চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডিমের দাম। মাসের ব্যবধানে প্রতিটি ডিমে বেড়েছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। আর এই দাম বাড়ার পেছনে আড়তদাররা দেখালেন মুরগির খাবারের দাম বৃদ্ধি ও চাহিদা বাড়ার অজুহাত।
চট্টগ্রামে কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর থেকে ডিম আসে। তবে সবচেয়ে বেশি আসে টাঙ্গাইল থেকে। চট্টগ্রামের রিয়াজুদ্দীন বাজার ও পাহাড়তলীতে পাইকারি দরে ডিম বিক্রি হয়। তবে পাইকারি ডিমের বড় অংশই বিক্রি হয় পাহাড়তলী বাজারে।
ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৮ সেপ্টেম্বর ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেয়। পরে পর্যায়ক্রমে মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর গত মাসে ডিমের দাম কমেও আসে। তবে এক মাসের ব্যবধানে আবারও চড়তে শুরু করেছে পণ্যটির বাজার।
নভেম্বর মাসে পাইকারিতে প্রতিটি লাল ডিম ৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সে দর ঠেকেছে ৯ টাকা ৬০ পয়সায়। অন্যদিকে পাইকারিতে প্রতিটি সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ টাকা ১০ পয়সায়।
নগরের পাহাড়তলী বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, ডিমের আড়তগুলোয় ডিমের সরবরাহ ভালো। পাহাড়তলীর অন্তত ১৫টি আড়ত চট্টগ্রাম শহরসহ জেলা উপজেলায় ডিম পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিল। মিনি ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে ডিম পাঠানো হচ্ছে নগরীর বিভিন্ন বাজারে।
আড়তদাররা জানান, সরকার ভারত থেকে ডিম আমদানি ঘোষণার পর ডিমের দাম কমে যায়। গত মাসে প্রতিটি ডিমের দাম ১১ টাকা থেকে ৮ টাকায় নেমে আসে কিন্তু দাম কমলেও বেচাকেনায় ভাটা পড়ে। তাই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রতি গাড়িতে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তার ওপর মুরগির খাবারের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে মুরগির খাবার কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হলে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা বা তারও বেশি। এ কারণে খামারিদের কাছ থেকে বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিয়ে, পিকনিকসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থাকায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে। তাই দামটা একটু বেড়েছে।
চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল শুক্কুর খবরের কাগজকে বলেন, ‘শীতকালে বিয়ে, পিকনিকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়। এ সময় ডিমের চাহিদা বাড়ে। তার ওপর মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় খামারিরা ডিমের দাম বাড়িয়েছে। এসব কারণে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে।’
এদিকে খুচরা দোকানগুলোয় প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩৫ টাকা ও সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের ঈদগাঁ এলাকার ভাই ভাই স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. লোকমান হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতে ১০০ পিস ডিম ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমাদের গাড়ি ভাড়া, মজুরি খরচ আছে। আমরা ডজনপ্রতি ১৩৫ টাকায় বিক্রি না করলে লোকসান হবে।’
ওই এলাকার বাসিন্দা মো. হান্নান বলেন, ‘ডিম, আলু, মুরগি তেল, চিনি- কোনো পণ্যের দাম কমছে না। অথচ এসব পণ্য ছাড়া চলা মুশকিল। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে দাম বাড়িয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। আর ভোগান্তিতে পড়ছি আমরা সাধারণ মানুষ।’
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সুষ্ঠু তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীরা যে যার মতো ব্যবসা করে যাচ্ছেন, দাম বাড়াচ্ছেন। কঠোর সাজা না পেলে তো অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি করার প্রবণতা বাড়বে। তাই শুধু ডিম নয়, পুরো বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কঠোর তদারকি ব্যবস্থার বিকল্প নেই।’
তারেক মাহমুদ/জোবাইদা/অমিয়/