেও দীর্ঘ লাইন। নগরের প্রবর্তক মোড়ে পেট্রোল পাম্পের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়।
গত শক্রবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও দাম বৃদ্ধির শঙ্কায় চট্টগ্রাম নগরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বেড়েছে গ্রাহকদের ভিড়। আজ শনিবারও দেখা যায় একই সংকট। সাধারণ মানুষ গাড়ির পুরো ট্যাংক ভর্তি করে নিতে চাইলেও পাম্প কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে তেল দিচ্ছে না।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরের ওয়াসা এলাকায় এস এইচ খান এণ্ড সন্স নামক ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি ভিড় জমিয়েছেন। তারা পুরো ট্যাংক ভর্তি করে নিতে চাইলেও ফিলিং স্টেশনটির কর্তৃপক্ষ একটি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার বেশি অকটেন বিক্রি করেননি। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই পাম্পটিতে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পূর্বনাসিরাবাদ সেনা কল্যাণ পাম্পেও দেখা যায় একই চিত্র। অকটেন দেওয়ার মেশিনে লিখে দেওয়া হয়েছে, অকটেন নেই।
বিকাল ৫টার দিকে নগরের গনি বেকারি এলাকায় কিউ সি ট্রেডিং লিমিটেড নামক ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। তেল সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের লালখান বাজার, টাইগারপাস ও বারিক বিল্ডিং এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই তেল নিতে এসে অনেকে ফিরে গেছেন।
নগরের ওয়াসা এলাকায় এস এইচ খান এণ্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে কথা হয় গ্রাহক রবিউল ইসলাম বলেন, আমি বেশ কয়েকটি পাম্প ঘুরে এখানে এসেছি। নগরের অধিকাংশ পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দুয়েকটি সচল থাকলেও মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা ও প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। এখানে অবশ্য ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে যদিও এটা পর্যাপ্ত না।
আরেক গ্রাহক আকবর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেউ প্রয়োজনে তেল নিতে আসছেন, আবার কেউ মজুত করে রাখার জন্য এসেছেন। এই স্বভাবের কারণে তেলের সংকট ও দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। এর জন্য মূলত গ্রাহকরাই দায়ী।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেয় তেহরান। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহন হয়। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দাম বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় যেকোনো পণ্য সংগ্রহ বা মজুত করার চর্চা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নেওয়াই ভালো। অন্যথায় বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়। এখন মনে হচ্ছে পাম্পের মালিকরা তেল মওজুদ করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাত্তার/মাহফুজ