চট্টগ্রামের সদরঘাট থানাধীন নেভাল-ট এলাকায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পর ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা মামলার আসামি দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আদালত আসামিদের ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রবিবার (১০ মার্চ) ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম সিরাজাম মুনীরা এ রায় দেন।
দণ্ডিতরা হলেন- মো. রুবেল (২৮) ও মো. আব্বাস (৩৪)।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর দীর্ঘতম বড়ুয়া জানান, খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রুবেল ও আব্বাসকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
রায়ের সময় আব্বাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি রুবেল জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফরহাদ হোসেন জাকির নামে আরেক যুবককে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৫ মে ভোরে প্রতিদিনের মতো ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মঞ্জু সেন সদরঘাট থানার নেভাল-টু ঘাট এলাকায় হাঁটতে যান। প্রতিদিন সকাল আটটার মধ্যে বাসায় ফিরলেও সেদিন তিনি বাসায় ফিরেননি। এ কারণে পরিবারের লোকজন তার খোঁজ করতে বের হন। কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে না পেয়ে তার ছেলে রতন কান্তি সেন ওইদিন কোতোয়ালি থানায় একটি নিঁখোজ ডায়েরি করেন।
পরদিন ২৬ মে দুপুরে সদরঘাট থানার নেভাল-টু এলাকায় প্যাসিফিক গ্রুপের একটি পরিত্যাক্ত ভবনের পাশের ঝোপঝাঁড়ে মঞ্জু সেনের মরদেহ খুঁজে পায় পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ রুবেল ও আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মঞ্জু সেনের সোনার কানের দুল, হাতের আংটি ও মোবাইল ছিনিয়ে নিতে তাকে প্যাসিফিক গ্রুপের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। রুবেল ওই ভবনের দারোয়ান ছিলেন।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দেন।
এমএ/