রাউজানে সন্ধ্যা থেকেই আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অবস্থান নেয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্যরা। পরে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে ডাকাতির ঘটনা ঘটায় রাউজানের একটি বাড়িতে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের দেওয়ানপুর এলাকায় ১৪-১৫ জনের ডাকাত দল প্রবাসী বাবুল হোসেনের বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়।
প্রস্তুতি কালে তাদের একজন সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে একটি ফাঁকা স্থান দিয়ে প্রথমে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। পরে ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে বাকিরা সদস্যরা ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা ঘটনার দিন সকালে কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে করে চট্টগ্রামে আসে।
সন্ধ্যার দিকে আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয় এবং রাত গভীর হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতি করে।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে একাধিক টিম গঠন করে অভিযান চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে পাহাড়তলী ও বাগোয়ান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ১টি লকেটসহ চেইন, ১ জোড়া কানের দুল, ১৩টি হাতের চুড়ি, ৩টি ব্রেসলেট, ১টি হাতঘড়ি, নগদ ৪ হাজার ৯৮৪ টাকা, ১টি রেডমি মোবাইল ফোন এবং একটি স্ক্রু ড্রাইভার, প্লাস ও রেঞ্চসহ ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা ফজর আলী ওরফে বাটন ওরফে ডিপজল ডাকাত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ডাকাতরা ঘটনার দিন সকালে কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে করে চট্টগ্রামে আসে। সন্ধ্যার দিকে আলাদা আলাদা হয়ে পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থান নেয় এবং রাত গভীর হলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাতি করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রটির ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কবির হোসেন ওরফে জীবন ওরফে আমির (৪৬), আশিক (৪২), বুদু মিয়া (২২), আলী আহম্মদ ওরফে মনু মিয়া (২৩), আবুল হোসেন (৩২), আবুল কালাম (২২), মো. মিটু (২৮), মনোয়ারুজ্জামান ইমন ওরফে শাকিল (২৭) এবং মো. মামুন মিয়া (৩০)।
গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, একটি পেশাদার ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটির মূলহোতা ফজর আলী ওরফে বাটন ওরফে ডিপজল ডাকাত বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। এঘটনায় রাউজান থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় একটি মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠােনা হয়।
এম,দিদারুল আলম/এসএন