কখনো নগদ টাকা, কখনো স্বর্ণালংকার, কখনো গবাদিপশু কিংবা বসতঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র, আবার কখনো মোটরসাইকেল। হরহামেশা চুরি-ছিনতাই যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এমনকি দিনে দুপুরেও প্রশাসনের নাকের ডগায় হচ্ছে চুরি। তিন মাস ধরে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাসিন্দারা। অথচ এসব ঘটনা রোধে আশানুরূপ উদ্যোগ মেলেনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এবার এই উপজেলায় এক তরুণ নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজ উদ্যোগে পুরো গ্রামে ২৫টি সিসি ক্যামেরা বসিয়েছেন তিনি।
এই যুবকের নাম শেখ সাইফুল ইসলাম রুবেল। সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুরের কেদারখীল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আলোকিত যুব সংঘ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের চেয়ারম্যান তিনি।
সোমবার (২৫ মার্চ) বিকেলে উপজেলার আলোকিত যুব সংঘের সদস্য এবং সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
আলোকিত যুব সংঘ নামে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাংবাদিক শেখ সাইফুল ইসলাম রুবেল খবরের কাগজকে জানান, তাদের এলাকা থেকে চুরি-ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করতে গ্রামে এসব সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কেদারখিল গ্রামই প্রথম সিসি ক্যামেরার আওতায় এসেছে। এটি এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা উপজেলার একমাত্র গ্রাম। নিরাপত্তার স্বার্থে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় আমরা এই উদ্যোগকে সফল করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন দেশে বসবাসরত এলাকার প্রবাসীরাও নজরদারি করার সুযোগ পাবেন। ২৫টি সিসি ক্যামেরা বসাতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্পটে আরও ২৫টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। গ্রামের শতাধিক যুবকের অংশগ্রহণ এবং আলোকিত যুব সংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম তাজুল ইসলাম নিজামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ সালা উদ্দিন, খোনকার বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
ইফতেখারুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/