নোয়াখালীতে ২৮ অক্টোবরের পর দুইদিনে বিভিন্ন থানায় ১৫ গায়েবি মামলা দিয়ে আইনজীবীসহ এক হাজার ১০০ জনকে আসামি করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ১৫১ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতি ভবনে বিএনপি-জামায়াত আইনজীবীদের সংগঠন 'ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট' এক সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন, ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান।
তিনি জানান, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের পর নোয়াখালীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদেরকে নির্বিচারে গণগ্রেপ্তার চালু করেছে পুলিশ। ঢাকা থেকে আসার পথে অসংখ্য নেতাকর্মীকে বাস থেকে নামিয়ে ভুয়া ঘটনায় গায়েবি মামলা দিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আসামিদের মধ্যে তিনজন আইনজীবীও রয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারসহ গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম জাকারিয়া।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদেরকে অতিউৎসাহী হয়ে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। কোনো ঘটনা ছাড়া গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। দুইদিনে দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতাসহ বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলোর একটিরও সত্যতা নাই। বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছি। আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাবো।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সমন্বয়ক অ্যাডভেকেট রবিউল হাসান পলাশ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, অ্যাডভোকেট কাজী কবির, আমির হোসেন, নিজাম উদ্দিন, মাহমুদ হাসান শাকিল প্রমুখ।
এরআগে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জেলায় ১২ মামলায় দুইদিনে ১৫১ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সুধারাম থানায় ২১, হাতিয়ায় দুই, কোম্পানীগঞ্জে ১৪, বেগমগঞ্জে ৩৭, সেনবাগে ১৮, চাটখিলে ছয়, সোনাইমুড়ীতে ২৫, চরজব্বরে ১২, কবিরহাটে দুই ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এমএ/এআর