পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় বস্তায় ভরে ও পুকুরের পানিতে ফেলে ৮ কুকুরছানা হত্যা মামলার আসামি নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার নিশি রহমান ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তার স্ত্রী। ৮ কুকুরছানাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নারীর কী শাস্তি হতে পারে? এ নিয়ে দেশের আইনে কী আছে তা জেনে নেওয়া যাক।
দেশে প্রাণি নির্যাতন সম্পর্কিত প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো ১৯২০ সালের ‘দ্য ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্ট’ বাতিল করে ২০১৯ সালে প্রাণি কল্যাণ আইন প্রণয়ন করা হয়।
প্রাণির প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ করা, সদয় আচরণ প্রদর্শন করার লক্ষ্যে এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়। এই আইনে প্রাণিকে দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে- পোষ্য ও মালিকবিহীন।
এই আইনে উল্লেখিত কোনো কারণ ছাড়া মালিকবিহীন কোনো প্রাণিকে নিধন বা অপসারণ করা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘মালিকবিহীন কোনো প্রাণি, যেসব কুকুর বা বিড়াল পোষা নয়, এমন পথকুকুর বা বিড়াল এমন প্রাণিকে কেউ যদি হত্যা করে তবে সেটা হবে অপরাধ, এই অপরাধে শাস্তির বিধানও আছে।’
প্রাণির প্রতি কী ধরনের আচরণ নিষ্ঠুর বলে বিবেচিত হবে সে বিষয়টি আইনের ছয় ও সাত ধারায় বলা আছে। প্রাণির অঙ্গহানি করা বা বিষ প্রয়োগে হত্যা করাকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তবে যদি কোনো প্রাণি সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকে বা অনিরাময়যোগ্য অসুস্থ হলে, তাকে বাঁচিয়ে রাখা নিষ্ঠুরতা বলে মনে হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতিক্রমে ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানো যাবে।
এ ছাড়া পোষ্য বা পথকুকুর বা বিড়ালকে হত্যা, নির্যাতন বা তার প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করার আইনে সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন মনজিল মোরসেদ।
প্রাণি কল্যাণ আইনে বলা আছে, যদি কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে তবে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। আর যদি দ্বিতীয়বার করে তাহলে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
পোষ্য এবং মালিকানাবিহীন বা পথকুকুর বা বিড়াল উভয়ের জন্যই এই শাস্তি প্রযোজ্য।
এই আইনের অধীনে প্রাণির প্রতি যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত সেগুলোর বিচার করতে পারবেন বলেও জানান তিনি। প্রাণি কল্যাণ আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাণি হত্যার সর্বোচ্চ সাজা দুই বছর।
এসজি/