দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের চাষি অক্ষয় চন্দ্র রায়। তিনি ১২০ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের শীতের সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি উচ্চফলনশীল শিম, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁয়াজ ও বরবটিসহ অন্যান্য সবজি চাষ করছেন। এই চাষের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সফল কৃষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অক্ষয় চন্দ্র রায়ের শীতের সবজি চাষের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তার শিম চাষ। তিনি ১০ শতক জমিতে সিম চাষ করে এক মাস আগে থেকে শিম বিক্রি শুরু করেছেন এবং ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। প্রতিরাতে তিনি দুই থেকে তিন মণ শিম বাজারজাত করছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। আগামী এক মাস পর্যন্ত শিম বিক্রি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন।
শিম খেতের পাশাপাশি অক্ষয় চন্দ্র রায়ের বেগুন, বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষও ভালো ফলন পয়েছেন। তার বেগুন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া তিনি জমির আইলে মুড়ি কাটা পেঁয়াজও আবাদ করেছিলেন। ইতোমধ্যে পেঁয়াজ মারাই করেছেন। ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।
একসময় অক্ষয় চন্দ্র রায়ের এই জমিতে লিচুর বাগান ছিল, তবে লিচু থেকে তেমন লাভ না হওয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে তিনি লিচুর গাছ কেটে ফেলেন। সেখানে শীতের সবজি চাষ শুরু করেন। কৃষি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে এবং নিজে জৈব সার প্রয়োগ করে জমি উপযুক্ত করার ফলে এখন তার চাষের ফলন ভালো হচ্ছে।
অক্ষয় চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমার এই ১২০ শতক জমিতে প্রতিবছর ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীতের শুরু থেকেই সবজির ব্যাপক চাহিদা ছিল। দামও ভালো পেয়েছি। তবে বর্তমানে অনেকেই সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে বাজারে সবজির পরিমাণ বেড়ে গেছে, যার কারণে দাম কিছুটা কমে যাচ্ছে।’
অক্ষয়ের স্ত্রী শোভা রানি বলেন, ‘আমাদের জমিটি বাড়ির খুব কাছে হওয়ায় আমরা দুজনেই মিলে কৃষি কাজ করি। মাঝে মাঝে কিছু শ্রমিকও নিযুক্ত করি। আমাদের জমিতে এখন অনেক সবজি রয়েছে। এই সবজি বিক্রি করে আমাদের সংসারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি এবং অধিক উচ্চফলনশীল সবজি চাষের জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। বর্তমানে জেলার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এসব সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। বাজারে সবজির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা দাম কমেছে। তবে আমরা আশা করি, দেশে উৎপাদিত সবজি চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবজি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকরা আরও ভালো ফলন পায় এবং তাদের আয় বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে আলু, পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’