ঢাকা ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত, ম্যাচ কবে? ২৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উরুগুয়েকে বিদায় করে গ্রুপসেরা হয়ে নকআউটে স্পেন ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের নকআউটে কেপ ভার্দে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে কেপ ভার্দে ও সৌদি আরব মুসলেরার বড় ভুল, প্রথমার্ধে এগিয়ে স্পেন ২৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে পারবে সৌদি আরব? সমীকরণ মিললেই ইতিহাস, ক্ষীণ আশা নিয়ে অপেক্ষায় স্কটল্যান্ড মার্চ থেকেই কলম্বিয়া ম্যাচের ছক কষেছে পর্তুগাল নকআউটে যে দলকে পেল নরওয়ে ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল সেনেগাল রাউন্ড ৩২-এ ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ কে? মিসর-ইরান ম্যাচের দায়িত্বে মারচিনিয়াক নরওয়েকে এক হালি গোল দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে সেনেগাল নকআউটের আগে মেসিকে বিশ্রাম দিতে পারেন স্কালোনি দেম্বেলের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ৩-১ গোলে এগিয়ে ফ্রান্স ঝড় নয়, কলম্বিয়াই পর্তুগালের আসল পরীক্ষা ৩২ মিনিটেই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন হাকিমি সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ইসমাইল আর নেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন, রক্ষা হলো না নিজের জীবন ভারতকে টি-টোয়েন্টি শেখাল আয়ারল্যান্ড নরওয়ের শুরুর একাদশে নেই হালান্ডসহ ১০ জন, ফ্রান্সের একাদশেও পরিবর্তন কেপ ভার্দে-সৌদি আরব ম্যাচে বাঁশি বাজাবেন ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে এক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় মা ও তিন মেয়ে, অশ্রুসিক্ত হোমনা বিশ্বকাপের নকআউটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কে হবে, জানাল এআই মাগুরায় মহররম উপলক্ষে পথচারীদের মাঝে পানি বিতরণ

তৃণমূলের সুপারিশ ছাড়াই এবার নৌকার মনোনয়ন

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০০ এএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৫০ পিএম
তৃণমূলের সুপারিশ ছাড়াই এবার নৌকার মনোনয়ন

দলের মনোনয়ন বোর্ডে উত্থাপিত জরিপ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করছে আওয়ামী লীগ। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন, বেসরকারি সংস্থার জরিপের তথ্য মিলিয়ে ৩০০ আসনেই প্রার্থীদের একটি তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা ব্যক্তিরাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন। সংসদীয় বোর্ডের একাধিক নেতা খবরের কাগজকে এ তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক নেতা খবরের কাগজকে জানান, গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগ সভাপতি তিন মাস পর পর ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার কী অবস্থা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সরকারি একাধিক সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং বেসরকারি পেশাদার জরিপ প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সে তালিকায় যারা এগিয়ে আছেন, তারাই এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন। ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র কয়েকটিতে এর ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে।

আগামীকাল রবিবারের মধ্যে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার কথা। গতকাল শুক্রবার দেশের চার বিভাগ, আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। আজ শনিবার ও কাল রবিবার দেশের বাকি দুই বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

কী ধরনের মানদণ্ডে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে? জানতে চাইলে গত বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের জনমত জরিপে, সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সেল আছে। কার কী অবস্থা সেই সেলের মাধ্যমেও তথ্য আসে। সব মিলিয়ে যার নম্বরটা বেশি, তাকেই মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হবে। গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই আমরা মনোনয়ন দেব।’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে তৃণমূল থেকে নাম প্রস্তাব করা হতো। সে নামগুলো মনোনয়ন বোর্ডে বিবেচনা করা হতো। এবার সে পথে হাঁটছে না আওয়ামী লীগ। দলের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২৭(৫)-তে বলা হয়েছে, ‘উপজেলা/থানা, ইউনিয়ন/পৌর ওয়ার্ড ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী সংসদীয় আসনভিত্তিক মনোনয়ন প্রার্থীদের গুণাগুণ ও জনপ্রিয়তা প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করিয়া তাহাদের সুপারিশসংবলিত একটি প্রার্থী প্যানেল স্ব-স্ব সাংগঠনিক কমিটির মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ড বরাবর প্রেরণ করিবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংসদীয় বোর্ড একজনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করিবে।’

আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, এবার মনোনয়ন বোর্ডে বিভিন্ন মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকা নেতাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে ফাইল দেওয়া হয়। এ ফাইলে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তথ্য থাকে। প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের তথ্য টেবিলাকারে উপস্থাপন করা হয়। এ টেবিলে চারটি ঘর আছে।

ঘর চারটি হলো- ক্রমিক নম্বর, নাম, অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে অবস্থান ও ছবি। মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যখন যে আসনে যার মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়, তার নামের পাশে টিক চিহ্ন দেওয়া হয়। বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের দপ্তর ও উপদপ্তর সম্পাদক সভার সিদ্ধান্তগুলো লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নামের সঙ্গে তার দলীয় পদ উল্লেখ থাকে। কেউ জনপ্রতিনিধি হলে সে তথ্যও উল্লেখ থাকে। অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে অবস্থান শীর্ষক ঘরটিতে উল্লেখ থাকে প্রার্থীদের মধ্যে কে প্রথম কে দ্বিতীয় সেই ক্রম। মোট ১০০ শতাংশের মধ্যে কে কত শতাংশ নম্বর পেয়েছেন, সেগুলোও উল্লেখ থাকে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানায়, দলের নেতাদের এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপরে। দলের জন্য অবদান, নেতা-কর্মীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা, সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা, কতদিন ধরে দল করছেন, পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, কোভিড মহামারির সময়ে ভূমিকা কী ছিল, এ ধরনের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের ক্রম তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

মনোনয়ন বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের ৩ হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি আসনে গড়ে ১১ জনের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তবে মনোনয়ন বোর্ডে মনোনয়ন আবেদন ফরম সংগ্রহ করা সবার নাম বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে আসনভিত্তিক জরিপ প্রতিবেদনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম এসেছে, মূলত তাদেরই প্রার্থী হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা সবার নাম মনোনয়ন বোর্ডে বিবেচনায় নেওয়া না হলেও তাদের সবাইকে একদিন ঢাকায় ডেকে কথা বলতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ বিষয়টি নিয়ে দলের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নতুন মুখও এসেছে। কিছু বাদও পড়েছে। বিজয়ী হতে পারেন এমন প্রার্থীদের বাদ দেয়নি আওয়ামী লীগ।’

সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
গ্রেপ্তার সাবেক এমপি আশিকা রিমান্ডে
নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানা/ ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মিরপুর মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। 

সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে জড়িতদের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ভেঙে দিতে এবং জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

সাবেক এ সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলায় করা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন তার আইনজীবী মোকসেদুল হাসান। রিমান্ড আবেদন বাতিল করে আসামির জামিন চান তিনি।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য জানতে আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে শুনানি করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।

আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তার নেতৃত্বে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে  বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ এর একটি বাসা থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এম এ জলিল/ এএফ

অন্তর্বর্তী সরকার একাত্তরের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: বাসদ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকার একাত্তরের শহিদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: বাসদ
ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে খালাস দিয়ে শহিদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা করেছে' বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।

তিনি বলেছেন, "নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা এবং চিহ্নিত আলবদর কমান্ডার ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ টিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে— যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।"

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে শহিদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সকাল ৮টায় বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে বাসদের একটি প্রতিনিধি দল শহীদ জননীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার— উভয়েরই তীব্র সমালোচনা করেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে ফিরোজ বলেন, "বিগত আওয়ামী সরকার কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠনকারী এবং সরাসরি হত্যা-ধর্ষণে জড়িত সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেনি। তারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং বুর্জোয়া দলগুলো প্রতিযোগিতা করে রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি বানিয়েছে।"

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাসদ নেতা বলেন, "গত বছর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ মাসে তথাকথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছে। কথিত ধর্ম অবমাননার নামে শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরেও এখনও দেশজুড়ে চলমান রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, শাসকশ্রেণীর দুর্নীতিগ্রস্ত ও আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতির কারণে দেশ আজ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দুর্গতির মুখোমুখি।

সমাবেশ থেকে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ এবং স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় বৈষম্যহীন 'সমতার বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানান বাসদ নেতারা।

জয়ন্ত সাহা/এএফ

রংপুরের মসজিদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক, ক্ষোভ প্রকাশ মুসল্লিদের

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
রংপুরের মসজিদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে বিতর্ক, ক্ষোভ প্রকাশ মুসল্লিদের
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সভা করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ওই এলাকার মুসল্লিরা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত ওই সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২৩ জুন মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল পেতে দলীয় সভা করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সভায় উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল হাত উঁচিয়ে মনোহর বাদশাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, নায়েবে আমির আব্দুল বাছেত হারুনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

মিঠাপুকুর উপজেলার হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদরাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে প্রায়ই অন্য দলের সমালোচনা করা হয়, যা গিবতের পর্যায়ে পড়ে। মসজিদের ভেতরে গিবতের সুযোগ নেই। এছাড়া চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় কর্মসূচি করলে যদি মসজিদের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়, তবে তা মসজিদের আদবের লঙ্ঘন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করার জন্য মাঠ, খোলা জায়গা, উঠান বা বাড়ি রয়েছে। মসজিদে কেন আলোচনা হবে? মসজিদে তো সব দলের মানুষই নামাজ পড়তে আসেন। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।’

চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোহর বাদশা বলেন, ‘আমরা কুরআন-সুন্নাহর আলোচনা করি। ইসলামী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনীতি করি। এখানে চেয়ার-টেবিল আনা হয়েছিল। যদি বিষয়টি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে খারাপ দেখায়, তাহলে ভবিষ্যতে আর এমন ভুল হবে না।’

মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, ‘মসজিদটি গ্রামের মধ্যে, বাড়ির পাশে। ওই সময় সেখানে তেমন কোনো লোকজন ছিল না, তাই ব্যবহার করেছি। ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ। তবে মানুষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। এটি নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটিকে ভালোভাবে গ্রহণ করছে না। ভবিষ্যতে আমরা বিষয়টি খেয়াল রাখব।’

সেলিম সরকার/রিফাত/

দাউদকান্দিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৫০ এএম
দাউদকান্দিতে যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পুটিয়া এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একটি বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) ভোরে কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সারওয়ার হোসেন বাবু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করেন।

ভিডিওতে দেখা মহাসড়কের দৃশ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি উপজেলার পুটিয়া ইউ-টার্ন এলাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

বাদল/রিফাত/

সংসদে জামায়াতের এমপি মাসুদ 'হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?'

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
'হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?'
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ/ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হলো, অথচ হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করলেন না?”

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ড. মাসুদ বলেন, বাজেটের সফলতা সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মুখের হাসিতেই এর প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনায় দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে মনে হলেও বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ তার প্রতিফলন পায় না।

স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি মানবিক হাসপাতালে ৭০০ শয্যার মধ্যে ১৮০টি বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হতো, প্রতিদিন ২৩টি স্বাভাবিক প্রসব করানো হতো এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হতো। সেখানে ৬ শিশুর মৃত্যুর অজুহাতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অথচ হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কোনো জবাবদিহি দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালটিতে অধ্যয়নরত ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, ঘোষিত অগ্রাধিকারের তুলনায় বরাদ্দ কমানো হয়েছে এবং এমপিওভুক্ত প্রায় দুই লাখ শিক্ষক এখনো মে মাসের বেতন পাননি।

এ ছাড়া মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ড. মাসুদ বলেন, “মেগা প্রকল্প যেন মেগা দুর্নীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক অবকাঠামোর দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন।

এলিস/আমান