ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি টাকা খেলেন, জেল পেলেন! উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের পর ম্যাকডোনাল্ডস-বাস টার্মিনাল এখন ক্লিনিক অপহরণ-মানবপাচার রোধে টেকনাফে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাজেটে অনেক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী খামেনির দাফন, ট্রাম্পের কটাক্ষ আর ‘রফা’ প্রসঙ্গে নতুন বিতর্ক চকবাজারে আশিক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে শ্যামনগরে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার মাদক জব্দ স্বাস্থ্যখাতে খারাপ চর্চার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সুসম্পর্ক স্থাপনে হজ

ফেনীতে সড়কের পাশে ইফতারি হাতে মেয়র

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৪, ১১:২৫ এএম
ফেনীতে সড়কের পাশে ইফতারি হাতে মেয়র
ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীর হাত থেকে বাসের কর্মীরা ইফতার নিচ্ছেন। ছবি : খবরের কাগজ

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী চলতি বছরও পথচারীদের মাঝে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ শুরু করছেন। 

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বিকেল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনি পরিবহন স্টাফ ও পথচারীদের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করেন। গত আট বছর ধরে তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ফেনী পৌরসভার আয়োজনে পৌর চত্বরে প্রতিদিন ২০০ পথচারী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন তিনি। একই সঙ্গে পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১০ হাজার লিটার সুপেয় পানি বিতরণ করেন।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ‘প্রতিবছর আমার নিজ উদ্যোগে রোজাদারদের জন্য ইফতারের আয়োজন করি। আট বছর ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিবহনচালক, শ্রমিক ও পথচারীদের কথা চিন্তা করে ইফতার বিতরণ করছি। একজন রোজাদারকে ইফতার দিতে পেরে নিজের মাঝে যে আনন্দ তৃপ্তি পাওয়া যায়, অন্য কিছু করে তা পাওয়া যায় না।’

মেয়র আরও বলেন, ‘প্রথম রমজানে আমরা ৫০০ প্যাকেট দিয়ে শুরু করেছি। রমজান যত বাড়ে ততই প্যাকেটের পরিমাণও বাড়ে। ৫০০ থেকে শুরু হয়েছে কয়েক দিন পরে এক হাজার, এরপর এক হাজার ৫০০ প্যাকেট পর্যন্ত আমরা এখানে বিতরণ করি। যত বেশি চাহিদা হবে তত বেশি প্যাকেট আমরা দেব, যেন কোনো মানুষ খালি হাতে না যায়।’

সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস দেখে সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হবেন। এমনটা হলে আমার ইফতার দেওয়া শতভাগ সফল হবে এবং রোজায় বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষ অনাহারে ও কষ্টে দিন কাটাবে না।’ 

ইফতার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা মাঈন উদ্দিন সুমন বলেন, ‘ইফতারের প্রতিটি প্যাকেটে খেজুর, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপি, মুড়ি, পানি থাকে। এ ছাড়াও প্রতি শুক্রবার বিশেষ দিন হিসেবে গরুর মাংসের বিরিয়ানি দেওয়া হয়।’

ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, ‘পৌর মেয়র মহিপাল মোড়ে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তাকে দেখে সমাজের বিত্তবানরাও উৎসাহিত হবেন।’
শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিবহনচালক-শ্রমিক নয়, আশপাশের মসজিদ, মাদ্রাসা ও সড়কে পথচারীদের মাঝেও তিনি ইফতার তুলে দেন। এ ছাড়া প্রতিদিন অসহায়, হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষরা তার ব্যক্তিগত অফিসের সামনে বসে ইফতার করেন।

ইফতারের পরে রোজাদারদের জন্য চা চক্রেরও আয়োজন করেন তিনি। আর এসব চা চক্র আয়োজন চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। ইফতার ও চা চক্রে অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি হাজারও মানুষ।

শহরের সহদেবপুর থেকে ইফতার নিতে আসা আবদুল করিম বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে রমজানের ইফতার আমি এখান থেকেই নিচ্ছি। মেয়রের দেওয়া খাবারেই আমি পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করি।’

একটি ওষুধ কোম্পানির গাড়িচালক আবদুল মোতালেব বলেন, ‘কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাই। ফেরার পথে মেয়রের দেওয়া ইফতার নিয়ে যাই। সারা দিন পরিশ্রম করে ইফতার তৈরি করা সম্ভব হয় না। ৩০ রমজানের মধ্যে অধিকাংশ দিনই এখান থেকে ইফতারি নিয়ে যাই।’

ট্রাকচালক জব্বার আলী বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতার করতে অনেক সমস্যা হয়। সময় ও ইফতার কোনোটার মিল হয় না। ফলে অনেক সময় আমরা পানি পান করার মাধ্যমে ইফতার করি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে দেখছি, মহিপাল মোড়ে এলে খাবারের প্যাকেট পাই। এটা দিয়েই আমরা ইফতার করি।’

বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হলে জাহাজ ভাঙা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পিএইচপি শিপ স্ক্র্যাপার্স লিমিটেডের  মো. মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে খাজা আজমীর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. সেলিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট পদে রাইজিং গ্রুপের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রিট খারিজ হয়ে গেলে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেননি। 

এতে সর্বোচ্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. নুর উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজের গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন— মো. জাহিদুল হক (প্যাসিফিক স্টিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড), মো. তসলিম উদ্দিন (কেআর শিপ রিসাইকেলিং ইয়ার্ড), এস.এম. নূরুন নবী (বিওবি রিসাইকেলার্স), মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ (মেসার্স ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), উবাইদা আসাদী (প্রগ্রেসিভ শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), হোসাইনুল আরেফিন (জনতা স্টিল লিমিটেড) এবং এ.কে.এম. সাইফ উল্লাহ সায়েক (মাস্টার স্টিল অ্যান্ড অক্সিজেন লিমিটেড)।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। ৮৪ ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোট দিয়েছেন। 

বিকেল ৩টায় নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করেন, বিএসবিআরএ নির্বাচনি বোর্ড-২০২৬-এর চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সদস্য মো. রাসেল প্রদানিয়া, আশরাফ মাহমুদ ও শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা । 

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহসভাপতি পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ও সদস্য পদে নয়জনের মধ্যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
গরম থেকে রক্ষা পেতে ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।

এদিকে সকাল থেকে সূর্যের প্রখর খরতাপে পুড়ছে সিলেট। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতায় ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষজন এই গরমে চরম কষ্টে আছেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে বের হচ্ছেন।  

তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে সিলেট নগরীর রাস্তায় মানুষের চলাচলও অনেকটা কম। সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলও অনেকটা কম। গরমের কারণে বেশী বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে দুপুর ৩টায় এই তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এই বছরের মানে ২০২৬ সালের আজকে পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।’

রিফাত/

সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: এ্আই

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের রাতাল গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর সোয়া একটার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই শিশুর নাম রহমত আলী (৭)।  শিশুটি একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় কয়াখাস  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানান, শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বাড়ির পাশেই  নিজেদের একটি ছোট পুকুরে গোসল করতে যায় শিশুটি। এক পর্যায়ে   পানিতে ডুবে যায়। স্বজন ও স্থানীয়রা অনেক চেষ্টায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

কামাল মৃধা/এসএন

ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়গুলো থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে শতাব্দী প্রিয় সেই বিলুপ্তপ্রায় স্বাদ।

স্থানীয় সূত্র ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগেও ধনবাড়ী উপজেলার উল্লেখযোগ্য যমুনার শাখা ঝিনাই নদী, বংশাই নদী-খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও কৃত্রিম জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ পাওয়া যেত। তখন অনেক মানুষ মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেই পেশাজীবী মানুষেরা বাধ্য হয়েছেন অন্য পেশায় ছুটতে। মৎস্য সংশ্লিষ্টদের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে শতাধিক প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, ভেটকি, ভোলা, মাগুর, শৈল, চেলা, টাকি, চাঁদা, বাইশ, কাকিলা, খলিসা ও গুলশা মাছ উল্লেখযোগ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার বেশিরভাগ মাছই একসময় ধনবাড়ীর জলাশয়ে প্রচুর পাওয়া যেত।

মৎস্য কর্মকর্তারা দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-নদী-নালা ও খাল-বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া, চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক ব্যবহার, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয়ে সেচ দিয়ে মাছ ধরা এবং ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ শিকার।মূল কারণ হচ্ছে ধনবাড়ী উপজেলার বিল গুলোকে লিজ দেওয়া। 

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৯৮  বছর বয়সী হোসেন আকন্দ গতানুগতিক সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম, বিলে বিলে মাছ ভরা থাকত। জাল ফেললেই যেন মাছ উঠত। বর্ষায় তো পানির সঙ্গে ঘরেই মাছ ঢুকে যেত। কিন্তু এখন খাল- বিলে মাছের দেখাই মেলে না। পানিটাই যেন মরে গেছে।

বানিয়াজান ইউনিয়নের ইউসুপ মিয়া দীর্ঘদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, বহু বছর ধরে মাছ ধরে বেচে খেয়েছি। সংসারের সব ব্যয় মিটিয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে যা আসে, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ কেনার কথাও ভাবতে পারে না। এক কেজি ছোট টেংরা মাছের দাম এখন ৫০০-৬০০ টাকা! আমলা মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই সুরে কথা বলেন।

তারা জানান, এক সময় আমলা বাজারে দেশীয় ছোট মাছের কোনো সংকট ছিল না। গরিব-দুঃখী সবাই স্বল্পমূল্যে এসব মাছ কিনে খেতে পারতেন। বর্তমানে অল্প যা পাওয়া যায়, তার দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ধনবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছেলেবেলায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরত এবং মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো চিত্রে দেখে জানবে পুঁটি, টেংরা, মাগুর মাছের অস্তিত্বের কথা!’

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দেশীয় মাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এছাড়া সেচ দিয়ে মাছ শিকার ও জলাশয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবেও দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কিছু প্রজাতি এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন চায়না দুয়ারী জাল বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন এবং বর্ষায় মাছের অবাধ চলাচলের জন্য নদী-খালের সংযোগ রক্ষা করা।

গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘স্হানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা গেলে দেশীয় মাছ রক্ষা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সময় ক্ষয় নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জুয়েল রানা/রিফাত/

টাকা খেলেন, জেল পেলেন!

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
টাকা খেলেন, জেল পেলেন!
আটক পিয়ন অমিত কুমার সরকার। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কলেজের পিয়ন অমিত কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বিচারিক হেফাজতে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ইসরাত জাহান সুচি। তিনি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি একই উপজেলার বড়বড়িয়া এলাকার ইমামুল হকের মেয়ে। 

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীর বাবার করা মামলার অভিযোগ সূত্রে জানান, গত ১২ মার্চ কলেজের অফিস কক্ষের সামনে ফর্ম ফিলাপের ৩হাজার, ৫শ টাকা নিয়ে গেলে কলেজের অফিস সহকারি অমিত কুমার সরকার এর সাথে তার দেখা হয়। ওই আসামি ইসরাত জাহান সুচি কে জানায়, তার কাছে ছবি এবং টাকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে সে ফর্ম ফিলাপ করে দিবে।

গত ২৯ জুন পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ করা হলেও আসামি অমিত কুমার সরকার ভুক্তভোগীর মায়ের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে বলে প্রিন্সিপাল স্যার প্রবেশপত্র নেওয়ার জন্য রাজশাহীতে আছে।

পরের দিন ইসরাত ও তার বাবা কলেজে গেলে আসামি অমিত কুমার সরকার বলে শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র সমস্যার কারণে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। ১ জুলাই অমিত কুমার সরকার ইসরাত জাহান সূচীর মায়ের মোবাইল নাম্বারে ফোন করে জানায় তার প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে শিক্ষার্থী ও তার বাবা  প্রিন্সিপাল এর কাছে গিয়ে জানতে পারেন ফর্ম ফিলাপ হয়নি। এতে  শিক্ষার্থী প্রথম পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্থ হন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম আরো জানান, এ ঘটনায় মামলা হলে গতরাতে (৩ জুলাই) বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রসঙ্গত শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ওই শিক্ষাথীর পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মৃধা/খাদিজা রুমি/