আমদানি বাড়লেও প্রভাব পড়েনি পেঁয়াজের বাজারে। ভারতে পেঁয়াজের দাম কমা ও ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর পর দেশে প্রায় ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে। বর্তমানে আমদানিকারকদের ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে খরচ পড়ছে ৭৫ টাকা। খাতুনগঞ্জে এসব পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। আর খুচরায় ভারতীয় পেঁয়াজ মিলছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।
এদিকে চীন, তুরস্ক, মিসর, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান থেকে গত আড়াই মাসে ৬ হাজার ১১২ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে। তবে খাতুনগঞ্জে এসব পেঁয়াজ নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তারা।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে ১০৫ টাকা কেজি দরে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ভারত সরকার ২০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়। আর এ খবরে পেঁয়াজের কেজিতে ১০ টাকা কমিয়ে দেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন নির্ধারিত শুল্ক হারে ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারিতে ৯০ থেকে ৯৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস দাবি করছেন, বাজারে এখন দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ রয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহও ভালো। তবে পাকিস্তানি, মিসর ও চায়না পেঁয়াজ নেই। সরবরাহ বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে। আগে পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার ওপরে ছিল। কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কমেছে।
তবে এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। খুচরায় প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে একই দরে। খুচরা ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরেই এ দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছেন।
নগরের হালিশহর এলাকার আল মোক্কা স্টোরের মো. শাহেদ খবরের কাগজকে বলেন, পাইকারি বাজার থেকে দরদাম করে ৯০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনে এনেছি। এগুলো আনতে গাড়ি ভাড়া, মজুরি খরচ দিতে হয়। তাই ১১০ টাকায় বিক্রি না করলে লোকসান হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে ৬ হাজার ১১২ টন পেঁয়াজ
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে ৬৭০ টন, আগস্ট মাসে ৪ হাজার ৫০৯ টন ও সেপ্টেম্বর মাসের ১ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত ৯৩৩ টন পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এর মধ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসে চায়না থেকে ৬৬৫ টন, পাকিস্তান থেকে ৩ হাজার ৪৯৮ টন, মিসর থেকে ১ হাজার ১১ টন ও থাইল্যান্ড থেকে আসা ৫ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। অন্যদিকে চলতি মাসের ১ থেকে ১৮ তারিখ পর্যন্ত থাইল্যান্ড চায়না থেকে কোনো পেঁয়াজ আসেনি। তবে পাকিস্তান থেকে আসা ৭৮৮ টন ও মিসর থেকে আসা ১৫৪ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে।
উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ লাখ ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বেশি আসছে পাকিস্তান ও মিসর থেকে। সব মিলিয়ে গত আড়াই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬ হাজার ১১২ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে আসবে।
তিন দিনে ভারত থেকে এসেছে ১৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ
গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শতাংশ শুল্কে ভারত থেকে দেশে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এসব পেঁয়াজ ভারত থেকে ৩৫ রুপিতে কিনেছিলেন দেশের আমদানিকারকরা। ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে আমদানিকারকদের কেনা পড়ে ৭৫ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মো. মোবারক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত থেকে ২০ শতাংশ শুল্কে পেঁয়াজ আসা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আমদানি বাড়ায় আমাদের এখানে দামও কমতে শুরু করেছে।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, আমদানি বাড়লেও কেন পেঁয়াজের দামে প্রভাব পড়ছে না সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। ভারতে পেঁয়াজের দাম কমেছে, শুল্ক কমিয়েছে দেশটি। সরবরাহ বেড়েছে। এরপরও কেন শত টাকার ওপরে সাধারণ মানুষকে পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে। আমদানি থেকে খুচরা সব পর্যায়ে সমানভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।