কবিতা : অন্ধবধূ
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘পরশ তাহার মায়ের স্নেহের মতো’ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: অসহায় অন্ধবধূ সমাজ-সংসার থেকে অবজ্ঞা পেয়ে প্রকৃতিকে আপন করে নিজের দুঃখ ভুলতে চেয়েছে।
‘অন্ধবধূ’ কবিতায় বর্ণিত বধূ দৃষ্টিহীন হলেও অনুভবঋদ্ধ মানুষ। অন্ধত্বের কষ্ট সে গভীরভাবে অনুভব করে বলে সবার কাছ থেকে নিজেকে আড়াল করে রাখে। সবার কাছ থেকে অবহেলিত বধূ প্রকৃতির পরশে নিজের কষ্ট ভুলে থাকতে চায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য অর্থাৎ দীঘির স্নিগ্ধ-শীতল জল তার কাছে মায়ের স্নেহ-মমতার মতোই উদার ও মমতাময়ী মনে হয়।
প্রশ্ন: ‘বাড়ি আসার পথ খুঁজে না পাবে- দেখবি তখন - প্রবাস কেমন লাগে?’ অন্ধবধূ এ কথা বলেছে কেন?
উত্তর: অন্ধবধূর স্বামী প্রবাসী। অন্ধবধূ তার জন্য দিনের পর দিন প্রতীক্ষায় থাকে। সে কোকিলের ডাক শুনে, দীঘির ঘাটের নতুন সিঁড়ির অনুভবে ঋতু বদল বুঝতে পারে। এভাবে ঋতুর পর ঋতু চলে গেলেও প্রবাসী স্বামী অন্ধবধূর সান্নিধ্যে আসেনি। স্বামীর কাছ থেকে সে শুধুই অবহেলা পেয়েছে। বধূটি ভাবে সে মারা গেলে স্বামী নিশ্চয়ই দ্রুত ঘরে নতুন বউ আনবে। তখন প্রবাসের জীবন তার আর ভালো লাগবে না। দ্রুত বাড়িতে আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
প্রশ্ন: দৃষ্টিহীনদের প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব কীভাবে? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে দৃষ্টিহীনদের প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব।
দৃষ্টিহীনরা নিজেদের অসহায় মনে করে। কিন্তু নিজেদের অসহায় মনে না করে নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে প্রসারিত করলে দৃষ্টিহীন হলেও প্রকৃতির বিভিন্ন বিষয় অনুভব করা যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে জগতের রূপ-রস-গন্ধ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আর এভাবে দৃষ্টিহীনরা ইন্দ্রিয়সচেতনতা দিয়ে নিজেদের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে।
আরো পড়ুন : বন্দনা কবিতার ২টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, নবম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: অন্ধবধূ দীঘির পানিতে তলিয়ে গেলে মন্দ হতো না বলে কেন?
উত্তর: অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য অন্ধবধূ দীঘির পানিতে তলিয়ে গেলে মন্দ হতো না বলে।
অন্ধবধূ অন্ধত্বের কষ্ট গভীরভাবে অনুধাবন করে। সবাই অবজ্ঞা করে বলে নিজেকে সে বড় অসহায় মনে করে। তাই অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চায়। পা পিছলিয়ে দীঘির পানিতে তলিয়ে গেলে মন্দ হতো না বলে সে মনে করে।
প্রশ্ন: ‘বাঁচবি তোরা-দাদা তো তোর আগে?’ অন্ধবধূ এ কথা বলেছে কেন?
উত্তর: অন্ধবধূ নিজেকে অসহায় এবং পরিবারের বোঝা মনে করে ওপরের কথাটি বলেছে।
অন্ধবধূ তার পরিবারে নিগৃহীত। স্বামীর কাছ থেকে অবজ্ঞা পায়। অন্ধবধূ তাই অন্ধত্বকে নিজের অভিশাপ মনে করে। মনে করে অন্ধত্বের কারণে সে পরিবারের বোঝা। এই কারণে মরে গিয়ে অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে পরিবারকে মুক্তি দিতে চায়। আর এজন্যই সে ঠাকুরঝিকে উদ্দেশ্য করে ওপরের কথাটি বলেছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, উত্তরা, ঢাকা
কবীর