প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পার হলেও কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভায় বর্জ্য পরিশোধনের জন্য কোনো স্থায়ী ‘ডাম্পিং স্টেশন’ গড়ে তোলা হয়নি। ফলে এ পৌর এলাকায় প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ টন বর্জ্য উন্মুক্তভাবে লোকালয়, মহাসড়কের পাশে, কখনো খাল বা পুকুরপাড়ে ফেলে রাখা হয়। এভাবে অপরিকল্পিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পৌরসভার স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া বর্জ্যের দুর্গন্ধ জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সম্প্রতি দেবিদ্বার পৌরসভার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় কুমিল্লা-সিলেট অঞ্চলিক মহাসড়ক ও ছোট-বড় সংযোগ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে পৌরসভার সাইলচর, কোড়ের পার, বারেরার ফুলগাছতলা, মহিলা কলেজ গেট, ছোট আলমপুর ইকরা নগরীসহ অন্তত ১০-১২টি উন্মুক্ত স্থানে পৌরসভার বর্জ্য ফেলছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এসব বর্জ্যের স্তূপে রয়েছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, বোতল, পলিথিন, কার্টন থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁর পচাগলা খাবার। খাবারের খোঁজে এসব আবর্জনার স্তূপ ঘাঁটছে কুকুর ও বিড়াল। ভনভন করে উড়ছে মাছি। এসব ময়লার ভাগাড় আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে মহাসড়কের পাশে সরকারি প্রায় ১০-১৫টি বড় বড় গাছও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় পাশ দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষজন দুর্গন্ধে অস্থির হয়ে ওঠেন। কোনো রকমে নাক চেপে এসব এলাকা পাড় হন তারা। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চান পৌরবাসী।
জানা গেছে, ২০০২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮.১৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। গত বছরের ১৭ জুলাই দেবিদ্বার পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাম্পিং স্টেশন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। গত সাত মাসেও ডাম্পিং স্টেশনের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশ পৌরবাসী।
দেবিদ্বার পৌরসভার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সুদীপ রায় বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছি। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বাসাবাড়ি ও সড়কের পাশে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় ভাগাড়। এসব জায়গায় দুর্গন্ধে নাক চেপে পথ পার হতে হচ্ছে পথচারীদের।’
প্রভাষক নুর মোহাম্মদ বাবু বলেন, ‘যেসব জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে- তার আশপাশ দিয়ে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ময়লার উৎকট দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পার হলেও কেন ময়লা-আবর্জনার আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি লুৎফর রহমান বাবুল বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশন না থাকার কারণে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। খোলা জায়গায় ফেলে রাখা এসব ময়লার দুর্গন্ধে নাগরিকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা আবর্জনার স্তূপ আগুন জ্বালিয়ে ধ্বংস করতে গিয়ে সড়কের পাশের গাছগুলোকে মেরে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।’
দেবিদ্বার উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ময়নাল হোসেন বলেন, ‘একটি ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘ একুশ বছর এখানে কোনো নির্বাচিত মেয়র ছিলেন না। এখন যেহেতু এখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন; তাই তার কাছে পৌরবাসীর দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এ ছাড়া তার নির্বাচনি ইশতেহারেও ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছিল। তাই আমরা আশা করছি, দ্রুত এখানে ডাম্পিং স্টেশন গড়ে তুলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।’
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই, তাই যেখানে সুবিধা সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। ডাম্পিং স্টেশন হলে সেখানেই ময়লা ফেলা হবে।
দেবিদ্বার পৌরসভার মেয়র সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ৯ কোটি টাকার প্রকল্পের বরাদ্দ এসেছে। এরই মধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তখন পৌরসভার সব ময়লা ওখানে নিয়ে যাওয়া হবে।’