ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
এমপাসির সেভে স্তব্ধ ইংল্যান্ড, প্রথমার্ধে এগিয়ে ডিআর কঙ্গো ইবির আইসিটি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর অশনিসংকেত: বাড়ছে রোগী, ভয়াবহতার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের শুভেন্দু অধিকারীকে ৫০০ কেজি আম উপহার পাঠালো বাংলাদেশ সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের জালে কঙ্গোর গোল টঙ্গীতে অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া, গ্রেপ্তার ৩ নকআউটে ডিআর কঙ্গোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড, একাদশে কারা? ঢাকার ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন উদ্ধারে ধীরগতি, ভেনেজুয়েলায় গভীর মানবিক বিপর্যয় জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য অতিরিক্ত ছুটি চালু করল ফ্রান্স ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার সেজে মোবাইল টাওয়ারে ডাকাতির ছক, গ্রেপ্তার ৪ টেকনাফে জেলের জালে মিলল ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে : ট্রাম্প চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় ৮১৪৭১ কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধি ১২.৩৭ শতাংশ আখাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ জয়পুরহাটে প্রায় ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের যৌন উত্তেজক সিরাপ ধ্বংস রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা কিম জং উনের সিলেটে ধর্ষণ মামলার ১৪ বছর পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দিলেন আদালত নোবিপ্রবির সঙ্গে জাপানের শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর টাঙ্গাইলে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মিলল পাটখেতে নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা অনুমোদন, পূর্বাচলকে ঢাকায় অন্তর্ভুক্ত ইউআইইউ স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের উদ্যোগে ‘নেক্সাস সেমিনার সিরিজ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন যেভাবে চিনবেন একজন অহংকারী মানুষকে বখাটেদের ছত্রভঙ্গ ও ফুটপাত দখলমুক্তে ডিএসসিসির অভিযান মন্ত্রীত্ব হারিয়েও উষ্ণ অভ্যর্থনায় দীপেন দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন সাংবাদিকতায় সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও নৈতিক মান বজায় রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির কেঁচো: মাটির নীরব শ্রমিক, কৃষির অদৃশ্য নায়ক

নোয়াখালীতে প্রকৌশলীসহ সেই ৪ শিক্ষক কারাগারে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৯:০১ পিএম
নোয়াখালীতে প্রকৌশলীসহ সেই ৪ শিক্ষক কারাগারে

নোয়াখালীতে প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক উপসহকারী প্রকৌশলীসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ ফজলে এলাহী ভূঁইয়া আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। 

আসামিরা হলেন হাতিয়া উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরীফুল ইসলাম (৪০), একই উপজেলার জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন (৫২), মধ্য রেহানিয়া আবদুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন তানবীর (৩৫), ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম (৩৫) ও হাসান উদ্দিন বিপ্লব (৩৮) (সাময়িক বরখাস্ত)। এর মধ্যে প্রকৌশলী শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষক জিন্নাত আরা বেগম স্বামী-স্ত্রী।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গুলজান আহমেদ জুয়েল বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, ‘আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে বাদী মামুন অর রশিদের স্ত্রী নলুয়া রেহান আলী চৌধুরীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার মোবাইল থেকে ব্যক্তিগত আপত্তিকর ছবি হ্যাক করে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবিসহ অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব করেন। মামলার পর উচ্চ আদালতের জামিন শেষে মঙ্গলবার নিম্ন আদালতে জামিন চাইলে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’ 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার শিক্ষকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ৫ মে নোয়াখালীর সুধারাম (সদর) থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ (আইসিটি) আইনে মামলা করেন হাতিয়ার ম্যাক পার্শ্বান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মামুন অর রশিদ। ওই মামলার ১ নম্বর আসামি সদর উপজেলার মাইজভান্ডার শরীফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দুই মাস কারাভোগের পর উচ্চ আদালত থেকে তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন। বাকি আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন শেষে মঙ্গলবার নোয়াখালী জজ আদালতে হাজির হন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে গত ৫ জুন পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন।’ 

এদিকে মামলার পর থেকে আসামিরা দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে হাতিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মো. আবদুল জব্বার খবরের কাগজকে বলেন, ‘জামিন নামঞ্জুরের বিষয়ে আদালতের লিখিত কাগজ পেলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
দুর্নীতির মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ছয়জন
সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদে। ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ পঞ্চম আদালতে বিচারাধীন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিলো।

সংশ্লিষ্ট বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আগামি ১৬ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো.আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুর হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগা মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বন অধিদফতরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম, বাড্ডার সাব রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, চার্জশিটভুক্ত ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষিদের জেরা করার আইনগত সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

গত ১৩ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৩ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

বেনজীরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এগারো কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন।

তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেন।

বেনজীর আহমেদ এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করে দুদক।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের প্রেক্ষিতে গত ১২ জুন ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইল করে বেনজীরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।‌

কুটনৈতিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দ্রুতই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বেনজির ও তার স্ত্রী-কন্যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে থাকা সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। জব্দ করা হয়েছে তাদের আয়কর নথিও।

গত বছরের ৪ মে সপরিবার দেশ ছাড়া বেনজীরের দুবাইয়ে আবাসন ও সোনার ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়।

এম এ জলিল উজ্জ্বল/এএফ

শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
শিশু আসমা হত্যা মামলার রায় ফের পেছাল
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলের চাঞ্চল্যকর শিশু আসমা আক্তার (৫) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় তৃতীয় দফায় পিছিয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার (১ জুলাই) জেলার বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুক্লা সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার রায় ঘোষণার তারিখ তৃতীয় দফা পরিবর্তন করে ৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

নিহত আসমা উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের মেঘা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা মো. শাহজাহানের মেয়ে। মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত (২৬) একই গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে এবং শিশুটির জেঠাতো ভাই।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আসমা। ঘটনার ৯ দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভিকটিমের জেঠাতো ভাই শাহাদাতকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্ত চলাকালে শাহাদাত আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, ধর্ষণের পর ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে।

এ ঘটনার পর পুরো নোয়াখালীজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা শুরু থেকেই দ্রুত বিচার ও আসামির ফাঁসির দাবি জানিয়ে আসছেন। সূত্র: বাসস

আজহার/

জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জয়পুরহাটে ধর্ষণ মামলায় সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন
ছবিঃ খবরের কাগজ

জয়পুরহাটে কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের মামলায় সিরাতুল ইসলাম মোস্তাকিম রনি (২২) নামে সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমান এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক।  

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ জুন মেয়েটি বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। খেলা শেষে অন্য শিশুরা চলে গেলে অভিযুক্ত রনি মেয়েটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়। মেয়েটি বাড়িতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পরিবারকে বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট আক্কেলপুর থানায় মামলা করা হয়।

পরে ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন আক্কেলপুর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান।   

মামলার শুনানি ও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দীর্ঘ চার বছর পর মঙ্গলবার রায় দেওয়া হয়। এরপর আসামিকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।  

সাগর কুমার/অদিতি/

হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এএম
হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর
ছবি: সংগৃহীত

দশ বছর আগে এই দিনে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা ঘটে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানে কূটনৈতিক এলাকার ওই বেকারিতে নিরীহ মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা।

নারকীয় ওই হামলায় মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। যাদের ১৭ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, ছয়জন জাপানের, একজন ভারতীয়, একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনজন বাংলাদেশি নির্মমভাবে প্রাণ হারান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে অভিযানে যাওয়া পুলিশের দুই কর্মকর্তা জঙ্গিদের নিক্ষেপ করা বোমায় নিহত হন। ভয়াবহ এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আপিল বিভাগে।

দশ বছর আগে বিভীষিকাময় সেই রাতভর চলে জঙ্গিদের নৃশংস তাণ্ডব। পরদিন সকালে সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটে। ওই অভিযানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। জিম্মি থাকা ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গি হলেন নিবরাস ইসলাম, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

এ নারকীয় হামলার দায় স্বীকার করে ওই রাতেই বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তৎকালীন সরকার আইএসের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছিল, দেশীয় জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি এই হামলা চালায়।

বিচার ও আদালতের রায়

২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নৃশংস সেই হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মামলার রায় দেন। বিচারিক আদালতের রায়ে ‘নব্য জেএমবির’ সাত সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে সাত আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ২০২৫ সালের জুনে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। বর্তমানে সেটি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। তাদের মধ্যে আসলাম হোসেন ২০২৪ সালের ৬ জুন গণ-অভ্যুত্থানে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হন।

তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ
কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের সময়ের দুই হত্যা মামলা এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

সোমবার (২৯ জুন) মমতাজের করা আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী খায়রুন্নেসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার কোতোয়ালি থানার একটি হত্যা মামলা এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার একটি হত্যা মামলায় মমতাজকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন।
পৃথক তিনটি মামলায় এর আগে জারি করা রুল মঞ্জুর করে আদালত এ জামিনের আদেশ দেন।

আইনজীবী সাজু আরও জানান, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার তিনটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা, একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় গত ১৫ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে মমতাজকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন।

তবে পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর চেম্বার আদালত আশুলিয়া থানার একটি হত্যা মামলা ও মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। ফলে এসব মামলার কারণে সাবেক এই সংসদ সদস্য এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য,গত বছরের ১২ মে রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ বেগম মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ সদস্য ছিলেন।

অন্তরা/