দিনাজপুর সদর উপজেলার সালমাবাদ গ্রামের চাষি মোহাম্মদ আলী প্রথমবারের মতো স্কোয়াশ চাষ শুরু করে সাফল্য পেয়েছেন। গত নভেম্বর মাসের ১২ তারিখে জমিতে বিদেশি সবজি স্কোয়াশের বীজ বপন করেন তিনি। মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় তিনি স্কোয়াশ সংগ্রহ শুরু করেছেন।
মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। তিনি আগামী বছর দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করবেন। ২০ শতক জমিতে চাষ করা স্কোয়াশ থেকে তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা লাভ পাবেন বলে আশা করছেন।
তিনি আরও জানান, দিনাজপুর কৃষি অফিস থেকে বীজ, রাসায়নিক সার ও মালচিং পেপারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং পরামর্শ পেয়েছেন। এতে ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিটি স্কোয়াশের ওজন দেড় কেজি থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার স্কোয়াশ চাষে মোট খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এতে তিনি আয় করবেন ৮০-৯০ হাজার টাকা।
চাষি মোহাম্মদ আলী দুটি প্রজাতির স্কোয়াশ চাষ করছেন, হলুদ ও সবুজ। তিনি খেতের প্রতিটি গাছ থেকে সপ্তাহে দুটি বা তিনটি স্কোয়াশ সংগ্রহ করছেন।
তিনি বলেন, ‘সবুজ জাতের স্কোয়াশ বেশি ফলন দিচ্ছে। তবে হলুদ জাতটি দেখতে অনেক সুন্দর এবং নতুন। বাজারে স্কোয়াশের চাহিদা রয়েছে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই এটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’
শ্রমিক মোহাম্মদ বাবু মিয়া জানান, জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে পানির সেচ দেওয়ার কাজেও অংশ নেন তারা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গাছের ফল এসেছে, আর কিছু গাছে আবার ফুল আসছে। এটি নিশ্চিত করছে, আমাদের হারভেস্টিংয়ের সংখ্যা আরও বাড়বে।’
শ্রমিক ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা এখানে অন্য সবজিও চাষ করছি। তবে স্কোয়াশের জমিতে পরিচর্যা একটু আলাদা। মালচিং থাকায় ঘাসের সমস্যা নেই এবং শুধু পানির সেচ দিচ্ছি। মাঝে মাঝে গাছের নতুন কুসি ভেঙে দিতে হয়। সপ্তাহে দুবার স্কোয়াশ হারভেস্টিং হচ্ছে, যা আমাদের লাভের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।’
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, সদরে বর্তমানে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের স্কোয়াশের বীজ, সার ও মালচিং সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এখন স্কোয়াশ বাজারজাত করা যাচ্ছে এবং চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। চাহিদার কারণে আগামীতে স্কোয়াশ চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
কৃষক মোহাম্মদ আলীর স্কোয়াশ চাষের সাফল্য ইতোমধ্যে চাষিদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আগামীতে আরও বেশি কৃষক এই চাষে যুক্ত হবেন বলে কৃষি কর্মকর্তারা আশাবাদী।