ঢাকা ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণে নজর নয়াদিল্লির ভুলের কোনো সুযোগ নেই: ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ ‘ব্যাক টু অরিজিন’ থিমে অনুষ্ঠিত হলো মেরিল প্রেজেন্টস ‘মার্ভেল অব টুমরো’ সিজন ৫ একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি ক্যারিয়ারে আগে কখনো এতটা ভালো অনুভব করিনি: হ্যারি কেইন এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার খবর ভিত্তিহীন: রিয়াল মাদ্রিদ চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী শেষ বিদায়ের পথে খামেনি, শোকের আবহে তেহরান কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছে না স্কালোনি নতুন চাঁদ দেখা অবহেলিত এক বিধান রাবি অধ্যাপক এস এম আব্দুছ ছালাম মারা গেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের থাবা বিশ্বকাপে, ঝুঁকিতে খেলোয়াড়রা ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সিলেটকে সবজি রপ্তানির অন্যতম প্রধান হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে: বানিজ্য মন্ত্রী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের ব্যানার মেগাসান মেডিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ উদ্বোধনে ঈশ্বরদীতে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’ কেপ ভার্দেকে নিয়ে ডি পলের সতর্কবার্তা গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি ইরানের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত, খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের শুক্রবার আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগ মুক্ত দিবস কোচের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখছেন এনড্রিক রাজশাহীতে নদী রক্ষায় ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসাছাত্রীকে নিয়ে শিক্ষক উধাও, ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি বিয়ে করছেন আমির খান সিংগাইরে রাজমিস্ত্রির ঠিকাদারের মরদেহ মিললো পেঁপে খেতে নরওয়ে ম্যাচে খেলবে না পাকুয়েতা মতলবে ২ মাস ধরে গ্যাস পাইপ লিকেজ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

জাহাজভাঙা শিল্পে বছরে গড়ে মৃত্যু হয় ১৪ শ্রমিকের

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪০ পিএম
জাহাজভাঙা শিল্পে বছরে গড়ে মৃত্যু হয় ১৪ শ্রমিকের
ছবি : খবরের কাগজ

দেশের জাহাজভাঙা শিল্পে বছরে গড়ে ১৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ২০০৫ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত ১৮ বছর ২ মাসে ২৫১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এ শিল্পে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ২০১৯ সালে। তবে এরপর থেকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর হার কমে এসেছে। তবে মৃত্যুহার কমার পেছনে কারণ হিসেবে শ্রমিকের উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে, নাকি দেশের জাহাজভাঙা শিল্পে ভাটা পড়েছে, তা নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এ সেমিনারে জাহাজভাঙা শিল্প শ্রমিক, বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের নেতা, পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ নানা শ্রেণির স্টকহোল্ডার অংশ নেন। 

বিলসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই ৯ বছরে ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ১৬ জন, ২০১৬-তে ১৮ জন, ২০১৭-তে ১৯ জন, ২০১৮-তে ১৩ জন ও ২০১৯ সালে ২৩ জনের মৃত্যু হয়। তার মানে ২০১৫ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে শ্রমিকের মৃত্যু বেড়েছে জাহাজভাঙা শিল্পে। তবে এরপর থেকে কমে এসেছে। ২০২০ সালে ১০ জন, ২০২১-এ ৯ জন, ২০২২-এ ৭ জন ও ২০২৩ সালে ৭ জন। এই ৯ বছর গড়ে ১৩ দশমিক ৫৫ জনের মৃত্যু হয়। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিহত শ্রমিকদের গড় বয়স ৩৭ দশমিক ৭৭ বছর। নিহতদের মধ্যে ৩ জন কাটারম্যান, ২ জন ফিটারম্যান, ১ জন ওয়্যার গ্রুপ শ্রমিক এবং ১ জন ইলেকট্রিশিয়ান। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিবার ৭ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। ১ জনের পরিবার ৬ লাখ টাকা পেয়েছেন। বাকি ৩ জনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে জানা গেলেও টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।

ক্ষতিপূরণ সংক্রান্তে ট্রেড ইউনিয়ন সুপারিশ হিসেবে আইএলও কনভেনশন ১২১, মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন-১৮৫৫ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ জরুরি। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শ্রমিকরা আহত হওয়ার পর প্রথমবার মালিকপক্ষ তাদের চিকিৎসা করালেও পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার জন্য তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে যোগাযোগ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে অধিকাংশ আহত শ্রমিক ফলোআপ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ শ্রম আইন অনুযায়ী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত মজুরিসহ ছুটি পাওয়া মালিকের খরচে চিকিৎসা পাওয়া প্রত্যেক আহত শ্রমিকের অধিকার রয়েছে। আহত শ্রমিকরা স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেলে আড়াই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাওয়া আইনের বিধান রয়েছে। 

প্রতিবেদনে দেখানো হয়, জাহাজভাঙা শিল্পে ২০২৩ সালে মোট ৩৫টি দুর্ঘটনার মধ্যে ৭টি দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়। আর বাকি ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জনের পা ভেঙে গেছে, ২ জন মাথায় আঘাত পেয়েছেন, ২ জনের হাত ভেঙে গেছে, আগুনে দগ্ধ হয়েছেন ৩ জন, মালামাল আনলোডিং করার সময় আহত ২ জন ও সামান্য আহত হয়েছেন ১৩ জন। 

এসব ছাড়াও জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের ৭টি বঞ্চনার শিকার হতে হয় বলে বিলসের প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। এগুলো হলো ১. তাদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয় না, ২. লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ ঠিকাদারদের অধীনে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, বিধায় শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত বঞ্চনার শিকার হয় এবং ঠিকাদারদের দায় মালিক পক্ষ প্রায়ই অস্বীকার করে, ৩. শ্রমিকদের সবেতনে ছুটি দেওয়া হয় না, ৪. ২০১৮ সালে ঘোষিত নিম্নতম মজুরি আজও বাস্তবায়ন হয়নি, ৫. অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নাই, ৬. ঠিকাদারদের অধীনের নিয়োজিত শ্রমিকরা অনেক সময় কাজের মজুরিও পান না। ৭. প্রায়ই শ্রমিকদের মৌখিক নির্দেশে চাকরিচ্যুত করা হয়। 

২০২৩ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের হংকং কনভেনশন অনুস্বাক্ষর এবং পিএইচপি শিপ রিসাইক্লিংসহ আরও ৩টি শিপ ইয়ার্ড সনদ লাভসহ গ্রিন হওয়ায় জাহাজভাঙা শিল্পে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। তবে এসব গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বড়সংখ্যক শ্রমিক চাকরিচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব চাকরিচ্যুত শ্রমিকের বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে আবার নতুন করে সামাজিক সংকট তৈরি করবে। গ্রিন শিপ ইয়ার্ডগুলোতে শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে উন্নয়ন পরিলক্ষিত হলেও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও শ্রম অধিকার বিষয়ে আরও ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। তবে গ্রিন শিপ ইয়ার্ডগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, জাহাজ কাটায় উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে জাহাজ কাটা হয় বলে ইয়ার্ডে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং একই সঙ্গে পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। 

প্রতিবেদনে সাতটি সুপারিশ জানানো হয়- ১. শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে হবে, ২. কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম থাকতে হবে, ৩. শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স থাকতে হবে, ৪. শ্রমিকদের জন্য যুগোপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে হবে, ৫. শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, ৬. শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে, ৭. দৈনিক ৮ ঘণ্টার অতিরিক্ত কাজ না করানো এবং শ্রম বিধিমালা অনুসরণ করে প্রতি ঘণ্টা অন্তর ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জাহাজভাঙা শিল্পে পরিবর্তন ও ন্যায়বিচার প্রয়োজন দাবি করে বলা হয়, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ সব ধরনের শ্রম অধিকার, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান ইত্যাদি নিশ্চিত করা গেলে জাহাজভাঙা শিল্পে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে তাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
কোটালীপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ভ্যানচালক আটক
ছবি: খবরের কাগজ

গোপালগঞ্জে কোটালীপাড়ায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টাকালে রেয়াজুল শেখ (৪৩) নামে এক ভ্যান চালককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের জাঠিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ভ্যানচালক রিয়াজুল শেখ উপজেলার পূর্ণবর্তী গ্রামের বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে বাড়ির পাশের মন্দিরের সামনে খেলা করছিল। এসময় রিয়াজুল শেখ নামে ওই ভ্যানচালক আমার মেয়েকে মন্দিরের পিছনে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে আশপাশের লোকজন দেখে ফেললে তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে রিয়াজুল শেখকে থানায় নিয়ে যায়।

কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সেন বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানচালক রিয়াজুল শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাদল/এএফ

একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
একটি গাছ, দুই ভাই, এক মর্মান্তিক পরিণতি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

একই মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম, একই আঙিনায় বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোরের কত শত স্মৃতি জড়িয়ে থাকে যে পৈতৃক ভিটায়, সেই চেনা আঙিনাই আজ পরিণত হলো এক রক্তস্নাত যুদ্ধক্ষেত্রে। সম্পত্তির লোভ আর ক্ষণিকের অন্ধ আক্রোশ মুছে দিল আজন্মের ভাইয়ের বাঁধন। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন ছোট ভাইয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম (৫৩)।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই বুকফাটা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। যে পৈতৃক ভিটা একসময় দুই ভাইয়ের মেলবন্ধনের সাক্ষী ছিল, আজ তা-ই রঞ্জিত হলো আপন ভাইয়ের রক্তে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক জায়গাজমির ভাগ–বাঁটোয়ারা নিয়ে খুটাখালীর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আবদুর রহিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মনের ভেতর জমে থাকা সেই পারিবারিক ক্ষোভ আজ রূপ নেয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

সকালে দক্ষিণপাড়ার পুরোনো বসতভিটায় গিয়ে আচমকা গাছ কাটতে শুরু করেন ছোট ভাই আবদুর রহিম। পৈতৃক ভিটার গাছ কাটার খবর পেয়ে পূর্বপাড়া থেকে মনস্থির রাখতে পারেননি বড় ভাই নুরুল ইসলাম। রক্তের টানে আর পৈতৃক স্মৃতি রক্ষার্থে দ্রুত ছুটে যান সেই পুরোনো ভিটায়। কিন্তু তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি, এই যাওয়াই হবে তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে ক্ষোভ ও অভিমানে নুরুল ইসলাম নিজেও দুটি গাছ কাটেন। আর এতেই যেন ছোট ভাই আবদুর রহিম ও তাঁর পরিবারের ভেতরের সুপ্ত হিংস্রতা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বড় ভাইয়ের ওপর চড়াও হন আবদুর রহিম ও তাঁর স্বজনরা। চারপাশের আকুতি আর রক্তের সম্পর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবদুর রহিম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার বড় ভাই নুরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। কোপের পর কোপ বসতে থাকে নুরুল ইসলামের শরীরে আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে দক্ষিণপাড়ার আকাশ। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নুরুল ইসলাম। আর তখনই অপরাধবোধহীন হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

রক্তের সাগরে ভেসে যাওয়া নুরুল ইসলামকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে যখন তার মরদেহ পড়েছিল, তখন উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। সামান্য কিছু গাছের জন্য একটা তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে, তা যেন কেউই মেনে নিতে পারছিলেন না।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, জায়গাজমি ও গাছ কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পিঠে, পায়ে ও গলার নিচে একাধিক মারাত্মক কোপের আঘাত রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পুলিশ জানায়, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আবদুর রহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএন/

চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
চট্টগ্রামে গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় জেতার পর গোলবারে ঝুলে জয় উদযাপন করতে গিয়ে মাহিদুল (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে নগরীর হালিশহর বেগমজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিদুল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কোনোপদিয়া এলাকার রাসেল গাজীর ছেলে। সে নগরের কলসির দীঘিরপাড় এলাকায় তার ভগ্নিপতির সাথে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।

মাহিদুলের ভগ্নিপতি মো. রবিউল বলেন, শুক্রবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে যান মাহিদুল। খেলার এক পর্যায়ে গোল করার পর আনন্দ প্রকাশ করতে গোলপোস্টের ওপর ঝুলে পড়েন। তখন লোহার গোলপোস্টটি ভেঙে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এএফ/

৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার, তারপরই দলীয় ‘লাল কার্ড’
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ইয়াবা কারবারি জলমনি চাকমা তিন হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। 

শ্রক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি শহরের মারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার সহযোগী জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ধোপ্পাছড়া এলাকার নতুন বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৬)কেও গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তল্লাশি করে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে জলমনি চাকমার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্হা নিলো গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)।  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় 'গণঅধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সহ সভাপতি এস আই জলমনি চাকমাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে'। রাঙামাটি জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান রোমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জলমনি চাকমা সদর উপজেলার কুতুকছড়ি এলাকার বাসিন্দা।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দীন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ এই অভিযান  পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দুই আসামির হেফাজতে থাকা তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুজনই মাদক কারবারে জড়িত বলে স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের স্হানীয় মূল্য সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারেক সেকান্দার বলেন, 'আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে'। 

'মাদক কারবার নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে' বলেও যোগ করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

জিয়াউর রহমান জুয়েল/এসএন

 

গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
গৌরীপুরে শ্রমিক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল-ছাত্রদল নেতাসহ ৮ আসামি
মানিক মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন- গৌরীপুর পৌর শহরের নয়াপাড়া মহল্লার শোয়েব মুন্সি, অলি মুন্সি, নুহ মুন্সি, রাইশিমুল গ্রামের আল ইমরান খান, সাতুতী গ্রামের হাদিস, উজ্জ্বল এবং তারাকান্দা থানার বিসকা গ্রামের রিফাত খান।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, ছাত্রদল গৌরীপুর উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিফাত খানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা জানান, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল কিনতে গেলে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে সতিষা এলাকার একটি রাস্তায় নিয়ে দফায় দফায় নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার রাতে শোয়েব মুন্সির লোকজন তাকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’ এমন একটি বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করিয়ে নেয়। এরপর গুরুতর আহত মানিককে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বজনরা প্রথমে তাকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই রাত সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নির্যাতনের ফলে তার পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল।

নিহতের ভাই সুখ মিয়া জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সি ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে মানিককে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রিফাত/