ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৬ হাজার ৫৩১ জনকে নির্বাচন করে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিলের শুনানি রবিবার (২ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও স্থগিত চেয়ে আপিলের শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
এ নিয়ে শিক্ষকরা টানা ২৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষকরা বলছেন, শুনানিতে তাদের পক্ষে রায় না এলে তাৎক্ষণিক পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা।
রবিবার শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে প্রাইমারিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক কুমিল্লার হোমনা থেকে আসা হাসান মোল্লার সঙ্গে খবরের কাগজের কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষকতা করব বলে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে চাকরি করতাম সেটিও ছেড়েছি। এখন নিরুপায় হয়ে রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে, আশা করি মহামান্য আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেবে।’
জানা যায়, রবিবার আপিলের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার (৩ মার্চ) শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মো. মুহিব খবরের কাগজকে বলেন, ‘রবিবার শুনানির কথা থাকলেও সেটি পেছানো হয়। শুনানিতে আমাদের পক্ষে রায় এলে তবেই আমরা শাহবাগ ছাড়ব। শুনানি চলাকালীন আমাদের শাহবাগে অবস্থান থাকবে। আমরা আশা করি রায় আমাদের পক্ষে আসবে। যদি না আসে, আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
এর আগে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।
চলতি বছর ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বাতিল ও একইসঙ্গে মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগে এই রায় দেন।
গেল বছরের গত ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৬ হাজার ৫৩১ জন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ