ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কেটেলারের গোলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম বালোগুনকে নিয়ে নামছে যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়ামের বেঞ্চে ডোকু-ডি ব্রুইনা বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ স্পেনের জোড়া বিশ্বরেকর্ড কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ কে? চোখের জলে শেষ হলো রোনালদোর বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন, পর্তুগালের বিদায় প্রথমার্ধে গোলশূন্য পর্তুগাল-স্পেন বালোগুনকে আটকাতে পারল না বেলজিয়াম, আবেদন নাকচ ফিফার পর্তুগাল-স্পেনের একাদশ ঘোষণা বালোগুনের পর এবার ওলিসে, ফিফার দ্বারস্থ ফ্রান্স পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী গ্রামসরকার গঠন করলে নেতৃত্ব বিকশিত হবে: মির্জা ফখরুল মিরপুরে অফিসার্স কোয়ার্টারে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণ আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ৩ টন জিরা আমদানি ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু নওগাঁয় মানত পূরণে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু সরিষাবাড়ীতে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল ছেলে ৪,৮০০ কর্মী ছাঁটাই করছে মাইক্রোসফট আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ তুরস্ককে এফ-৩৫ না দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতানিয়াহুর আহ্বান জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে সরকার: পাটমন্ত্রী তানধান ডিপিটি রিনিউয়েবল ডিভিশনের সৌর ও লিথিয়াম পাওয়ার সলিউশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সূচনা বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাইকা প্রেসিডেন্ট চলতি বছরে সুদানে অন্তত ৩৩০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ জুলাইয়ের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ

অগ্নিঝরা মার্চ আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৫, ১০:০৪ এএম
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার এই ভাষণ মুক্তিসেনাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

১৯৭১ সালের এই দিন ঢাকায় পড়ন্ত বিকেলে বঙ্গবন্ধু সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’শেখ মুজিবুর রহমানের মাত্র ১৯ মিনিটের এই ভাষণ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেসকো।

তবে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের এই ভাষণ লেখা এক দিনে হয়নি। তার জন্য আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড ও বিএলএফের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান কয়েক দিন দফায় দফায় বৈঠক করেন। সবার মতামত নেন। বিবেচনায় নেওয়া হয় পূর্ব পাকিস্তানে তখনকার সামরিক উপস্থিতি এবং চেষ্টা করা হয় রক্তপাত এড়ানোর।

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শামসুদ্দিন পেয়ারা তার ‘আমি সিরাজুল আলম খান: একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য’ গ্রন্থে ওই সময়ের ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সিরাজুল আলম খান স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে, ‘৭ মার্চের ভাষণের বিষয় নিয়ে ৫ মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু প্রথমে বিএলএফ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেদিনই আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের সঙ্গে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সে সময় হাইকমান্ড সদস্যদের তিনি বিএলএফের প্রস্তাবসমূহের ব্যাপারে অবহিত করেন। একই দিনে পৃথকভাবে আবারও বিএলএফের আমাদের সঙ্গে ভাষণের বিষয়াদি নিয়ে তিনি আলোচনায় বসেন। সেদিন অধিক রাতে ৭ মার্চের ভাষণের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তা হলো, ভাষণটি খুবই আবেগময় হতে হবে এবং মূল ভাষণটি তিন ভাগে বিভক্ত থাকবে। আমাদের তরফে যে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তৃতা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তা হলো- এক. সংক্ষেপে অতীত ইতিহাসের বর্ণনা, দুই. নির্বাচনের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবির পাশাপাশি যুগপৎভাবে অসহযোগ ও স্বাধীনতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং তিন. স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়ে বক্তৃতা শেষ করা।’ 

সিরাজুল আলম খান স্মৃতিচারণা করে আরও বলেন, “৬ মার্চের সকাল থেকেই মুজিব ভাই (শেখ মুজিবুর রহমান) বিএলএফ ও আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড ‘মুক্তির সংগ্রাম’ শব্দটি দিয়ে বক্তৃতা শেষ করার কথা বলেছে। তখন বিএলএফের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবেই বলি, ‘মুক্তির সংগ্রাম’ ও ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ দুটো কথাই বক্তৃতার এক লাইনে থাকতে হবে এবং সে লাইন দিয়েই বক্তৃতা শেষ করতে হবে। তখন মুজিব ভাই আবার আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। ৬ তারিখ বিকেল নাগাদ আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ এই ঘোষণা দিয়ে বক্তৃতা শেষ করার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে মুজিব ভাই আমাদের জানালেন।”

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক রেহমান সোবহান তার ‘উতল রোমন্থন: পূর্ণতার সেই বছরগুলো’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘আমি কামাল হোসেনের কাছে জানতে পারি ৭ মার্চের আগে ৩২ নম্বর রোডে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের একটি নির্ধারক বৈঠক হয়, যেটা প্রায় সারা দিন-রাত ধরে হয়েছিল। পরের দিন জনসভায় বঙ্গবন্ধু কোন পথ অনুসরণ করবেন সেটাই ছিল বৈঠকের আলোচ্য। সম্ভবত বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে বলিষ্ঠ সদস্যদের বক্তব্য ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার সময় এখনো আসেনি এবং মানুষকে এমন রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে নিয়ে আসার আগে জনসচেতনতা আরও সংহত করা প্রয়োজন। বস্তুত সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের কতখানি আছে, সে সম্বন্ধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সামান্যই ধারণা ছিল এবং বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্টগুলোতে কর্মরত সেনাসদস্যদের মধ্যে বাঙালিদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিষয়েও তারা একেবারেই নিশ্চিত ছিলেন না।’

এ গ্রন্থে অধ্যাপক রেহমান সোবহান ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে সিরাজুল আলম খানের প্রসঙ্গও টানেন। তিনি লিখেছেন, ‘বর্ষীয়ান নেতাদের বিপরীতে কাপালিক সিরাজ নামে পরিচিত সিরাজুল আলম খান-এর মতো আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্ম পুরোদমে মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে অনতিবিলম্বে স্বাধীনতা ঘোষণার সপক্ষে বলেছিল। ৭ মার্চের মিটিংয়ে হাজির হবার আগে আমি আর নুরুল ইসলাম ইকবাল হলে যাই তরুণ প্রজন্মের মেজাজ বুঝতে। কাপালিকের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়ে যায়, তাকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল এবং সে আমাদের বলে যে স্বাধীনতার কোনো নাটকীয় ঘোষণা আসছে না।’

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের ‘আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১’ গ্রন্থে। তিনি লিখেছেন, ‘৭ মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ঢাকায় ওই সময়ের ভারপ্রাপ্ত সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজার বয়ানটি উল্লেখযোগ্য। এটি ছিল ক্রান্তিকাল এবং শেখ মুজিবের জন্য পরীক্ষা। জেনারেল রাজার বিবরণ থেকে জানা যায়: ‘৬ মার্চ সন্ধ্যায় শেখ মুজিবের একজন বার্তাবাহক আমার কাছে এলেন। তিনি বলেন, দলের ভেতর কট্টরপন্থি ও ছাত্রনেতারা একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য চাপ দিচ্ছেন। শেখ মুজিব একজন দেশপ্রেমিক। তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায় নিতে চান না। এ জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন একদল সেনা পাঠিয়ে তাকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সেনানিবাসে এনে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়। শেখ মুজিবের বার্তা শুনে ৭ মার্চের ব্যাপারে আমার অবস্থান শক্ত করলাম। আমি বার্তাবাহককে বললাম, মুজিব নিঃসন্দেহে একজন দেশপ্রেমিক এবং একজন ছাত্রনেতা হিসেবে কলকাতায় পাকিস্তান আন্দোলনে তার ভূমিকা আমি জানি। যা তৈরি করতে তিনি সাহায্য করেছেন, তা কী করে তিনি ধ্বংস করতে পারেন?’ 

খাদিম হোসেন রাজা শেখ মুজিবুর রহমানের দুই প্রতিনিধিকে আরও বলেন, ‘তিনি (শেখ মুজিবুর রহমান) যদি দেশের সংহতি নষ্ট করে একতরফা স্বাধীনতার ঘোষণা করেন, আমি বিনা দ্বিধায় আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালন করব। সেনাবাহিনীকে বলা হবে মিটিং ভেঙে দিতে এবং প্রয়োজনবোধে ঢাকা শহর গুঁড়িয়ে দিতে। শেখকে যেন জানিয়ে দেওয়া হয়, বিচক্ষণতার পরিচয় না দিলে এর ফল হবে মারাত্মক এবং এর দায় তার ঘাড়েই পড়বে। তার উচিত হবে আলোচনার দরজা খোলা রাখা এবং অনাবশ্যক রক্তপাত এড়ানো।’

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আরেক সূক্ষ্ম বিষয় ‘আমি সিরাজুল আলম খান: একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সিরাজুল আলম খান স্মৃতিচারণা করে বলেছেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ কথাটা উচ্চারণের পর জনসভা থেকে যে গর্জন উঠবে সে শব্দে ওই লাইনের শেষ অংশ ‘এবারের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ভালোভাবে শোনা যাবে না। সে কারণে জনতার গর্জন শেষ হওয়ার পর মুজিব ভাই (শেখ মুজিবুর রহমান) যেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাক্যটি দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করেন এবং ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তৃতা শেষ করেন।”

তিনি (সিরাজুল আলম খান) স্মৃতিচারণা করে আরও লেখেন, “৬ মার্চ মধ্যরাতের ঐ আলোচনায় মুজিব ভাই উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে বললেন, বক্তৃতা করতে গিয়ে আবেগ ও উত্তেজনায় ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাক্যটি দ্বিতীয়বার বলতে যদি তিনি ভুলে যান তাহলে পাশ থেকে কেউ যেন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সিদ্ধান্ত হলো আ স ম আবদুর রব মঞ্চে তার পাশে বসবে এবং তিনি যদি দ্বিতীয়বার ঐ কথাটি উচ্চারণ করতে ভুলে যান তাহলে সে তার পাঞ্জাবির কোনা ধরে হালকা একটু টান দেবে, যাতে করে তিনি বুঝতে পারেন বক্তৃতার শেষ বাক্যটি তাকে আবারও বলতে হবে।”

রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে ঐতিহাসিক ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে রংপুর নগরীর নিসবেতগঞ্জে ‘রক্ত গৌরব’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আব্দুল মোতালেব সরকার।

এরপর  রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, রংপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ মিয়া ও সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সাধারণ জনগণ বাঁশের লাঠি ও তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঘেরাওকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালালে শত শত মানুষ শহিদ হন।

সেলিম সরকার/অমিয়/

গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার মধ্যে দিয়ে গোপালগঞ্জে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের পাশে জয়বাংলা পুকুর পাড়ে নির্মিত বদ্ধভূমির স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ।

এরপর জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামানসহ মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি, উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন স্মৃতি স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে শহিদের প্রতি সশস্ত্র সালাম জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সদর উপজেলা পরিষদের হল রুমে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সরকারী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতারা ও সাধারন মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা ৭১-এর ২৫ কালো রাতের গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে দিবসটির তাৎপয তুলে ধরেন।

এছাড়া, বাদ যোহর জেলাব্যাপী ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের স্বরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থণা করা হয়।

অপরদিকে, সকাল ১১ টায় কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের হল রুমে কাশিয়ানী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- গোপালগঞ্জ-০১ আসনে সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম।

আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।

সেলিমুজ্জামান আরও বলেন, আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ
করি।’

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিন মিয়ার সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোরাদ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাদল/রিফাত/

সাতক্ষীরায় গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
সাতক্ষীরায় গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে শহরের সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার।

এ সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

​শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোশারফ হোসেন মশুসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।

​আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক বর্বরোচিত গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সেদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। 

বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরায় প্রাণভয়ে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাওয়া কয়েক শ সাধারণ মানুষ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিলে সেখানেও পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশের দোসররা চার শতাধিক মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জাতির সেই বেদনাবিধুর ইতিহাস স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান বক্তারা।
  
নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/

ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় গণহত্যা দিবস পালিত
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীতে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে ১১টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে ফেনী সরকারি কলেজ বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ সময় ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবদিন (ভিপি), জেলা প্রশাসক মনিরা হক এবং ফেনী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব প্রথমে বধ্যভূমিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ফেনী পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

নিলয়/রিফাত/

গণহত্যার নীরব সাক্ষী কুমিল্লা সেনানিবাস

প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০ এএম
গণহত্যার নীরব সাক্ষী কুমিল্লা সেনানিবাস
ছবি: খব রের কাগজ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা সেনানিবাস ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর একটি ভয়ংকর টর্চার সেল। যেখানে নির্বিচারে চালানো হয়েছিল হত্যাযজ্ঞ। শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে মুক্তিকামী বাঙালিদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো। নির্বিচার এসব হত্যাযজ্ঞে পুরো সেনানিবাস এলাকা পরিণত হয় বধ্যভূমিতে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ নামে মানব ইতিহাসের একটি নৃশংস অভিযান চালায় কুমিল্লায়। ৭২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। রাত ১০টার দিকে সেনানিবাস থেকে অন্তত পাঁচটি দল শহরে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এই অভিযানে টার্গেট করা হয় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য, পুলিশ, আনসার, মুজাহিদ বাহিনী, হিন্দু পুরুষ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের। অনেককে ধরে এনে সেনানিবাসে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তও ছিলেন। সেই সঙ্গে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১৭ জন বাঙালি অফিসার এবং প্রায় ৯১৫ জন অন্যান্য র‌্যাঙ্কের সদস্যকে হত্যা করা হয়।

নারকীয় এই হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তেপ্পান্ন ব্রিগেড গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াকুব মালিক, চতুর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঞ্জাবি কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খিজির হায়াত খান, ব্রিগেডিয়ার আসলাম, চৌদ্দ এফএফআর ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার শাহপুর খান প্রমুখ পাকিস্তানি নরপিশাচরা।

২৭ ও ২৮ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে বাঙালি সেনাদের জড়ো করা হয়। এরপর ১৭ জন কর্মকর্তা ও ৯৭৩ জন সেনা সদস্যকে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়। এসব তথ্য উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক আবুল কাশেম হৃদয়ের ‘অপারেশন কিল অ্যান্ড বার্ন’ গ্রন্থে। এ ছাড়া বধ্যভূমি আবিষ্কারের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এ ঘটনা প্রকাশ পায়।

যুদ্ধকালীন কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে। শহর থেকে ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, দিগম্বরীতলা এলাকার প্রিয় লাল ঘোষ, অধ্যাপক কাজী বশির ও তার দুই ভাইকে হত্যা করা হয়। জানা-অজানা আরও অনেককে নিয়ে সেখানে হত্যা করা হয়েছে। ২৫ মার্চ তারা প্রথমেই কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে হামলা চালিয়ে অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে। আবার অনেককে ধরে নিয়ে সেনানিবাসে হত্যা করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘২৫ মার্চ রাতেই কুমিল্লায় ক্র্যাকডাউন শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন বাসা থেকে মানুষ ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। বাইরে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে তা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। কিন্তু ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই সবচেয়ে বেশি হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও কুমিল্লার বিশিষ্ট সাংবাদিক আবুল কাশেম হৃদয় বলেন, ‘ঢাকার বাইরে প্রথম বড় গণহত্যাগুলোর একটি ছিল কুমিল্লা সেনানিবাসে। কিন্তু ঢাকার বাইরে হওয়ায় বিষয়টি তেমনভাবে আলোচনায় আসেনি। পরে গবেষণায় এর ভয়াবহতা সামনে আসে।