ম্যাচের আগেরদিন অনুশীলনে গিয়েছিলেন ঘন্টা দুয়েক আগে। তার প্রতিদানও তিনি পেয়েছেন ম্যাচে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে হাঁকালেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫১তম শতক। সবমিলিয়ে তার ক্যারিয়ারে এখন শতকের সংখ্যা ৮২।
গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন ১১১ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। যা তিনি সাজিয়েছিলেন ৭টি চারে, হয়েছেন ম্যাচসেরাও। এই ম্যাচে তিনি গড়েছেন আরও একটি রেকর্ডও। ছুঁয়েছেন তিনি ওয়ানডেতে ১৪ হাজার ক্যারিয়ার রানের বিশ্বরেকর্ডও। যা কিনা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম।
মাত্র ২৮৭ ইনিংসে তিনি স্পর্শ করেছেন এই মাইলফলক। এর আগে শচিন টেন্ডুলকার ৩৫০ ইনিংসে পৌঁছেছিলেন এই মাইলফলকে। অর্থ্যাৎ নিজের গুরুকেই ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে বরাবরই দারুণভাবে জ্বলে ওঠেন ভারতের এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার। অতীত ঘাঁটলে দেখা যায় ২০১২ এশিয়া কাপে মিরপুরে খেলেছিলেন ১৮৩ রানের এই অবিশ্বাস্য ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে হওয়া ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন ১০৭ রানের ইনিংস। সবশেষ ২০২৩ এশিয়া কাপে করেন ১২২। আর গতকালের ইনিংস তো এখনও সবার স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
৩৬ বছর বয়সে এসেও তিনি নিজের খেলার প্রতি যে নিবেদন দেখাচ্ছেন তা নিশ্চিতভাবেই তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণার। নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেওয়ার জন্য এখনও করে যান সীমাহীন পরিশ্রম। ঘাটতি রাখেন না নিবেদনে।
হাইভোল্টেজ ম্যাচ শেষে সঞ্চালক ইয়ান বিশপ প্রশ্ন করেছিলেন, এক সপ্তাহ ছুটি পেয়ে কেমন লাগছে? হাসতে হাসতে কোহলির উত্তর, ‘৩৬ বছর বয়সে এসে ভালোই লাগছে। যদি ২০-২৫ বছর বয়স হতো, তাহলে অন্যকিছু ভাবতাম। আপাতত কয়েকদিন নিজেকে বিশ্রাম দেব। কারণ এই ধরনের ম্যাচ খেলার সময় নিজেকে উজার করে দিতে হয়।’
ভারত তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চের ২ তারিখ। ম্যাচটি যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে সযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।