ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
স্পেন-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে স্পেনের একাদশে ২ পরিবর্তন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে জাকিয়া খান চন্দনার পরাবাস্তববাদী চিত্রপ্রদর্শনী নজরুল বর্ষের উদ্বোধনী আয়োজনে দর্শক সংকট বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত কালকিনিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৫ ড্রেজার জব্দ ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৮ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা জাবিতে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, চার শিক্ষার্থীকে শোকজ নৌবহরে যুক্ত হলো জাপানের পাঁচটি পেট্রোল বোট সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে গোসলে নেমে নিখোঁজ চিকিৎসক টঙ্গীতে চাঁদা দাবি করায় যুবদল নেতাসহ ১৯ জনের নামে মামলা, গ্রেপ্তার ১১ ঈশ্বরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার সিরিয়ায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫, আহত অন্তত ১৬ জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী অবশেষে ইরানকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে বাধ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আটকে থাকা অর্থে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে ইরান এইচএসসির আগেই থেমে যাচ্ছে শিক্ষা সোনারগাঁয় ফুটপাত দখল করে পার্কিং করায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড মুক্তির আগেই বাজিমাত চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আদালতের রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন আত্মিক প্রশান্তি লাভের দারুণ উপায় ৫৪ বছরে প্রথমবার জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে সরকার-বিরোধী দল: চিফ হুইপ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশ যত দ্রুত চাইবে চীন সেভাবে কাজ করবে: রাষ্ট্রদূত ফরিদপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অন্তত ২০ দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ভার্চুয়াল শত্রুতার বলি আমার প্রিয় ঠিকানা হালদা নদীর সব মাছেই মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা বর্তমান কোচিং স্টাফ থাকলে দলে ফিরবেন না পেপে গুয়ে!

ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি অধ্যায়ের ২টি ব্যাকরণিক প্রশ্নোত্তর, এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৪, ০৭:৪১ পিএম
আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১০:০২ পিএম
ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি অধ্যায়ের ২টি ব্যাকরণিক প্রশ্নোত্তর, এইচএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র

ব্যাকরণিক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: বিশেষ্য পদ কাকে বলে? বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যে শব্দশ্রেণি দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু, স্থান, জাতি, সমষ্টি, কাল, ভাব, কর্ম বা গুণের নাম বোঝায় তাকে বিশেষ্য বলে। যেমন- মোবাইল, ছাতা, কলম, পাখা ইত্যাদি।
বিশেষ্য ছয় প্রকার। যেমন-
১। সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানের নাম বোঝায় তাকে সংজ্ঞা বা নামবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গ্রেনেড, ঢাকা, চশমা ইত্যাদি।
২। জাতিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- মানুষ, পাখি, ফল, পর্বত ইত্যাদি।
৩। বস্তুবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায়, তাকে বস্তুবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- তেল, চাল, চিনি, পাউডার ইত্যাদি।
৪। সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তাই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যেমন- সভা, মিছিল, জমায়েত, বহর ইত্যাদি।
৫। ভাববাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো ক্রিয়া বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- গমন, ভোজন, শয়ন ইত্যাদি।
৬। গুণবাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদ দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষ্য বলে। যেমন- তারল্য, তিক্ততা, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য ইত্যাদি।

প্রশ্ন: সর্বনাম কাকে বলে? প্রকারভেদ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যেসব শব্দ ব্যবহৃত হয় তাকে সর্বনাম বলে। যেমন- আমি বই পড়ি। সে নিয়মিত স্কুলে যায় ইত্যাদি।
সর্বনাম সাধারণত ১০ প্রকার। যেমন- 
১। ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম পদ কোনো ব্যক্তিকে বোঝায় তাকে ব্যক্তিবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- আমি, তুমি ইত্যাদি।
২। আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজে কাজটি করেছে- ভাবটি জোর দিয়ে প্রকাশ করার জন্য যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে আত্মবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- আমি নিজে কাজটি করেছি। 
৩। নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম পদ দ্বারা বক্তার কাছ থেকে কোনো কিছুর নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করা হয়, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- এ, এই, এরা ইত্যাদি।
৪। অনির্দিষ্ট সর্বনাম: যে সর্বনাম কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর পরিবর্তে বসে, তাকে অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম বলে। যেমন- কোনো, কেহ, কেউ ইত্যাদি।
৫। প্রশ্নবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দ্বারা কোনো কিছু জানার ইচ্ছা প্রকাশ পায়, তাকে প্রশ্নবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- কে, কী, কোন, কার, কীসের ইত্যাদি।
৬। সংযোগবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দ্বারা দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে সংযোগ বোঝায়, তাকে সংযোগবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- যে, যিনি, যারা ইত্যাদি।
৭। সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল যে যুগল সর্বনাম দুটি বাক্যাংশের সংযোগ ঘটায় তাকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যত চাও তত লও। যেমন কর্ম তেমন ফল। সংক্ষেপে- যে...সে, যা...তা, যিনি...তিনি, যার...তার, যেমন...তেমন ইত্যাদি।
৮। ব্যতিহার সর্বনাম: যে সর্বনাম দুপক্ষের সহযোগ বা পারস্পরিক নির্ভরতা বোঝায় তাকে ব্যতিহার সর্বনাম বলে। যেমন- আমরা নিজেরা কাজটি করেছি।
৯। সাকল্যবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম দ্বারা ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝায় তাকে সাকল্যবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- সকল, সব, সমুদয়, সমূহ ইত্যাদি।
১০। অন্যবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয় তাকে অন্যবাচক সর্বনাম বলে। যেমন- অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

প্রশ্ন-৪: যোজক কাকে বলে? উদাহরণসহ প্রকারভেদ আলোচনা করো।
উত্তর: যেসব শব্দ একটি বাক্যাংশের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যাংশ অথবা বাক্যস্থিত একটি শব্দের সঙ্গে অন্য একটি শব্দের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায় তাকে যোজক বলে। জলিল ও সেলিম আবির খেলা করছে। এখানে যোজক হলো ‘ও’ । নতুবা, অথবা, সুতরাং, বা, আর, অতএব, কিংবা, যেহেতু, তথাপি, বরং, কারণ, তবে, তাই, যদিও, তবুও ইত্যাদি যোজক।
যোজক পাঁচ প্রকার। যেমন-
১। সাধারণ যোজক: যে যোজক দ্বারা একাধিক শব্দ, বাক্য বা বাক্যাংশকে সংযুক্ত করা যায় তাকে সাধারণ যোজক বলে। যেমন- রুমি ও তার বন্ধু কাজটি করেছে। রিটা আর মঈন কলকাতায় যাবে ইত্যাদি।
২। বৈকল্পিক যোজক: যে যোজক দ্বারা একাধিক শব্দ, বাক্য বা বাক্যাংশের মধ্যে বিকল্প বোঝায় তাকে বৈকল্পিক যোজক বলে। যেমন- মিতা বা তার বন্ধু যে কেউ এলেই চলবে। শফিক বা তার রুমে যেকোনো একজন হলেই চলবে ইত্যাদি।
৩। বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টি দ্বারা প্রথমটির বিরোধ নির্দেশ করে। যেমন- তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। টাকা ধার দিলাম অথচ এখনো ফেরত পেলাম না ইত্যাদি।
৪। কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন- তিনি আসেননি, কারণ তিনি খুব অসুস্থ। রকিব ফেল করেছে, কারণ সে পড়েনি ইত্যাদি।
৫। সাপেক্ষ যোজক: পরস্পর নির্ভরশীল যে যোজকগুলো একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয় তাদের সাপেক্ষ যোজক বলে। যেমন- যদি পরিশ্রম কর তবে ভালো ফল পাবে। যেমন কর্ম তেমন ফল ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৫: আবেগ শব্দ কাকে বলে? উদাহরণসহ প্রকারভেদ আলোচনা করো।

উত্তর: যেসব শব্দ মনের বিশেষ ভাব বা আবেগ প্রকাশে সাহায্য করে তাকে আবেগ শব্দ বলে। যেমন- বাহ! সে আজ ভালো খেলেছে। আহ! কী সুন্দর দৃশ্য ইত্যাদি।
আবেগ শব্দ আট প্রকার। যেমন-
১। সিদ্ধান্তবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ অনুমোদন, সম্মতি, সমর্থন ইত্যাদি ভাবের দ্যোতনা সৃষ্টি করে। যেমন- বেশ! তাই হোক। না, আমি তোমার কোনো কথাই শুনব না ইত্যাদি।
২। প্রশংসাবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ দ্বারা প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশ পায়। শাবাশ! কাজের মতো একটা কাজ করেছ। বাহ! খুবই চমৎকার একটি ছবি এঁকেছ তো ইত্যাদি। 
৩। বিরক্তিসূচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ অবজ্ঞা, ঘৃণা, বিরক্তি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন- কী আপদ! লোকটা যে পিছু ছাড়ছে না ইত্যাদি।
৪। ভয় ও যন্ত্রণাবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ যন্ত্রণা, আতঙ্ক, কাতরতা ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশ করে। যেমন- নাহ! এ কষ্ট অসহ্য। আহ! কী বিপদ ইত্যাদি।
৫। বিস্ময়বাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ দ্বারা বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার ভাব প্রকাশ পায়। যেমন- আরে, তুমি আবার কখন এলে! খবর কী? এখনই চলে যাবে! ইত্যাদি।
৬। করুণাবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ দ্বারা করুণা বা সহানুভূতির মনোভাব প্রকাশ পায়। যেমন- আহা! বেচারার কেউ নেই। হায়! হায়! ওদের এখন কে দেখবে ইত্যাদি।
৭। সম্বোধনবাচক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ আহ্বান বা সম্বোধন করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ওগো, আমার কথা তুমি শুনতে পাচ্ছ? হে বন্ধু! তোমাকে অভিনন্দন ইত্যাদি।
৮। আলংকারিক আবেগ শব্দ: এ ধরনের আবেগ শব্দ বাক্যের অর্থের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ধুর পাগল! ওর কথায় কান দিস না। যাক সে যাক, ওসব কথা ভেবে লাভ নেই ইত্যাদি।

বিভিন্ন বোর্ডের প্রশ্নাবলি:

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। চলো কোথাও একটু ঘুরে আসি।
উত্তর: সর্বনাম।
খ। ট্রেনটা এখনই এসে পড়বে। 
উত্তর: ক্রিয়া।
গ। নদীর বুকে চর জেগেছে। 
উত্তর: বিশেষ্য।
ঘ। এত চিনি দিলাম তবু মিষ্টি হলো না। 
উত্তর: যোজক।
ঙ। বিপদ কখনো একা আসে না। 
উত্তর: বিশেষ্য।
চ। বাংলাদেশের প্রকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়। 
উত্তর: বিশেষণ।
ছ। আমাদের যাত্রা সমুদ্র অভিমুখে। 
উত্তর: অনুসর্গ।
জ। হে বন্ধু, বিদায়। 
উত্তর: আবেগ শব্দ

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? 
উত্তর: অনুসর্গ।
খ। সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয় না। 
উত্তর: বিশেষণ।
গ। মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা। 
উত্তর: সর্বনাম।
ঘ। রবীন্দ্রনাথ তো আর দুজন হয় না। 
উত্তর: বিশেষ্য।
ঙ। বুঝিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য। 
উত্তর: ক্রিয়া।
চ। বাহ! আমাদের মেয়েরা দারুণ খেলেছে। 
উত্তর: আবেগ শব্দ।
ছ। আমাদের সমাজ আর ওদের সমাজ এক রকম নয়। 
উত্তর: যোজক।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসবের দিন। 
উত্তর: বিশেষ্য।
খ। মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা। 
উত্তর: সর্বনাম।
গ। আজ নয় কাল সে আসবেই। 
উত্তর: যোজক।
ঘ। তার মায়ের হাতের পিঠা যেন অমৃত। 
উত্তর: বিশেষণ।
ঙ। হঠাৎ সে দেখতে পেল চলন্ত বাস থেকে যাত্রীরা লাফিয়ে নামছে। 
উত্তর: ক্রিয়া বিশেষণ।
চ। বাহ! চমৎকার একটা গল্প লিখেছ। 
উত্তর: আবেগ শব্দ।
ছ। শুভ্র সমুজ্জ্বল এ তাজমহল। 
উত্তর: বিশেষ্য।
জ। সে আমার মনে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। 
উত্তর: ক্রিয়া।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। 
উত্তর: বিশেষণ।
খ। সাদা কাপড় পরলেই মন সাদা হয় না। 
উত্তর: বিশেষ্য।
গ। কারণ ছাড়া কার্য হয় না। 
উত্তর: অনুসর্গ।
ঘ। রবীন্দ্রনাথ তো আর দুজন হয় না। 
উত্তর: বিশেষ্য।
ঙ। বুঝিয়াছিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য। 
উত্তর: ক্রিয়া।
চ। বাহবা! আমাদের দল খেলায় জিতেছে। 
উত্তর: আবেগ শব্দ।
ছ। আমাদের সমাজ আর ওদের সমাজ এক নয়। 
উত্তর: যোজক।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। তুমি যে আমার কবিতা। 
উত্তর: সর্বনাম।
খ। আমাদের ছোট গায়ে ছোট ছোট ঘর। 
উত্তর: বিশেষণ।
গ। করিম ও রহিম দুই ভাই। 
উত্তর: যোজক।
ঘ। ভালো আমটি খাও। 
উত্তর: বিশেষণ।
ঙ। বাহ! চমৎকার একটি গল্প লিখেছ। 
উত্তর: আবেগ শব্দ।
চ। যথা ধর্ম তথা জয়। 
উত্তর: যোজক।
ছ। শুভ্র সমুজ্জ্বল এ তাজমহল। 
উত্তর: বিশেষ্য।


নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। এগিয়ে চলেছে প্রতিবাদী মিছিল। 
উত্তর: বিশেষ্য।
খ। পড়ন্ত বিকেলে হাঁটতে ভালো লাগে। 
উত্তর: বিশেষণ।
গ। অনেকেই ভাতের বদলে রুটি খায়। 
উত্তর: অনুসর্গ।
ঘ। আজ নয় কাল সে আসবেই। 
উত্তর: যোজক।
ঙ। শাবাশ! দারুণ খেলেছে আমাদের ছেলেরা। 
উত্তর: আবেগ শব্দ।
চ। চলো কোথাও বেড়াতে যাই। 
উত্তর: সর্বনাম।
ছ। অধিক ভোজন অনুচিত। 
উত্তর: বিশেষ্য।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
ক। প্রগাঢ় নিকুঞ্জ। 
উত্তর: বিশেষণ।
খ। সিক্ত নীলাম্বরী। 
উত্তর: বিশেষ্য
গ। পুলকিত সচ্ছলতা । 
উত্তর: বিশেষণ।
ঘ। তিনটি ফুল আর অনেক পাতা । 
উত্তর: বিশেষণ।
ঙ। নীল, হলুদ, বেগুনি অথবা সাদা । 
উত্তর: যোজক।
চ। তুমি আমার পূর্ব বাংলা । 
উত্তর: সর্বনাম।
ছ। নিপুণ দক্ষতায় কাজটি শেষ হলো । 
উত্তর: বিশেষণ।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
একটু মিটমিট করিয়া ক্ষুদ্র আলো জ্বলিতেছে-দেয়ালের ওপর চঞ্চল ছায় প্রেতবৎ নাচিতেছে। আহার প্রস্তুত হয় নাই- এজন্য হুকা হাতে, নিমীলিতলোচনে আমি ভাবিতেছিলাম যে, আমি যদি নেপোলিয়ন হইতাম, তবে ওয়াটারলু জিতিতে পারিতাম কিনা।
উত্তর: মিটমিট- ক্রিয়া বিশেষণ, ক্ষুদ্র- বিশেষণ, নাচিতেছে-ক্রিয়া, হুকা-বিশেষ্য, তবে-যোজক।

নিম্নলিখিত যেকোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শ্রেণি নির্দেশ করো-
সে ছিল চমৎকার সুন্দরী তরুণী। নিয়তির ভুলেই যেন এক কেরানির পরিবারে তার জন্ম হয়েছে। তার ছিল না কোনো আনন্দ, কোনো আশা। পরিচিত হওয়ার, প্রশংসা পাওয়ার, প্রেমলাভ করার এবং কোনো ধনী অথবা বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে বিবাহিত হওয়ার কোনো উপায় তার ছিল না। তাই শিক্ষা পরিষদ আপিসের সামান্য এক কেরানির সঙ্গে বিবাহ সে স্বীকার করে নিয়েছিল।
উত্তর: সুন্দরী-বিশেষণ, পরিবারে-বিশেষ্য, তার-সর্বনাম, অথবা-যোজক, সামান্য-বিশেষণ।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত করো-
অপরের জন্য তুমি প্রাণ দাও-আমি বলতে চাই না। অপরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুঃখ তুমি দূর করো। অপরকে একটুখানি সুখ দাও। অপরের সঙ্গে একটুখানি মিষ্টি কথা বল। পথের অসহায় মানুষটির দিকে একটা করুণ কটাক্ষ নিক্ষেপ করো-তাহলেই অনেক হবে।
উত্তর: ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র, মিষ্টি, একটুখানি, অসহায়, করুণ।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত করো-
এখন প্রচণ্ড শীত। কফিল ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে উঠানে বসে সকালের মিষ্টি রোদে গা গরম করছিল। রান্নাঘর থেকে মা তাকে ডাক দেয় ভাপা পিঠা খেতে। তার মায়ের হাতের পিঠা যেন অমৃত। লোভাতুর জিহ্বার পরিতৃপ্তি সাধনে সে নগ্নপায়ে রান্নাঘরে দৌড় দেয়।
উত্তর: প্রচণ্ড, মিষ্টি, ভাপা, অমৃত, নগ্ন।


নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত কর:
আজ সাদা মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে। হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলো। সাবিত ভাঙা ছাতা দিয়ে বৃষ্টি ঠেকানোর বৃথা চেষ্টা করছিল। তার বেখেয়ালি মন হালকা বৃষ্টি আর মৃদু হাওয়ায় অস্থির হয়ে উঠল।
উত্তর: সাদা, ভাঙা, বৃথা, বেখেয়ালি, হালকা।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত করো-
নীল আকাশ। রোদেলা দুপুর। পাখিটি পাখনা মেলে দিগন্তের পথে পাড়ি জমাচ্ছে। দখিনা বাতাসে টকটকে লাল পলাশ ফুল দুলছে। তাই দেখে সাদা মেঘের দলও বলাকার মতো উড়ছে; যাব দূরে বহুদূরে।
উত্তর: নীল, রোদেলা, দখিনা, সাদা, লাল।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি ক্রিয়া বিশেষণ চিহ্নিত করো-
বাবা সকালে দ্রুত বেরিয়ে গেছেন। তখন টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। ঘরে বসে একমনে টিভি দেখছিল ছোট বোন। এ সময় কেউ টিভিতে গুনগুনিয়ে গান করছিল। হঠাৎ বাবা এসে বললেন, তার চশমাটা চট করে খুঁজে দিতে।
উত্তর: দ্রুত, টিপটিপ, একমনে, গুনগুনিয়ে, চট করে।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত করো-
সকালে মা তার ঘুমন্ত শিশুকে জাগিয়ে গরম দুধ খাওয়ালেন। এরপর আড়াই বছরের অবুঝ শিশুটিকে নিয়ে বাগানে লাল লাল ফুল দেখালেন। সদ্যোজাত ফুলগুলো ছিল চমৎকার। ঝকঝকে রোদে পরিবেশও ছিল সুখকর।
উত্তর: ঘুমন্ত, গরম, অবুঝ, লাল লাল, সদ্যোজাত।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি ক্রিয়াপদ চিহ্নিত করো-
এতদিন যে প্রতি সন্ধ্যায় আমি বিনুদাদার বাড়িতে গিয়া তাহাকে অস্থির করিয়া তুলিয়াছিলাম। বিনুদার বর্ণনার ভাষা অত্যন্ত সংকীর্ণ বলিয়াই তার প্রত্যেক কথাটি স্ফূলিঙ্গের মতো আমার মনের মাঝেখানে আগুন জ্বালিয়া দিয়াছিল। বুঝিয়াছিলাম মেয়েটির রূপ বড় আশ্চর্য; কিন্তু না দেখিলাম তাহাকে চোখে, না দেখিলাম তাহার ছবি, সমস্তই অস্পষ্ট হইয়া রহিল।
উত্তর: গিয়া, করিয়া, জ্বালিয়া, দেখিলাম, রহিল।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি সর্বনাম চিহ্নিত করো-
কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের পরিণাম অত্যন্ত করুণ। মস্তিষ্কের পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪২ সাল থেকেই তিনি ছিলেন জীবিত থেকেও মৃত। দীর্ঘকাল তিনি ছিলেন নির্বাক ও ভাবশূন্য। ১৯৭৬ সালে কবির জীবনপ্রদীপ নির্বাপিত হলে তার সমাধি রচিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ প্রাঙ্গণে। গানে তিনি এ আশা ব্যক্ত করেছিলেন, ‘মসজিদের পাশে আমায় কবর দিও ভাই।’ তার সে ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে।
উত্তর: তিনি, তার, এ, আমায়, সে।

নিচের অনুচ্ছেদ থেকে পাঁচটি বিশেষণ পদ চিহ্নিত করো-
আদি কবি বাল্মীকি একদিন কাক ডাকা ভোরে সবুজ ঘাসের ওপর আনমনে বসে-গাছের ডালে বসা চঞ্চল দুটি সাদা বক ও বকীর দিকে তাকাচ্ছিলেন। এমন সময় একজন শিকারি নিচ থেকে সোনালি রঙের তির নিক্ষেপ করলেন। একটি বকের দেহে তির বিদ্ধ হলো। বেখেয়ালি কবি বললেন দুটি শ্লোক। এভাবেই কবিতার জন্ম হলো।
উত্তর: সবুজ, চঞ্চল, সাদা, সোনালি, বেখেয়ালি।

মঈনউদ্দিন আহমেদ, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ/আবরার জাহিন

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। ছবি- সংগৃহীত

প্রবন্ধ রচনা 

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প

ভূমিকা: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং জাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে বাংলাদেশ পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন, কক্সবাজারের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পাহাড়পুরের প্রাচীন বৌদ্ধবিহার এবং সিলেটের চা বাগান পর্যটনের প্রধান সম্পদ। বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, অবকাঠামোগত সমস্যা, পরিবেশ দূষণ এবং প্রচারণার অভাব এই শিল্পের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশে বাধা। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগে পর্যটনশিল্পের প্রসার ঘটছে। তবে, টেকসই পর্যটন নীতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। 

পর্যটনশিল্পের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব: পর্যটনশিল্প বলতে ভ্রমণ, বিনোদন এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করার কার্যক্রম বোঝায়। বাংলাদেশে পর্যটনশিল্প অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আকর্ষণ করে। পর্যটনশিল্প সাংস্কৃতিক বিনিময়, জাতীয় পরিচয় প্রচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। তবে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপত্তার অভাব এবং বিপণনের ঘাটতি এই শিল্পের বিকাশে প্রধান বাধা। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারে। পর্যটনশিল্প জাতীয় অর্থনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পর্যটন সম্পদ: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটনশিল্পের প্রধান সম্পদ। সুন্দরবন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এবং বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত। সিলেটের চা বাগান, হাওর এবং জলপ্রপাত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর এবং নীল জল পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। রাঙামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং আদিবাসী সংস্কৃতি পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে, পরিবেশ দূষণ, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নির্মাণ এই প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য হুমকি। টেকসই পর্যটন নীতি এবং সচেতনতা এই সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উদ্যোগে সুন্দরবন ও কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো উন্নত হচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের মূল শক্তি।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন: বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার, মহাস্থানগড় এবং সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক স্থান এখনও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ষাট গম্বুজ মসজিদ, ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, যেমন–চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য পর্যটনকে সমৃদ্ধ করেছে। পহেলা বৈশাখ, দুর্গা পূজা এবং বৈসাবি উৎসব সাংস্কৃতিক পর্যটনের অংশ। তবে, ঐতিহাসিক স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সাংস্কৃতিক প্রচারণার ঘাটতি পর্যটনের সম্ভাবনাকে সীমিত করে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই স্থানগুলোর প্রচার ও সংরক্ষণ জরুরি। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্রগুলো বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরে।

আরো পড়ুন : মাদকাসক্তির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র

পর্যটনশিল্পে অর্থনৈতিক অবদান: বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রসারে ভূমিকা রাখে। কক্সবাজার ও সিলেটের পর্যটনশিল্প হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং পরিবহন ব্যবসাকে শক্তিশালী করেছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করে, যা জিডিপিতে অবদান রাখে। উদাহরণস্বরূপ, পোশাকশিল্পের পাশাপাশি পর্যটনশিল্প অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। তবে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং বিপণনের অভাব এই খাতের সম্ভাবনাময় বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ এই খাতকে শক্তিশালী করছে। টেকসই পর্যটন নীতি এই শিল্পের অর্থনৈতিক অবদান বাড়াতে পারে।

পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান: পর্যটনশিল্প বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড, পরিবহন এবং হস্তশিল্প শিল্পে হাজার হাজার মানুষ কাজ করে। কক্সবাজার ও সিলেটের পর্যটনশিল্প স্থানীয়দের জন্য আয়ের উৎস। উদাহরণস্বরূপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌকা চালক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। তবে, অদক্ষ শ্রমশক্তি এবং প্রশিক্ষণের অভাব কর্মসংস্থানের মান উন্নতিতে বাধা। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক। পর্যটনশিল্পে কর্মসংস্থান বাড়লে তা বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

ইকো-ট্যুরিজম ও টেকসই পর্যটন: ইকো-ট্যুরিজম বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের একটি সম্ভাবনাময় দিক। সুন্দরবন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং হাওর অঞ্চল ইকো-ট্যুরিজমের জন্য আদর্শ। এটি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নে সহায়তা করে। টেকসই পর্যটন পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পর্যটনের সুবিধা নিশ্চিত করে। তবে, অপরিকল্পিত পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ এবং বন উজাড় ইকো-ট্যুরিজমের জন্য হুমকি। সরকারের টেকসই পর্যটন নীতি এবং সচেতনতা প্রচার এই সমস্যা সমাধানে সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে সুন্দরবনে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কার্যক্রম চালু হয়েছে। ইকো-ট্যুরিজম বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ।

পর্যটনশিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন: পর্যটনশিল্পের বিকাশে অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে কক্সবাজার, সিলেট এবং রাঙামাটিতে হোটেল, রিসোর্ট এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পর্যটনকে সহজ করছে। তবে, গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা, বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহের অভাব পর্যটনের সম্ভাবনাকে সীমিত করে। বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। উদাহরণস্বরূপ, কক্সবাজারে নতুন নতুন রিসোর্ট এবং হোটেল নির্মাণ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যটনশিল্পের বৃদ্ধি নিশ্চিত করে।

(বাকি অংশ ২য় পর্বে প্রকাশ করা হবে)

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর

ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র
পৃথিবীর ভূমিরূপ। ছবি- সংগৃহীত

তৃতীয় অধ্যায় : ভূমিরূপ পরিবর্তন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

৩। গিরিজনি আলোড়নের সঙ্গে জড়িত মতবাদ হলো-
i. প্লেট সঞ্চালন    
ii. পরিচলন স্রোতে
iii. মহীভাবক আলোড়ন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

৪। মহাদেশীয় এবং মহাসাগরীয় প্লেটের গতির কারণ-
i. পরিচলন স্রোত    
ii. ভূমিকম্প
iii. ঘনত্বের তারতম্য
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

৫। জাপানে বছরে প্রায় কতটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়?
ক) ৬০০০টি    খ) ৬৫০০টি
গ) ৭০০০টি     ঘ) ৭৫০০টি

৬। কত সালের ভূমিকম্পে আসামের দিবং নদীর গতি পরিবর্তিত হয়?
ক) ১৮৯৯ সালের    খ) ১৯২০ সালের
গ) ১৯৫০ সালের     ঘ) ১৯৫২ সালের

৭। ভূমিকম্প মাপক যন্ত্রের নাম কী?
ক) সিসমোগ্রাফ    খ) ব্যারোমিটার
গ) ক্রোনোমিটার    ঘ) ল্যাকটোমিটার

আরো পড়ুন :  ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

৮। ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে নিচের কোন নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়?
ক) পদ্মা নদীর    খ) মেঘনা নদীর
গ) তিস্তা নদীর    ঘ) ব্রহ্মপুত্র নদীর

৯। ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপার জন্য ব্যবহার করা হয়-
i. মার্সেলি স্কেল 
ii. রিখটার স্কেল 
iii. ভার্নিয়ার স্কেল
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

১০। ভূমিকম্পের ফলে-
i. সমুদ্রতলের পরিবর্তন হয়    
ii. আগ্নেয় দ্বীপের সৃষ্টি হয়
iii. ভূপাত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

১১। প্রশান্ত মহাসাগরের বড় দ্বীপগুলো কীসের ফলে সৃষ্টি হয়েছে?
ক) অগ্ন্যুৎপাতের    খ) ভূমিকম্পের
গ) সমুদ্র স্রোতের    ঘ) জোয়ার-ভাটার

১২। বিচূর্ণীভবনের কারণে শীতপ্রধান দেশে কী পরিলক্ষিত হয়?
ক) স্তরমোচন    খ) খণ্ডীকরণ
গ) ট্যালাস         ঘ) ক্ষুদ্রকণা বিসরণ

১৩। লৌহ কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিচূর্ণীভূত হয়?
ক) অক্সিডেশান    খ) সলিউশান
গ) কার্বনেশান       ঘ) হাইড্রেশান

১৪। তাপমাত্রার তারতম্যে শিলার স্তর পেঁয়াজের খোসার মতো খুলে যায়, তাকে বলে-
ক) স্তরমোচন             খ) প্রস্তরখণ্ডের বিচ্ছিন্নতা
গ) ক্ষুদ্রকণা বিশরণ    ঘ) খণ্ডীকরণ

উত্তর: ৩. ক, ৪. ঘ, ৫. ঘ, ৬. গ, ৭. ক, ৮. ঘ, ৯. ক, ১০. ঘ, ১১. ক, ১২. গ, ১৩. ক, ১৪. ক।

লেখক : প্রভাষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

কবীর

এইচএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
এইচএসসি ও সমমানের প্রথম দিনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
ছবি: মাসুদ মিলন, খবরের কাগজ

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এ পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা হয়েছে বেলা ১টা পর্যন্ত।

রাজধানীর আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অভিভাবক। ছবি: মাসুদ মিলন

এখন দ্বিতীয় শিফটে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়েছে বেলা ২টা থেকে চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালীন অভিভাবকদের দেখা যায় পরীক্ষার্থীর জন্য অপেক্ষা করছে এই কাঠফাঁটা রোদে। 

প্রথম দিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শুধু কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম ৫৮ হাজার ৬৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছেন।

রাজধানীর আজিমপুর গভঃ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা সিসি ক্যামেরায় মনিটরিং করা হয়। ছবি: মাসুদ মিলন

এবার পরীক্ষার কেন্দ্রে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব পরীক্ষাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ও ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা। সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বডি–ওর্ন ক্যামেরা। 

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের লেকচার শুনছে ও নোট করছে। ছবি- সংগৃহীত

অষ্টম অধ্যায় : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: ইউএনডিপির কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: ইউএনডিপি তার কার্যক্রম পরিচালনায় যেখানে যে ধরনের প্রয়োজন সেখানে সে ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশের কৃষি শ্রমিকরা অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা নানাভাবে নির্যাতিত, বঞ্চিত ও শোষিত হচ্ছে। কাজেই ইউএনডিপি কৃষি কার্যক্রমের আওতায় কৃষকদের নিয়ে দল গঠন করে দল সমাজকর্ম পদ্ধতি ও সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের উন্নয়নের চেষ্টা করে থাকে। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রেও ইউএনডিপি সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। আবার ইউএনডিপির স্বাস্থ্য কার্যক্রমে ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

প্রশ্ন: ইউএনডিপির একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ইউএনডিপির অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো- নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারীর অংশীদারত্ব বাড়ানো। দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সংস্থাটির উদ্দেশ্য।

প্রশ্ন: ইউএনডিপি কেন গঠন করা হয়?

উত্তর: উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন হিসেবে ইউএনডিপি গঠন করা হয়। বিভিন্ন রাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, বিভিন্ন সংকট প্রতিরোধে সহায়তা করা এ সংগঠনটির উদ্দেশ্য। এ জন্য ইউএনডিপি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে একটি জাতিকে উন্নত করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করে।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

প্রশ্ন: দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলতে কী বোঝায়? 

উত্তর: কোনো দেশে কম উৎপাদনের ফলে আয় কম  হয়। আয় কম হলে সঞ্চয় কম হয়, সঞ্চয় কম হওয়ায় বিনিয়োগ কম হয়। ফলে মূলধন কম যায়, যার ফলে উৎপাদনে প্রভাব পড়ে। উৎপাদন, আয়, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও মূলধনের এই চক্রাকার প্রবাহকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বলে। সাধারণত অনুন্নত দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি বেশি দেখা যায়।

প্রশ্ন: সংক্ষেপে ইউএনডিপির পরিচিতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: UNDP-এর পূর্ণরূপ হচ্ছে United Nations Development Programme। এটি জাতিসংঘের সর্ববৃহৎ উন্নয়নমূলক সংস্থা। স্বল্পোন্নত দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতিসংঘের মাধ্যমে সাহায্য  করার লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালের ১ নভেম্বর এ সংস্থাটি গঠিত হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর সদর দপ্তর আমেরিকার নিউইয়র্কে অবস্থিত। মোট ৪৮ জন সদস্য নিয়ে এর পরিচালনা পর্ষদ গঠিত।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ইউএনডিপির ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: বাংলাদেশ বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ দেশের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মূলে রয়েছে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য শুধু সমস্যাই নয় বরং আরও অন্যান্য সমস্যার কারণ বটে। দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্পেই ইউএনডিপির ভূমিকা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ PRSP প্রকল্পে ইউএনডিপির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনে ইউএনডিপির গুরুত্বকে আমরা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারি না।

লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা

কবীর

পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
পড়ে পাওয়া গল্পের ৮টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা
শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়াশোনা করছে। ছবি- সংগৃহীত

গল্প : পড়ে পাওয়া

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

১৯। সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর ধারের পথ দিয়ে কে বাড়ি ফিরছিল? 
(ক) লেখক আর বিধু    
(খ) লেখক আর বাদল
(গ) বিধু আর সিধু    
(ঘ) বিধু আর বাদল

২০। বাক্সটিতে নগদ টাকা কত ছিল? 
(ক) ৪০ টাকা      (খ) ৫০ টাকা    
(গ) ৬০ টাকা      (ঘ) ৭০ টাকা

২১। নোটিশ দেওয়ার কতদিন পর একজন কালো লোক চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এসে দাঁড়াল?    
(ক) দুই দিন    (খ) তিন দিন    
(গ) চার দিন    (ঘ) পাঁচ দিন

২২। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কাহিনির সময়টা কখনকার? 
(ক) কালবৈশাখীর    (খ) বর্ষাকালের
(গ) ঝড়-বাদলের     (ঘ) শিলাবৃষ্টির

আরো পড়ুন : পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা

২৩। কিশোরদের দলের সর্দার কে ছিল? 
(ক) সিধু          (খ) নিধু  
(গ) তিনু          (ঘ) বিধু

২৪। ‘পড়ে পাওয়া’ বাক্সটি কোন রঙের টিনের ছিল? 
(ক) হলুদ টিনের     (খ) সবুজ টিনের
(গ) খয়েরি টিনের    (ঘ) কালো টিনের

২৫। বন্যায় কোন চরের কাপালিরা নিরাশ্রয় হয়ে গেল? 
(ক) মুরাতিপুর    (খ) বারাকপুর
(গ) অম্বরপুর      (ঘ) নির্বিষখোলা

২৬। ‘যাবার সময় সে শাসিয়ে গেল’ কে শাসিয়ে গেল? 
(ক) প্রথম লোকটি      (খ) দ্বিতীয় লোকটি
(গ) কাপালি                (ঘ) নরহরি বোষ্টম

উত্তর: ১৯. ক, ২০. খ, ২১. গ, ২২. ক, ২৩. ঘ, ২৪. খ, ২৫. গ, ২৬. খ।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

কবীর