সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের মাঠে যেন প্রবীণদের মেলা বসেছে। বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টা থেকে সালদিগা, খাগাওরা, বাউধরন, গোফরাপুর, গয়াসপুর গ্রামের প্রায় শতাধিক প্রবীণ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। সবাই সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ। কেউ নাতির মোটরসাইকেলে চড়ে, কেউবা ছেলের হাত ধরে উপস্থিত। তাদের সবাইকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন নলুয়া প্রবাসী সংঘের নেতারা। এ সময় তাদের দেওয়া হয় উপহার সামগ্রী।
পাঁচ গ্রামের সব প্রবীণ এক হয়ে আনন্দে মেতে উঠেন। অনেকেই নিজের বাল্যবন্ধুদের ফিরে পান। এ যেন নলুয়া হাওরের পাড়ে ‘প্রবীণপ্রাণ’। প্রবীণদের এই মিলনমেলার আয়োজন করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া প্রবাসী সংঘ।
মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জগন্নাথপুর উপজেলার সালদিগা, খাগাওরা, বাউধরন, গোফরাপুর, গয়াসপুর গ্রামে প্রায় ১০০ প্রবীণকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এ সময় সুধি তালুকদার নামে এক প্রবীণ বলেন, ‘আমাদের বয়স হয়েছে। এখন আর কারও কোনো কাজে লাগি না আমরা। তারপরও তারা আমাদের সম্মাননা দিচ্ছে, তাই অনেক ভালো লেগেছে। এমন আর কখনো দেখিনি। এই সংগঠনের মানুষের মধ্যে মানবতা আছে। বন্যার সময়ও তারা অনেক সহযোগিতা করেছে মানুষজনকে। আজকে আমাদের মতো বৃদ্ধ লোকদের সম্মাননা দিচ্ছে।’
নলুয়া প্রবাসী সংঘের সভাপতি রুহুল আমিন মুল্লুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৫নং চিলাউড়া হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রিন্সিপাল এম মখলিছুর রহমান, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খসরু, রানীগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মুহিত, সহকারী প্রধান শিক্ষক মুজাহারুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল ওদুদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আজির উদ্দিন ও অর্থ সম্পাদক মাসুক মিয়া।
অনুষ্ঠানের আয়োজক নলুয়া প্রবাসী সংঘের সভাপতি রুহুল আমিন মুল্লুক বলেন, ‘অনেকে অনেক ধরনের অনুষ্ঠান করে। কিন্তু আমরা একটু ব্যতিক্রম চিন্তা করেছি। আমাদের সবার ঘরেই একজন করে হলেও প্রবীণ আছেন। যারা আজীবন পরিবারের দায়িত্ব পালন করে সমাজের নানা কর্মে বিভিন্ন অবদান রেখেছেন। কিন্তু বয়স হলেই তারা হয়ে পড়েন নিঃসঙ্গ। বয়সের কারণে চলাফেরা করতে পারেন না। তারা বিভিন্নভাবে সমাজে কাজ করেছেন। এলাকার বিভিন্ন কাজে তাদের অবদান আছে। এই ভাবনা থেকে আমরা তাদের সম্মাননা দেওয়ার চিন্তা করি। কারণ তাদের সন্তান আমরা। তারা আমাদের গড়ে তোলেছেন। সেই দায়বোধ থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘এত প্রবীণদের একসঙ্গে এভাবে সম্মাননা দেওয়া আগে কখনো হয়েছে বলে আমি শুনিনি। তাই এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আমি অনেক আনন্দিত। প্রবাসী নলুয়া সংগঠন সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণদের যে সম্মাননা দিয়েছে এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এলাকায় যারা গুণী ব্যক্তি রয়েছেন তাদের খুঁজে বের করে তারা এভাবে সম্মাননা দেবে বলে বিশ্বাস করি। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’
উল্লেখ্য, নলুয়া প্রবাসী সংঘের সদস্যরা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। বছরের বিভিন্ন সময় তারা দেশে এসে এলাকার উন্নয়নমূলক, সামাজিক, মানবিক কাজ করেন। যেকোনো দুর্যোগে এলাকার মানুষদের সাহায্য করেন।