ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করল বাংলাদেশ প্রবীণ সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহেদ কামালের জীবনাবসান স্মার্টফোনের দাম কমাল টেকনো পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজও বাস্তবায়ন করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জলবায়ু সংকটে ইউরোপের অগ্নিদহন সিঙ্গাপুরসহ তিন দেশে এনআইডি কার্যক্রম চলতি মাসে শুরু অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ত্যাগের কথা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস

রাজস্ব কর্মকর্তাকে মারধরে মামলা, আটক ১

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:২২ পিএম
আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৭ পিএম
রাজস্ব কর্মকর্তাকে মারধরে মামলা, আটক ১
ছবি : খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে মারধরের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাতে আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

পরে রাতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত হৃদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ইদন মিয়ার ছেলে।

মারধরের শিকার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার বিকালে ছয় থেকে সাত জন যাত্রী সাত আটটি ব্যাগে করে প্রচুর মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নিয়ম অনুসারে কাস্টমস হাইজের স্ক্যানিং কক্ষে না গিয়ে তারা মালামালগুলো রাস্তায় অপেক্ষামান একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে ফেলে। এ সময় কাস্টমসের পক্ষ থেকে এসব মালামাল স্ক্যানিং কক্ষে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় একটি চক্র। তারা বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন ও হামলায় উদ্যত হন। এর মাঝে অটোরিকশাটি মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষও তাদের পিছু নেয়। বিজিবি ক্যাম্প পার হওয়ার পর অটোরিকশাটি আটক করা হলে চক্রটি তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ও কাস্টমসের দুই সিপাহী মো. জুম্মান ও মো. ইমন মিয়া আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।

আহত কামরুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। বাকি দুইজন চিকিৎসা নিলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে ‘লাগেজ পার্টি’ হিসেবে পরিচিত। ঈদ সামনে রেখে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০-২১ জনের চক্রটির বেশির ভাগই এলাকার প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য এবং তাদের বাড়ি সীমান্ত এলাকায়।

আহত রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সাত-আটটি ব্যাগে বিপুল পরিমাণ মালামাল ছিল। স্ক্যানিং করতে রাজি না হয়ে তারা উল্টো আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে তারা অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়। কিছু দুর যাওয়ার পর আটক করা হলে কবির, আওলাদসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়।

তিনি আরও জানান, যাত্রীরা ভারতীয় নাকি বাংলাদেশি সেটি জানা যায়নি। তবে তাদের সঙ্গে স্থানীয় একটি বড় চক্র রয়েছে। কিছুক্ষণ পরই একজন আসেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য। এবং আমাকে আশ্বস্ত করেন এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হবে না।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম খবরের কাগজকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। 

জুটন বনিক/জোবাইদা/অমিয়/

একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক
অসচেতনতায় নিভে গেল একই পরিবারের তিন প্রাণ। ছবি: খবরের কাগজ

একটি পুকুর, কয়েক মুহূর্তের অসতর্কতা, তারপর তিনটি ছোট্ট প্রাণের নিথর দেহ—এভাবেই শেষ হয়ে যায় কত পরিবারের স্বপ্ন।

দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর মিছিল যেন দীর্ঘ থেকেই দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শোকের মাতম উঠছে, অথচ একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারত অমূল্য জীবনগুলো।

এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নরসিংদীর মনোহরদীতে পুকুরে গোসল করতে নেমে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা সম্পর্কে দুজন মামাতো-ফুফাতো বোন একজন ফুফু হয়।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহমদপুর গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

মৃতরা হলো—  ময়মনসিংহ ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানা এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে ফাতেমা (৮), তুহিন মিয়ার মেয়ে আয়েশা ওরফে আশামনি (১২) এবং মুফাচ্ছের মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১৩)।

এদের মধ্যে দুইজন স্থানীয় কওমি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুজন সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন, একজন ফুফু হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাতেমা ও আশামনি চর আহমদপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলের ও মেয়ের ঘরের নাতনি। অপরদিকে সুমাইয়া খোরশেদ মিয়ার ছোট ভাইয়ের মেয়ে। তারা শনিবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিন শিশুকে পুকুরে না দেখে বাড়ির এক ছোট শিশু বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মনোহরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক বেদনাদায়ক ঘটনা । এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাওন খন্দকার শাহিন/এসএন

বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইকেলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লু হলে জাহাজ ভাঙা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। 

নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে পিএইচপি শিপ স্ক্র্যাপার্স লিমিটেডের  মো. মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে খাজা আজমীর স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. সেলিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট পদে রাইজিং গ্রুপের পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রিট খারিজ হয়ে গেলে তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারেননি। 

এতে সর্বোচ্চ ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন, ফোর স্টার শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মো. নুর উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজের গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন— মো. জাহিদুল হক (প্যাসিফিক স্টিল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড), মো. তসলিম উদ্দিন (কেআর শিপ রিসাইকেলিং ইয়ার্ড), এস.এম. নূরুন নবী (বিওবি রিসাইকেলার্স), মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ (মেসার্স ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), উবাইদা আসাদী (প্রগ্রেসিভ শিপ রিসাইকেলিং ইন্ডাস্ট্রিজ), হোসাইনুল আরেফিন (জনতা স্টিল লিমিটেড) এবং এ.কে.এম. সাইফ উল্লাহ সায়েক (মাস্টার স্টিল অ্যান্ড অক্সিজেন লিমিটেড)।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলে দুপুর একটা পর্যন্ত। ৮৪ ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোট দিয়েছেন। 

বিকেল ৩টায় নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করেন, বিএসবিআরএ নির্বাচনি বোর্ড-২০২৬-এর চেয়ারম্যান মো. আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

এ সময় উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন, বোর্ডের সদস্য মো. রাসেল প্রদানিয়া, আশরাফ মাহমুদ ও শিপব্রেকিং শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা । 

নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সহসভাপতি পদে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ও সদস্য পদে নয়জনের মধ্যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড
গরম থেকে রক্ষা পেতে ঠান্ডা পানীয় পান করছেন। ছবি: মামুন হোসেন

সিলেটে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।

এদিকে সকাল থেকে সূর্যের প্রখর খরতাপে পুড়ছে সিলেট। এই তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গরমের তীব্রতায় ছোট-বড় সবার হাঁসফাঁস অবস্থা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও শ্রমজীবী মানুষজন এই গরমে চরম কষ্টে আছেন। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কেউ মাথায় ছাতা দিয়ে বের হচ্ছেন।  

তবে প্রচণ্ড গরমের কারণে সিলেট নগরীর রাস্তায় মানুষের চলাচলও অনেকটা কম। সেই সঙ্গে যানবাহন চলাচলও অনেকটা কম। গরমের কারণে বেশী বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে দুপুর ৩টায় এই তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭. ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা এই বছরের মানে ২০২৬ সালের আজকে পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি ছিল প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায়ও তীব্র।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।’

রিফাত/

সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর
ছবি: এ্আই

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের রাতাল গ্রামে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর সোয়া একটার দিকে ওই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই শিশুর নাম রহমত আলী (৭)।  শিশুটি একই গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় কয়াখাস  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানান, শনিবার দুপুর সোয়া একটার দিকে বাড়ির পাশেই  নিজেদের একটি ছোট পুকুরে গোসল করতে যায় শিশুটি। এক পর্যায়ে   পানিতে ডুবে যায়। স্বজন ও স্থানীয়রা অনেক চেষ্টায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

কামাল মৃধা/এসএন

ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী, খাল-বিল ও মুক্ত জলাশয়গুলো থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ।

স্থানীয় ও মৎস্য সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় মাছ সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে শতাব্দী প্রিয় সেই বিলুপ্তপ্রায় স্বাদ।

স্থানীয় সূত্র ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে জানা গেছে, মাত্র এক দশক আগেও ধনবাড়ী উপজেলার উল্লেখযোগ্য যমুনার শাখা ঝিনাই নদী, বংশাই নদী-খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও কৃত্রিম জলাশয়ে প্রচুর পরিমাণে দেশি মাছ পাওয়া যেত। তখন অনেক মানুষ মাছ ধরাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেই পেশাজীবী মানুষেরা বাধ্য হয়েছেন অন্য পেশায় ছুটতে। মৎস্য সংশ্লিষ্টদের প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের মিঠাপানির প্রায় ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে বর্তমানে শতাধিক প্রজাতি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে টেংরা, পুঁটি, বাইম, বোয়াল, গজার, আইড়, ভেটকি, ভোলা, মাগুর, শৈল, চেলা, টাকি, চাঁদা, বাইশ, কাকিলা, খলিসা ও গুলশা মাছ উল্লেখযোগ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকার বেশিরভাগ মাছই একসময় ধনবাড়ীর জলাশয়ে প্রচুর পাওয়া যেত।

মৎস্য কর্মকর্তারা দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে-নদী-নালা ও খাল-বিল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া, চায়না দুয়ারী জালের ব্যাপক ব্যবহার, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, জলাশয়ে সেচ দিয়ে মাছ ধরা এবং ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ শিকার।মূল কারণ হচ্ছে ধনবাড়ী উপজেলার বিল গুলোকে লিজ দেওয়া। 

যদুনাথপুর ইউনিয়নের ৯৮  বছর বয়সী হোসেন আকন্দ গতানুগতিক সেই দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, ছোটবেলায় দেখতাম, বিলে বিলে মাছ ভরা থাকত। জাল ফেললেই যেন মাছ উঠত। বর্ষায় তো পানির সঙ্গে ঘরেই মাছ ঢুকে যেত। কিন্তু এখন খাল- বিলে মাছের দেখাই মেলে না। পানিটাই যেন মরে গেছে।

বানিয়াজান ইউনিয়নের ইউসুপ মিয়া দীর্ঘদিন মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, বহু বছর ধরে মাছ ধরে বেচে খেয়েছি। সংসারের সব ব্যয় মিটিয়েছি। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আগের মতো মাছ আর পাওয়া যায় না। দেশীয় মাছ এখন খুবই দুর্লভ। বাজারে যা আসে, তার দাম এত বেশি যে সাধারণ মানুষ কেনার কথাও ভাবতে পারে না। এক কেজি ছোট টেংরা মাছের দাম এখন ৫০০-৬০০ টাকা! আমলা মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই সুরে কথা বলেন।

তারা জানান, এক সময় আমলা বাজারে দেশীয় ছোট মাছের কোনো সংকট ছিল না। গরিব-দুঃখী সবাই স্বল্পমূল্যে এসব মাছ কিনে খেতে পারতেন। বর্তমানে অল্প যা পাওয়া যায়, তার দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ধনবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছেলেবেলায় গ্রামের মানুষ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরত এবং মাছ খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন সেই ছোট মাছের দেখা পাওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো চিত্রে দেখে জানবে পুঁটি, টেংরা, মাগুর মাছের অস্তিত্বের কথা!’

ধনবাড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট, নদ-নদীতে পানির সংকট, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের কারণে দেশীয় মাছ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। এছাড়া সেচ দিয়ে মাছ শিকার ও জলাশয়ে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবেও দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করছি।’

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কিছু প্রজাতি এখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন চায়না দুয়ারী জাল বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ, জলাশয় সংরক্ষণ ও পুনঃখনন এবং বর্ষায় মাছের অবাধ চলাচলের জন্য নদী-খালের সংযোগ রক্ষা করা।

গঠনমূলক পরামর্শ হিসেবে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘স্হানীয় প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চায়না দুয়ারী জালের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা গেলে দেশীয় মাছ রক্ষা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ধনবাড়ী উপজেলার নদ-নদী ও খাল-বিল একসময় দেশীয় মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল। সেই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সময় ক্ষয় নয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহল।

জুয়েল রানা/রিফাত/