ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? চোখের জলে শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন, পর্তুগালের বিদায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য পর্তুগাল-স্পেন বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল মিরপুরে অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ তুরস্ককে এফ-৩৫ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর আহ্বান জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী তানধান ডিপিটি রিনিউয়েবল ডিভিশনের সৌর ও লিথিয়াম পাওয়ার সলিউশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট চলতি বছরে সুদানে অন্তত ৩৩০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ধসের শঙ্কা: রাঙামাটিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরতে মাইকিং নাটোরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে হিন্দু যুবক কারাগারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ৫ম শ্রেণির ছাত্রের বিষপান

ডামুড্যার যুদ্ধে ৭৬ পাকসেনা নিহত হয়

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
ডামুড্যার যুদ্ধে ৭৬ পাকসেনা নিহত হয়
ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপ্টেন বাবুল নামেই আমি বেশি পরিচিত। ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলার (যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে পরিচিত) ৫ নম্বর আসামি ছিলাম আমি। প্রায় ৯০ বছর এখন আমার বয়স। 

সশস্ত্র বিপ্লবের শপথ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে একাধিক যুদ্ধের সম্মুখে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। দেশকে শত্রুমুক্ত করে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর। বাংলা ও বাঙালির মাথা নত না করার ইতিহাস জানতে এই জাদুঘরে পরিদর্শন করেন দর্শনার্থীরা। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে নির্মোহভাবে তুলে ধরাই আমার জীবনের শেষ স্বপ্ন।

বয়েজ নেভিতে ১৯ বছর বয়সে যোগ দিই। চাকরিজীবনে লিডিং সি-ম্যান হিসেবে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছি। পালন করেছি জেলা জাসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিই। আওয়ামী লীগের জেলা ও থানা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছে। আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির পর লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত হই। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি ৯ নম্বর সেক্টরে। পরে কয়েক শ মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ফরিদপুর সাব-সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। একাত্তরে নেতৃত্ব দিয়েছি শরীয়তপুরের ডামুড্যা, ভেদেরগঞ্জ, কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জে যুদ্ধে। 

বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সবুজ সংকেত। সেই মোতাবেক ২৫ মার্চ আমি যাই ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই তিনি বলেন, ‘তাড়াতাড়ি যাও এবং স্থান পরিবর্তন কর। রাতেই পাকিস্তানি সেনারা রাস্তায় নেমে পড়বে নির্বিচারে দেশের মানুষদের হত্যা করতে। তোমরা যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধে নেমে পড়।’ তখন আমি ফকিরাপুল এলাকার একটি বাড়িতে থাকতাম। সেখান থেকে চলে যাই লৌহজংয়ে। কয়েকদিন পর এলাকার বেশ কিছু যুবককে নিয়ে থানায় গিয়ে ওসির কাছ থেকে দশটি রাইফেল এবং দুই হাজার গুলি জোর করেই নিয়ে আসি। সময়টা তখন এপ্রিল, সেই অস্ত্র দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিতে থাকি। 

সেখান থেকে চলে যাই ভারতে। সেখানে প্রথম দেখা করি মেজর খালেদ মোশাররফের সঙ্গে। এরপর আগরতলার মেলাঘরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিই। শেখ নাসের আমাকে নিয়ে যান সাজেদা চৌধুরীর কাছে। সাজেদা চৌধুরী সে সেময় ওখানে একটি ছোট বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাজারখানেক মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে চলে আসি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ওড়াকান্দি স্কুলে। সেখানে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্প তৈরি করি। 

একাত্তরের ৬ অক্টোবর আমরা ভাটিয়াপাড়া ওয়্যারলেস স্টেশনে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে হামলা চালাই। প্রায় ৯ ঘণ্টা গুলিবিনিময়ের পর নিশ্চিত বিজয়ের মুখে শত্রুরা আকাশ থেকে বিমান আক্রমণ শুরু করে। সেই আক্রমণে আমরা পিছু হটতে বাধ্য হই। ওই যুদ্ধে কামার গ্রামের জাফর আলী খান ও বরাকের চরের জাহাঙ্গীর খান শাহাদাত বরণ করেন। সে সময় নগরকান্দার মেজর আজিজ আমাকে সাহচর্য দেন। 

এরপর আমরা ১০ অক্টোবর ভেদেরগঞ্জের যুদ্ধে যাই। সেখানে শহিদ হন সহযোদ্ধা সর্দার মহিউদ্দিন। পরে লাশ নিয়ে তার বাড়িতে যাই। লাশ দেখে তার ছোট বাচ্চা বারবার বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলতে থাকে, ‘বাবা তোমার কী হয়েছে, তুমি চোখ মেলছ না কেন?’ ওই অবুঝ শিশুটিকে সেদিন আমি সান্ত্বনা দিতে পারিনি।

গোসাইরহাটের ডামুড্যায় ১৪ অক্টোবর শত্রুদের সঙ্গে ছয় ঘণ্টার তুমুল লড়াই হয়। দুই পক্ষই এলএমজি দিয়ে গুলি করেছি ও গোলাবারুদ ছুঁড়েছি। এ যুদ্ধে পাকিস্তানের মেজর, ক্যাপ্টেনসহ ৭৬ জন নিহত হয়। এ সময় আমাদের আটজন শহিদ হন। তাদের ভেদেরগঞ্জের শাহজাহানপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

একাত্তরের ২৮ নভেম্বর টুঙ্গিপাড়া গিয়ে আমি বঙ্গবন্ধুর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের জন্য দোয়া প্রার্থনা করি। তাদের লুণ্ঠিত হওয়া কিছু জিনিস আমি উদ্ধার করতে সক্ষম হই। এরই মধ্যে জানতে পারি, আমার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। 

কোটালীপাড়ার ঘাগর বাজারে ও গোডাউন এলাকায় ২৯ নভেম্বর হেমায়েত বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি। তিন দিন যুদ্ধের পর ২ ডিসেম্বর শত্রুপক্ষ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। আমাদের কৌশল দেখে পাকিস্তানি মেজর সেলিম রাতে লঞ্চযোগে শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু টেকেরহাটে মুক্তিযোদ্ধা খলিল বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এদিকে অবস্থা বেগতিক দেখে পরের দিন ভোরে গোপালগঞ্জ থানার ওসি অস্ত্রসহ আমার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। 

আমার রণকৌশল, বুদ্ধিমত্তা, দল পরিচালনা সর্বোপরি দলের প্রতি নিষ্ঠা ও সুশৃঙ্খলাবোধে উজ্জীবিত সহযোদ্ধা ও রণক্ষেত্রের যোদ্ধারা ১৪ ডিসেম্বর আমাকে ‘ক্যাপ্টেন’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সেদিন ১২ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ভাঙ্গা ডাকবাংলোয় উপস্থিত হয়ে ফরিদপুর আক্রমণের পরিকল্পনা করি।

যুদ্ধ শেষে নিজ বাসভবনে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক জাদুঘর গড়ে তুলেছি। এতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, হানাদার বাহিনীর গণহত্যা, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র। রয়েছে ব্রিটিশ আলোকচিত্রী পল কনেটের তোলা মুক্তিযুদ্ধে ফরিদপুরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র। সংগ্রহে আছে নিজের ও যুদ্ধকালের কিছু দুর্লভ ছবি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা

অনুলিখনঃ সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর প্রতিনিধি 

রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জে ‘রক্ত গৌরব’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আব্দুল মোতালেব সরকার।

এরপর  রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ মিয়া ও সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সাধারণ জনগণ বাঁশের লাঠি ও তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘেরাওকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালালে শত শত মানুষ শহিদ হন।

সেলিম সরকার/অমিয়/

গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের পাশে জয়বাংলা পুকুর পাড়ে নির্মিত বদ্ধভূমির স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ।

এরপর জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামানসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শহিদের প্রতি সশস্ত্র সালাম জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা ও সাধারন মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা ৭১-এর ২৫ কালো রাতের গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে দিবসটির তাৎপয তুলে ধরেন।

এছাড়া, বাদ যোহর জেলাব্যাপী ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্বরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থণা করা হয়।

অপরদিকে, সকাল ১১ টায় কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের হল রুমে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- গোপালগঞ্জ-০১ আসনে সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।

সেলিমুজ্জামান আরও বলেন, আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ
করি।’

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়ার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোরাদ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাদল/রিফাত/

সাতক্ষীরায় গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
সাতক্ষীরায় গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে শহরের সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

​শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশুসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

​আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। 

বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরায় প্রাণভয়ে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাওয়া কয়েক শ সাধারণ মানুষ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিলে সেখানেও পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশের দোসররা চার শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জাতির সেই বেদনাবিধুর ইতিহাস স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।
  
নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/

ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে ১১টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে ফেনী সরকারি কলেজ বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন (ভিপি), জেলা প্রশাসক মনিরা হক এবং ফেনী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব প্রথমে বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফেনী পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিলয়/রিফাত/

গণহত্যার নীরব সাক্ষী কুমিল্লা সেনানিবাস

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০ এএম
গণহত্যার নীরব সাক্ষী কুমিল্লা সেনানিবাস
ছবি: খব রের কাগজ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা সেনানিবাস ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ভয়ংকর টর্চার সেল। যেখানে নির্বিচারে চালানো হয়েছিল হত্যাযজ্ঞ। শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে মুক্তিকামী বাঙালিদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো। নির্বিচার এসব হত্যাযজ্ঞে পুরো সেনানিবাস এলাকা পরিণত হয় বধ্যভূমিতে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ নামে মানব ইতিহাসের একটি নৃশংস অভিযান চালায় কুমিল্লায়। ৭২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। রাত ১০টার দিকে সেনানিবাস থেকে অন্তত পাঁচটি দল শহরে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এই অভিযানে টার্গেট করা হয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য, পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ বাহিনী, হিন্দু পুরুষ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের। অনেককে ধরে এনে সেনানিবাসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তও ছিলেন। সেই সঙ্গে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১৭ জন বাঙালি অফিসার এবং প্রায় ৯১৫ জন অন্যান্য র‌্যাঙ্কের সদস্যকে হত্যা করা হয়।

নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তেপ্পান্ন ব্রিগেড গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াকুব মালিক, চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খিজির হায়াত খান, ব্রিগেডিয়ার আসলাম, চৌদ্দ এফএফআর ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার শাহপুর খান প্রমুখ পাকিস্তানি নরপিশাচরা।

২৭ ও ২৮ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে বাঙালি সেনাদের জড়ো করা হয়। এরপর ১৭ জন কর্মকর্তা ও ৯৭৩ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। এসব তথ্য উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আবুল কাশেম হৃদয়ের ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ গ্রন্থে। এ ছাড়া বধ্যভূমি আবিষ্কারের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ ঘটনা প্রকাশ পায়।

যুদ্ধকালীন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। শহর থেকে ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, দিগম্বরীতলা এলাকার প্রিয় লাল ঘোষ, অধ্যাপক কাজী বশির ও তার দুই ভাইকে হত্যা করা হয়। জানা-অজানা আরও অনেককে নিয়ে সেখানে হত্যা করা হয়েছে। ২৫ মার্চ তারা প্রথমেই কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে হামলা চালিয়ে অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। আবার অনেককে ধরে নিয়ে সেনানিবাসে হত্যা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ রাতেই কুমিল্লায় ক্র্যাকডাউন শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন বাসা থেকে মানুষ ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। বাইরে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও কুমিল্লার বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, ‘ঢাকার বাইরে প্রথম বড় গণহত্যাগুলোর একটি ছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। কিন্তু ঢাকার বাইরে হওয়ায় বিষয়টি তেমনভাবে আলোচনায় আসেনি। পরে গবেষণায় এর ভয়াবহতা সামনে আসে।