ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী চলতি বছরও পথচারীদের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ শুরু করছেন।
মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকেল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনি পরিবহন স্টাফ ও পথচারীদের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করেন। গত আট বছর ধরে তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ফেনী পৌরসভার আয়োজনে পৌর চত্বরে প্রতিদিন ২০০ পথচারী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন তিনি। একই সঙ্গে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ হাজার লিটার সুপেয় পানি বিতরণ করেন।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ‘প্রতিবছর আমার নিজ উদ্যোগে রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করি। আট বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিবহনচালক, শ্রমিক ও পথচারীদের কথা চিন্তা করে ইফতার বিতরণ করছি। একজন রোজাদারকে ইফতার দিতে পেরে নিজের মাঝে যে আনন্দ তৃপ্তি পাওয়া যায়, অন্য কিছু করে তা পাওয়া যায় না।’
মেয়র আরও বলেন, ‘প্রথম রমজানে আমরা ৫০০ প্যাকেট দিয়ে শুরু করেছি। রমজান যত বাড়ে ততই প্যাকেটের পরিমাণও বাড়ে। ৫০০ থেকে শুরু হয়েছে কয়েক দিন পরে এক হাজার, এরপর এক হাজার ৫০০ প্যাকেট পর্যন্ত আমরা এখানে বিতরণ করি। যত বেশি চাহিদা হবে তত বেশি প্যাকেট আমরা দেব, যেন কোনো মানুষ খালি হাতে না যায়।’
সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস দেখে সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবেন। এমনটা হলে আমার ইফতার দেওয়া শতভাগ সফল হবে এবং রোজায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ অনাহারে ও কষ্টে দিন কাটাবে না।’
ইফতার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা মাঈন উদ্দিন সুমন বলেন, ‘ইফতারের প্রতিটি প্যাকেটে খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি, মুড়ি, পানি থাকে। এ ছাড়াও প্রতি শুক্রবার বিশেষ দিন হিসেবে গরুর মাংসের বিরিয়ানি দেওয়া হয়।’
ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, ‘পৌর মেয়র মহিপাল মোড়ে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাকে দেখে সমাজের বিত্তবানরাও উৎসাহিত হবেন।’
শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিবহনচালক-শ্রমিক নয়, আশপাশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও সড়কে পথচারীদের মাঝেও তিনি ইফতার তুলে দেন। এ ছাড়া প্রতিদিন অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষরা তার ব্যক্তিগত অফিসের সামনে বসে ইফতার করেন।
ইফতারের পরে রোজাদারদের জন্য চা চক্রেরও আয়োজন করেন তিনি। আর এসব চা চক্র আয়োজন চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। ইফতার ও চা চক্রে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি হাজারও মানুষ।
শহরের সহদেবপুর থেকে ইফতার নিতে আসা আবদুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে রমজানের ইফতার আমি এখান থেকেই নিচ্ছি। মেয়রের দেওয়া খাবারেই আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করি।’
একটি ওষুধ কোম্পানির গাড়িচালক আবদুল মোতালেব বলেন, ‘কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাই। ফেরার পথে মেয়রের দেওয়া ইফতার নিয়ে যাই। সারা দিন পরিশ্রম করে ইফতার তৈরি করা সম্ভব হয় না। ৩০ রমজানের মধ্যে অধিকাংশ দিনই এখান থেকে ইফতারি নিয়ে যাই।’
ট্রাকচালক জব্বার আলী বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতার করতে অনেক সমস্যা হয়। সময় ও ইফতার কোনোটার মিল হয় না। ফলে অনেক সময় আমরা পানি পান করার মাধ্যমে ইফতার করি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেখছি, মহিপাল মোড়ে এলে খাবারের প্যাকেট পাই। এটা দিয়েই আমরা ইফতার করি।’