ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩১, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

শেষ হলো ‘অ্যাডভান্সড কৃষি গবেষণা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১০:২৭ এএম
আপডেট: ২৫ মে ২০২৪, ১১:৩৫ এএম
শেষ হলো ‘অ্যাডভান্সড কৃষি গবেষণা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটে আয়োজিত প্রথম ‘অ্যাডভান্সড কৃষি গবেষণা’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ মে) ‘সম্ভাবনার উন্মোচন ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
 
এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪৫টি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ছয় শতাধিক শিক্ষক, গবেষক ও বিজ্ঞানী অংশ নেন।

কৃষি সেক্টরের সব বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, চীন ও কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫টি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সেরা ২৬ জন বিজ্ঞানী ও গবেষকদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে আটটি সেশনে তিন শতাধিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। 

বাসযোগ্য বিশ্ব গড়তে কৃষি গবেষণার বিভিন্ন কৌশল উপস্থাপন করা হয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে।

সাউরেসের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মুহাম্মদ মাহমুদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তৃতায় সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডা. মো. জামাল উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও গবেষক তৈরি করতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসাধারণ উন্নয়ন সাধন করেছে কৃষিবিজ্ঞানীদের কল্যাণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও বিজ্ঞানীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিকৃবির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মতিয়ার রহমান হাওলাদার, ইউজিসির পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলাম ও সাউরেস পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছফি উল্লাহ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীন দেশে ছয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে ৯টি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

সিলেট ব্যুরো/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

শিবচরে কৃষকদের মাঝে বীজ-সার বিতরণ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৪, ০৩:৫৯ পিএম
শিবচরে কৃষকদের মাঝে বীজ-সার বিতরণ
ছবি: খবরের কাগজ

মাদারীপুর জেলার শিবচরে কৃষকদের মাঝে পারিবারিক পুষ্টি বাগানের বীজ-সারসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে শিবচর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তিন শ কৃষকের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন প্রকল্পের আওতায় রবি মৌসুমে এ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ৩ মৌসুমের ২১ ধরনের বীজ, ছয়টি ফলের চারা, একটি বীজ সংরক্ষণ পাত্র, ২০ কেজি জৈব সার, ১০ কেজি রাসায়নিক সার, নেট, ঝাঁঝরি ও সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাকিব খানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। 

রফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/

ঘূর্ণিঝড় রিমাল: বরিশালে কৃষিতেই ক্ষতি ৭২৫ কোটি

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ৩০ মে ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রিমাল: বরিশালে কৃষিতেই ক্ষতি ৭২৫ কোটি
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বরিশালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে কৃষি খাতে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় শুধু মাছের ঘের ও কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ২১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ৫০৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়। এতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮১ কৃষক পরিবার ও ৩০ হাজার মৎস্যচাষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীযয় উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ৬ হাজার ১৬১ হেক্টর আয়তনের ৮৬ হাজার ৯৭৬টি পুকুর, ২ হাজার ৮৯৭ হেক্টর আয়তনের ৬ হাজার ৯০৬টি ঘেরের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। ৭ হাজার ৯২ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ১৫৯ টন চিংড়ি ও ৬৯৬ লাখ পোনা মাছ রয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২১৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া ১ হাজার ১৯টি নৌযান ও ৮৯৪টি জাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৩ কোটি ১ লাখ টাকা, ঝালকাঠিতে ৯ কোটি ৪৬ লাখ, পিরোজপুরে ৬৪ কোটি ৬৩ লাখ, পটুয়াখালীতে ৩৪ কোটি ৫ লাখ, ভোলা জেলায় ২১ কোটি ১ লাখ ও বরগুনা জেলায় ৩৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরিশাল খামারবাড়ি সূত্র জানায়, বিভাগের ৬ জেলায় ১৮ হাজার ২০৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। যার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৮ কোটি ৯৭ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬২০ হেক্টর জমির আউশ ধান, ২ হাজার ১৭১ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ৪৯১ হেক্টর জমির পান, ৫৪৫ হেক্টর জমির কলা, ৩৮০ হেক্টর জমির পেঁপে ও ৪৮২ হেক্টরের জমির বিভিন্ন জাতের ফল নষ্ট হয়েছে। 

এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ১১০ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, পিরোজপুরে ৮৮ কোটি ২১ লাখ ৩৭ হাজার, ঝালকাঠি ৭০ কোটি ৭৯ লাখ ৬৫ হাজার, বরগুনায় ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার ও ভোলায় ৪৮ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮১টি কৃষক ও কমপক্ষে ১০ হাজার মৎস্যচাষি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা এলাকার বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘৯০ জন সদস্য নিয়ে প্রায় চার একর জমির ওপরে মাছের ঘের করেছিলাম। চলতি মাসে ঘেরে প্রায় ২ কোটি টাকার পোনা ছেড়েছি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঘেরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে।’

কৃষি বিশেষজ্ঞ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মুজিবুল হক মিয়া বলেন, ‘রিমালের আঘাতে কৃষক ও মৎস্যচাষিদের যে ক্ষতির হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।’

ফলন ভালো, তারপরও মজুতে ঘাটতি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
ফলন ভালো, তারপরও মজুতে ঘাটতি

দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের ফলন ধারাবাহিকভাবে ভালো হলেও সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যথাক্রমে সরকারের পরিকল্পনায় ঘাটতি, অপর্যাপ্ত ধান-চাল সংগ্রহ, সাইলো বা গুদামের সংকট এবং বাজারজাতকরণে ব্যবসায়ী-মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের প্রভাব। এ ছাড়াও খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবদরা। 

একটি দেশের সব নাগরিক নিজ নিজ সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণকারী খাদ্যগ্রহণ করতে পারাকেই খাদ্য নিরাপত্তা বলা হয়। এ নিরাপত্তা তখনই নিশ্চিত হয় যখন সংশ্লিষ্ট দেশটির জনসংখ্যার চাহিদা অনুপাতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত বা স্টক থাকে।

ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত সাম্প্রতিক এক আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)র সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আমাদের দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রধান কারণটি হলো অপর্যাপ্ত খাদ্য মজুত। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি করে আর্থিক ফায়দা লুটতে সুযোগ নেয় ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্বভোগীর সিন্ডিকেট। এর প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং দাম বেড়ে যায়। এতে করে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টিসম্মত খাদ্যগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ তো রয়েছেই।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য কিনে মজুত করতে হবে। এর বিকল্প নেই। আমি মনে করি, ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ধানের ফলন একটি শক্তি। এ শক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সরকার এবারের বোরো ফসল থেকে কমপক্ষে ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য সংগ্রহ করলে সারা বছর বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের (২০২৩-২৪ অর্থবছরে) বোরো আবাদের ফলন ২ কোটি ২২ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। যা আগের বছর (২০২২-২৩ অর্থবছরে) ছিল ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী খবরের কাগজকে বলেন, ধারাবাহিকভাবে বোরো আবাদের জমির পরিমাণ বছর বছর বাড়ছে।

গত অর্থবছরে ৪৮ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়ে হয় ৫০ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর। 

এদিকে, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ-চলতি দায়িত্ব) মো. মনিরুজ্জামান খবরের কাগজকে জানান, গত ২১ এপ্রিল খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার বোরো ধানের ফলন থেকে ১৭ লাখ টন ধান ও চাল কিনবে সরকার। এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১১ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও ১ লাখ টন আতপ চাল রয়েছে। এ ছাড়াও ৫০ হাজার টন গম সংগ্রহ করা হবে।

তিনি জানান, আগের বছর মোট সাড়ে ১৬ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়েছিল। সরকার তার সংগ্রহ করা খাদ্যশস্যের মজুত থেকে সবচেয়ে বেশি বিতরণ করে বিভিন্ন বাহিনীর মাসিক রেশনের চাল ও আটা। এ ছাড়া যেসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য খাদ্যশস্য বিতরণ করে সেগুলো হলো টেস্ট রিলিফ (টিআর), গ্র্যান্ট রিলিফ (জিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক কার্ডের বিপরীতে স্বল্পমূল্যে বিক্রি।

দেশে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের তুলনায় সরকারের সংগ্রহের পরিমাণকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদগণ। খাদ্যশস্য সংগ্রহের এ স্বল্প পরিমাণের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় গুদাম বা সাইলোর অভাব। এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুদাম অব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত করে রাখার অভিযোগও রয়েছে। 

খাদ্য অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম নির্মাণ, পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়া গুদাম সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। 

তিনি জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওরাঞ্চল, চর ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ৪ লাখ পরিবারকে পারিবারিক খাদ্যশস্য মজুতের জন্য ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিকের তৈরি পাত্র বিতরণ করা হয়েছে। এটিকে ‍‍‍‘পারিবারিক সাইলো’ নাম দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে আপৎকালীন এক মাসের খাদ্যশস্য সংগ্রহ করে রাখা সম্ভব হবে। 

সংশ্লিষ্ট প্রকল্পটির পরিচালক রেজাউল করিম শেখ খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ভেঙে বা বন্যায় ভেসে গেলেও ওই পাত্রটি বা প্লাস্টিকের সাইলোতে সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের মান খাবার উপযোগী থাকবে। খাদ্যগুণ নষ্ট হবে না। এটিও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এক ধরনের প্রচেষ্টা। 

এ ছাড়াও সরকার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধান শুকানো, সংরক্ষণ ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ আধুনিক ধানের সাইলো নির্মাণ করছে। প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব শহীদুল আলম এনডিসি জানান, ২০২১ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৪ জেলার মোট ২৯ উপজেলায় ৩০টি সাইলো নির্মাণাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

কর্মকর্তারা জানান, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে গুদাম বা সংগ্রহশালার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কাজ করছে। এসব অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিমাণও বাড়বে।

এদিকে সরকার সেচের আওতা বৃদ্ধি, ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ ও কৃষি ঋণের প্রসারের মাধ্যমে প্রতি বছর খাদ্য শস্য উৎপাদনে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়াতে চেষ্টা করছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট আবাদি জমির পরিমাণ রয়েছে ৮৮ লাখ ২৯ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে বিদ্যমান সেচ ব্যবস্থার আওতায় আছে ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর জমি। বোরো আবাদে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ হেক্টর জমি ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট জমি এখনো এক বা দুই ফসলি।  

শিং মাছের জিনোম উন্মোচন

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ১০:১১ পিএম
আপডেট: ১৬ মে ২০২৪, ০৯:১৪ এএম
শিং মাছের জিনোম উন্মোচন
ছবি : খবরের কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, অতিরিক্ত আহরণ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে দেশীয় শিং মাছ বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। তাই এই প্রজাতিকে টিকিয়ে রেখে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রথমবারের মতো এই মাছের জিনোম সিকোয়েন্স (জীবনরহস্য) উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। বাকৃবির ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা খানম ও তার গবেষক দল এটি উন্মোচন করেন। একই সঙ্গে এই মাছের পুরুষ ও স্ত্রী মাছ নির্ধারণকারী সম্ভাব্য জিন শনাক্ত করেছেন তারা। 

বুধবার (১৫ মে) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে গবেষণার ফলাফল সবার সামনে তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গবেষক দল।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আফরিনা মুস্তারি, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম এবং গবেষণাকাজে সাহায্যকারী মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নিত্যানন্দ, স্বর্ণা, হালিমা, জেসমিন, কানিজ এবং সারা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. তাসলিমা খানম জানান, ২০২০-২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী স্বাদু পানির মোট উৎপাদিত মাছের ২ দশমিক ৫২ শতাংশ আসে শিং ও মাগুর মাছ থেকে। স্ত্রী শিং মাছের বৃদ্ধি পুরুষ শিং মাছ অপেক্ষা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। তাই এই মাছের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মনোসেক্স শিং মাছ উৎপাদন অন্যতম একটি উপায়। সফলভাবে মনোসেক্স শিং মাছ উৎপাদনের জন্য লিঙ্গ নির্ধারণকারী জিন শনাক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে শিং মাছের জিন নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে সংগৃহীত দেশীয় শিং মাছের নমুনা দিয়ে অধ্যাপক তাসলিমার নেতৃত্বে বাংলাদেশ, জাপান ও সুইডেনের এক দল গবেষক গবেষণাকাজ শুরু করেন।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশীয় শিং মাছের আটটি ফ্যামিলির প্রায় ৮০০টি পোনার নমুনা নিয়ে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিকোয়েন্সিং ও জিন শনাক্তকরণের কাজ করা হয়। সর্বাধুনিক সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তি ও সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে বায়োইনফরমেটিক অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে ওই জিনোম সিকোয়েন্স সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সময়কালে গবেষণাকাজে অর্থায়ন করে জাপান সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অব সায়েন্স (জেএসপিএস)।

গবেষণার ফলাফল সম্পর্কে অধ্যাপক ড. তাসলিমা খানম বলেন, গবেষণায় উদ্ভাবিত ড্রাফট জিনোম (প্রথমবার শনাক্তকৃত জিনোম) দিয়ে পুরুষ ও স্ত্রী শিং মাছ শনাক্ত করা সম্ভব, যা যেকোনো দেশীয় সব প্রজাতির মাছের ক্ষেত্রে এই প্রথম। এর মাধ্যমে শুধু স্ত্রী শিং মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে করে প্রাকৃতিক জলাশয় ছাড়াও কৃত্রিম পদ্ধতিতে অধিক ফলনশীল স্ত্রী শিং মাছ চাষ করা সম্ভব হবে। শিং মাছের জিনোম থেকে শুধু পুরুষ ও স্ত্রী শিং মাছ নির্ধারণকারী জিন ছাড়াও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যেমন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য দায়ী জিন শনাক্তকরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রচলিত হরমোন প্রয়োগ পদ্ধতির পরিবর্তে মার্কার অ্যাসিসটেড সিলেকশনের (এমএএস) মাধ্যমে স্বল্প সময়ে স্ত্রী শিং মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা অনেক বেশি স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। গবেষণাকাজের ফলাফল চলতি বছরের মার্চে জাপানিজ সোসাইটি অব ফিশারিজ সায়েন্স আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ওই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ‘কনফারেন্স পেপার’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, হৃদরোগসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শিং মাছ অনেক উপকারী। বিশেষ করে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য এটি বিশেষভাবে সমাদৃত। দেশীয় মাছের অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় ভিন্নধর্মী এ প্রজাতিতে স্ত্রী মাছের উৎপাদন বেশি। আর পুরুষ ও স্ত্রী মাছ নির্ধারণকারী সম্ভাব্য জিন শনাক্তকরণের এই গবেষণার ফলাফল স্ত্রী শিং মাছ শনাক্ত করে শিং মাছের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিলুপ্তপ্রায় এ মাছটি সংরক্ষণেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

দেশীয় শিং মাছ বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের একটি জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের প্রজাতি। প্রতি ১০০ গ্রাম শিং মাছে রয়েছে ২২০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত লৌহ উপাদান, যা লোহিত রক্ত কণিকার প্রধান উপাদান। এ ছাড়া এতে রয়েছে উন্নত মানের আমিষ ও ক্যালসিয়াম। পুষ্টি ও ঔষধি গুণাগুণের পাশাপাশি খেতে সুস্বাদু, কম কাঁটা ও স্বল্প চর্বিযুক্ত হওয়ায় মাছটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।

সাতক্ষীরায় লবণাক্ত জমিতে অভাবনীয় সাফল্য

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
আপডেট: ১৪ মে ২০২৪, ০৯:২৪ পিএম
সাতক্ষীরায় লবণাক্ত জমিতে অভাবনীয় সাফল্য
ছবি : খবরের কাগজ

গত কয়েক দশক ধরেই লবণাক্ততার কারণে জমিতে ফলে না ফসল। মিঠাপানির আধারগুলো গেছে শুকিয়ে। গ্রামের পাশ দিয়ে খাল প্রবাহমান থাকলেও পানির অভাবে শস্য আবাদ করতে পারেন না উপকূলের কৃষকরা। শুষ্ক মৌসুমে দিগন্তজুড়ে দেখা দেয় খরা। এরই মাঝে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে এই এলাকার কৃষকরা। পতিত থাকা ফসলি জমির কোণায় পুকুর করে মিঠাপানির সংস্থান করছেন তারা। সেই পানি দিয়ে এখন ফলানো হচ্ছে শস্য। দিগন্তজুড়ে শস্যের খেতগুলো ভুট্টা ও সবজির আবাদে সবুজ হয়ে গেছে। এক ফসলি জমিগুলো এখন তিন ফসলে রূপান্তর হচ্ছে। 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি ইউনিয়নের খুটিকাটা গ্রাম। আগে এখানকার কৃষকরা কেবল আমন ধান আবাদ করতে পারতেন। এখন সেই লবণাক্ত জমিতে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, শশা, লাল শাক, করলা, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন তারা। সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আশপাশের কৃষকদের। পতিত জমি এখন আশা দেখাচ্ছে তাদের। স্বপ্ন বুনছেন আগামীর জন্য। 

খুটিকাটা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নির্মল সরকার, রবীন্দ্রনাথ সরকার ও নিহার সরকার জানান, লবণাক্ততার কারণে তাদের গ্রামের শত শত হেক্টর কৃষিজমি পতিত থাকে। ফসল ফলে না ঠিকমতো। তা ছাড়া মিঠাপানির আধারগুলো শুকিয়ে গেছে। গত বছর সিনজেনটার সহযোগিতায় লবণাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে তারা। গ্রামের অধিকাংশ কৃষককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে পুকুর খনন করে দিয়েছে সিনজেনটা। এ ছাড়া আবাদের জন্য ভার্মিকম্পোস্ট সার প্ল্যান্ট, শস্যবীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেছে। 

তারা আরও জানান, কৃষকরা লবণাক্ত জমিতে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে নানা প্রকার ফসল উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে একেকজন কৃষক ৩০-৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। আরও অধিকসংখ্যক পুকুর খনন এবং গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো পুর্নখনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে বারো মাসই সবজিসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক (বিজনেস সাসটেইনেবিলিটি ও এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৃষকদের শস্য আবাদে পুকুর খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিনজেনটা। এতে করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে লবণাক্ত জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় অধিকসংখ্যক পুকুর খননের পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে করে কৃষকরা বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতে পারেন। সিনজেনটা কৃষকদের পুকুর খননের পাশাপাশি বীজ, ভার্মিকম্পোস্ট , সোলার ইরিগেশন ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বীজ ও কীটনাশকের পরিমিত ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের সর্বোচ্চ উৎপাদনের বিষয়ে কার্যকর পরামর্শ দিচ্ছে সিনজেনটা। সব মিলিয়ে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার পাশাপাশি রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে।’ সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজির অনেকগুলো লক্ষ্য পূরণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

জানা গেছে, খুটিকাটা গ্রামে শস্য আবাদের মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই রূপান্তর করতে গো গ্রো প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিনজেনটা। গত বছর শুরু হওয়া এ প্রকল্পে জড়িত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), বিনা, ডিএইর এসএসি প্রকল্প এবং এসআরডিআই। শুরুতে পুকুর খননের মাধ্যমে মিঠাপানির সংস্থান করা হয়। খুটিকাটা গ্রামের ৪০ জন কৃষক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। সেসব কৃষক জমির কোণায় কয়েকটি পুকুর খনন করেন। এক একটি পুকুর ১০-১৫ ফুট গভীর। খননে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। আর সেই পুকুর মিঠাপানির আধার হিসেবে কাজ করে। সবজি ও শস্য আবাদের সময় পুকুরের পানি দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। তবে মিঠা পানির সরবরাহ বাড়াতে এই ধরনের পুকুর খননেন পাশাপাশি বিদ্যমান খালের পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে এ অঞ্চলে আরও বেশি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উপকূলে বসবাসরত মানুষদের বারো মাসই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও খরার কারণে তাদের টিকে থাকা মুশকিল। সেখানে জমি পতিত থাকলে অর্থনৈতিকভাবে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের টিকে থাকার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উপায় বের করতে হবে আমাদের। কারণ ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা বন্ধ করা তো কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এমন পরিবেশে টিকে থাকতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সিনজেনটার এ প্রযুক্তি জেলার অন্যান্য গ্রামে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিখাতকে এগিয়ে আসতে হবে। মিঠাপানি সরবরাহের লক্ষ্যে খালে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সালমান/