ব্রাজিল কি তার সেরা ছন্দটা ফিরে পেল? কার্লো আনচেলত্তির দল স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা হয়েই বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। তবে সেলেসাও সমর্থকদের জন্য তৃপ্তির জায়গা বোধ হয় অন্য। ব্রাজিল খেলবে, গোল করবে, ম্যাচ জিতবে; এটাই তো আর শেষ নয়। সুন্দর ফুটবলের বুননে হৃদয়ে নাচন তুলতে না পারলে দলটা ব্রাজিল কেন!
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এই কাজটিই করেছে। স্কটিশদের শুধু ৩-০ গোলে উড়িয়েই দেয়নি, ছন্দময় ফুটবলে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে সমর্থকদের মনে। জোড়া গোলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র জানান দিয়েছেন, এই বিশ্বকাপে নায়ক হতেই এসেছেন তিনি। সঙ্গে মাতেউস কুনিয়া গোলের পর সেই সার্ফিং নাচ নেচে জানিয়েছে দিয়েছেন, এই ব্রাজিলকে অনেক দূর টেনে নিতে পারেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে চিরচেনা এই ব্রাজিলকেই আসলে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধু এবারের বিশ্বকাপ বললে ভুল হবে। গত কয়েক বছর ধরেই তো ব্রাজিল ধুঁকছে। বাছাই পর্ব পেরুতেই উদ্বেগভরা সময় পার করতে হয়েছে। সংকটময় সময়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচের দ্বারস্থ হয় তারা। বর্ষীয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেন ব্রাজিলকে ছন্দে ফেরানোর দায়িত্ব।
নামটা কার্লো আনচেলত্তি বলেই ব্রাজিল সমর্থকদের মনে অন্তত বিশ্বাস ফিরেছিল যে, বিশ্বকাপে হেক্সা মিশন বুঝি এবার পূর্ণতা পাবে। কিন্তু কোথায় কি! মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র ম্যাচ শেষে চিন্তার ভাঁজই পড়েছিল ব্রাজিল সমর্থকদের মনে। হাইতির বিপক্ষে পরের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতলেও সেই চিন্তাটা কাটেনি। তবে স্কটল্যান্ড ম্যাচ দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। হয়তো এই ব্রাজিল এখনো সেই ‘সাম্বা ব্রাজিল’ নয়। তবে সাম্বার এক-আধটু ছোঁয়া তো আছেই। সঙ্গে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আছেন। তিন ম্যাচেই যিনি জাল খুঁজে নিয়েছেন। মধ্যমাঠে কাসেমিরোও উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন। পোস্টের নিচে আলিসনও দুরন্ত। ওদিকে আছেন ডাগআউটে আনচেলত্তির মতো একজন। তাহলে এই ব্রাজিলকে রুখবে কে!
ওদিকে নেইমারও তো তৈরি। প্রায় তিন বছরের অপেক্ষা শেষে আবারও হলুদ জার্সি গায়ে তুলেছেন সান্তোস ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটা যিনি অনেক আগেই নিজের করেছেন। পেছনে ফেলেছেন কিংবদন্তি পেলেকে। একটা বিশ্বকাপই হয়তো ইতিহাসে অমর করে তুলতে পারে নেইমার নামটি। গত তিনটি বিশ্বকাপেই দলের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। তবে এবার বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। চোটের কারণে তার বিশ্বকাপ দলে থাকা নিয়েই ছিল সংশয়।
যদিও বা সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্কোয়াডে জায়গা পান নেইমার, কিন্তু আদৌ মাঠে নামতে পারবেন কি না, এত দিন সেই প্রশ্নও ছিল। কারণ দলে ডাক পাওয়ার পরও চোট হানা দেয় তাকে। সেই চোট কাটিয়েই এখন মাঠ মাতাতে তৈরি তিনি। আনচেলত্তি চেয়েছেন নটআউটের আগে নেইমারকে পূর্ণ ফিট করে তুলতে। সেটি পেরেছেনও তিনি। স্কটল্যান্ড ম্যাচে বদলি নামিয়ে মূলত রাউন্ড অব বত্রিশের আগে নেইমারকে একটু শানিয়ে নিলেন।
৯৮১ দিন পর দেশের হয়ে খেলতে পারা নেইমারের আনন্দটা কেমন ছিল, তা বোঝা গেছে ম্যাচ শেষে তার চোখের জলে। এই নেইমারকে পেয়ে আবার ব্রাজিল দলও উজ্জীবিত। কুনিয়ার জায়গায় যখন নেইমারকে মাঠে নামানো হয়, তখন কুনিয়ার হাসিই বুঝিয়ে দিয়েছেন নেইমার তাদের কাছে কতটা মূল্যবান। ভিনিসিয়ুস তো এভাবে বলেছেন, ‘আমাদের আইডলের প্রত্যাবর্তন।’ ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি মনে করছেন, ‘নেইমারের মাঠে নামার মুহূর্তেই ম্যাচটা বদলে গেল।’
শুধু ম্যাচ কেন? ব্রাজিলকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশার মাত্রাও তো বদলে গেল!