চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রবাসীর মালামাল ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ২৫ মার্চ নগরের বায়জিদ লিংক রোড থেকে প্রবাসীর গাড়ি থামিয়ে লুট করে চক্রটি। রবিবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, কখনো অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক, কখনো কাস্টমস কর্মকর্তা আবার কখনো ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের টার্গেট করত চক্রটি। চক্রের একজন সদস্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশ এলাকায় অবস্থান করতেন। তিনি বিদেশ ফেরত বিভিন্ন যাত্রীদের বিভিন্ন তথ্যসংগ্রহ করতেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজর এড়ানোর জন্য সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেলযোগে যাত্রীদের অনুসরণ করে সুবিধামতো ফাঁকা জায়গায় সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামাতেন। নিজেদের ডিবি পুলিশ, কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চেকপোস্টের কথা বলে ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতেন।
গত ২৫ মার্চ বিদেশ ফেরত প্রবাসী নুর উদ্দিন আশরাফীকে (৫৪) নগরের বায়েজিদ থানাধীন লিংক রোড এলাকায় চারজন ব্যক্তি হাতে ওয়াকিটকির ইশারায় গাড়ি থামানোর সিগন্যাল দেন। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার গাড়িতে ওঠে বসে। পরে কোতোয়ালি থানাধীন টাইগারপাস নিয়ে যায়। পরে নুর উদ্দিনের কাছ থেকে ১২টি স্বর্ণের হাতের বালা, ৯টি স্বর্ণের রিং, ৬টি স্বর্ণের লকেটসহ সর্বমোট ৩০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও তিনটি মোবাইল নিয়ে যান তারা।
এ ঘটনার পর ২৮ মার্চ নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তোভোগী। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ।
ওই দিন চকবাজার থানা এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেন সিফাত (২২) ও মুজিবুল হাসান তাসির (১৯) নামের দুজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর ৩০ মার্চ কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে শাহদাত হোসেনকে ও হাটহাজারি থানা এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলম মোহাম্মদ হানিফ ও মির আহম্মদ বিপ্লবকে আটক করা হয়।
তাদের তথ্যের ভিত্তিতে দুটি মোবাইল, ল্যাপটপ, স্বর্ণ এবং নগদ ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম ওবায়েদুল হক বলেন, ‘এ চক্রটি নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রবাসীদের জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও দামি মালামাল লুট করে। আমরা চক্রটিকে ধরতে পেরেছি। তাদের থেকে লুট করা মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।’