উদ্বোধনের চারদিন অতিবাহিত হলেও জৌলুশ কমেনি ফেনীতে আল্লাহর ৯৯টি নাম সংবলিত ইসলামিক ভাস্কর্যের। দিন থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে নান্দনিক এই ভাস্কর্য এক পলক দেখতে ভিড় জমাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শনার্থীরা। প্রতিনিয়ত দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জিত স্থাপত্যটি দেখতে।
পবিত্র রমজানে আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত এই ভাস্কর্য ফেনী পৌরসভার উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে। ভাস্কর্যের স্থানের নাম দেওয়া হয় ‘শান্তি চত্বর’। আল্লাহর ৯৯টি নামের সাত হাজার এলইডি লাইট ব্যবহার করা হয়েছে। ভাস্কর্যের ওপরে চারটি এলইডি জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়েছে। এক কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় তিন মাসের কর্মযজ্ঞে নির্মিত ভাস্কর্যটির নান্দনিক সৌন্দর্যে আরও এক ধাপ এগিয়েছে পৌরসভা।
ভাস্কর্যটির এলইডি পর্দায় কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল, বিভিন্ন ইসলামিক ও সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম প্রচার করা হবে। এই স্থাপনাটি নিয়ে এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শুধু ফেনী নয়, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের ইসলামিক ভাস্কর্য স্থাপনের দাবি করছেন দর্শনার্থীরা।
নোয়াখালী থেকে ভাস্কর্যটি দেখতে এসেছেন আকবর হোসেন, নূর হোসেন ও আমিনুল্লাহ। তারা বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম ইসলামের বিভিন্ন স্থাপনাগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। চোখ-ধাঁধানো আলোকসজ্জায় সজ্জিত ভাস্কার্য যে কারও নজর কাড়বে। আমরা এটি দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’ কুমিল্লা থেকে আসা শাকিব রবিন বলেন, ‘এই ধরনের ভাস্কর্য দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রয়োজন। তাই দেশের সব পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান, প্রতিটি জেলায় এই ধরনের ইসলামিক ভাস্কর্য স্থাপন করা হোক।’
দর্শনার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মুরাদ বলেন, ‘এই ভাস্কর্যটি স্থাপনের ফলে পুরো এলাকায় ইসলামের পরিপূর্ণ শান্তি বিরাজ করছে। আগ্রহ নিয়ে ছাগলানাইয়া উপজেলা থেকে ছুটে এসেছি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে মনমুগ্ধকর কোরআন তেলাওয়াত উপভোগ করছি।’
ফেনী আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘উদ্বোধনের পর থেকে এটি দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এ দেশের ৯০ ভাগ মুসলমান। প্রতিটি মুসলমান জন্মগতভাবে ইসলাম ও কোরআনের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে। এখানে এসে কিছুটা সময় কোরআনের বাণী শুনে হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পায়। এজন্য সবাই আগ্রহ নিয়ে ছুটে আসে।’
ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন, ‘উদ্বোধনের পর থেকে ভাস্কর্যটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে যেভাবে মানুষ ছুটে আসছে, এটি আমি চিন্তাও করিনি। এর মধ্যে নেট দুনিয়ায় এটি ভাইরাল হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও এটি স্থান পেয়েছে। নোয়াখালী কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এটি দেখতে আসছে। এটি দেখার জন্য দিন দিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রচার হচ্ছে।’
মেয়র আরও বলেন, ‘পৌরসভার অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে এ ভাস্কর্য। মুসলিম দেশ হিসেবে ইসলামের বিভিন্ন নিদর্শন, আল্লাহ ও রাসুলের নাম মানুষের সামনে উপস্থাপন করা, মুসলমান হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকে এই ভাস্কার্যটি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি।’
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, ‘মিজান ময়দানে জেলার সব বড় বড় প্রোগ্রাম হয়। এখানে আন্তর্জাতিক কেরাত সম্মেলন, ঈদের জামাতসহ ইসলামিক সকল প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। সে ময়দানের সামনে আল্লাহর নাম সংবলিত এ ‘শান্তি চত্বর’ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ফেনীর মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী আবারও তা প্রমাণ পেয়েছে জনগণ।’ গত ১৭ মার্চ রবিবার ইফতারের পর ফেনী শহরের মিজান রোডের মাথায় ইসলামিক স্থাপত্যটি উদ্বোধন করা হয়। যা এরই মধ্যে দেশজুড়ে সাড়া পড়েছে।