ঢাকা ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
জবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন বিশ্বকাপে দুই পেনাল্টি মিসে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়লেন মেসি মেসির পেনাল্টি মিস, শুরুর গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে মিশর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে চুক্তি করল ইন্দোনেশিয়া-ভারত টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-পেকুয়া, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শুরুতেই এগিয়ে গেল মিশর, পেনাল্টি মিস করলেন মেসি জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চসিকের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন ইবিতে 'লোক্যাল ইমপ্যাক্ট অব গ্লোবাল লার্নিং' বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স বার্নার্দো সিলভার কাছে ক্ষমা চাইলেন রদ্রি কসবায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যা আমার হাতে পুলিশ নয়, মুরগি আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চিনিকল চালুর দাবিতে ঢাকায় বড় কর্মসূচির ঘোষণা তারাকান্দায় মাদক সেবন করায় তিনজনের কারাদণ্ড আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ফরাসি রেফারি বাংলাদেশে মসজিদের সংখ্যা প্রকাশ, শীর্ষে কোন বিভাগ? মিশরের বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে নামছে আর্জেন্টিনা এনসিপির সমাবেশে হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে: আইনমন্ত্রী স্বেচ্ছাচারিতার অবসান, জবাবদিহিতা ফিরেছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবিত বিলে বিএমইউ-এর চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার শঙ্কা বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নফাঁস ও অনলাইন জালিয়াতি রোধে সংসদে বিল পাস ভারতীয় চিকিৎসায় শ্রবণশক্তি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশি শিশু জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নে শিক্ষা, গবেষণা ও সুশাসনকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদদের জামালপুরে আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার ঈশ্বরগঞ্জে একরাতে ১০ গরু চুরি, আতঙ্কে কৃষক মুক্তির আগেই বিতর্ক থানচিতে ফিরেছে শতাধিক পর্যটক, পথে আরও ১৮ জন ইবি ছাত্রশক্তির কমিটিকে ‘হাইব্রিড পকেট কমিটি’ দাবি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ধৈর্যই আমাদের জয়ের চাবিকাঠি:  স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে

কারাগারে সেবা-বাণিজ্য

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৫১ এএম
কারাগারে সেবা-বাণিজ্য

খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের ভেতরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামি, কয়েদির থাকার জায়গা থেকে শুরু করে খাবার বিতরণ, মোবাইল ফোনে কথা বলা, সব জায়গায় পদে পদে টাকা গুনতে হয়। টাকা দিলেই কারাবিধি না মেনেই একজন ব্যক্তি ইচ্ছেমতো মোবাইলে কথা বলতে পারেন। আর সবকিছুই চলে নগদ টাকার মাধ্যমে। কারাগার থেকে বের হওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হলে তারা খবর প্রকাশ না করার শর্তে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে গড়ে প্রতিদিন ১৭০ থেকে ২০০ জন বন্দি থাকেন। তবে তিনি কয়েদি হোন কিংবা হাজতি, এই কারাগারের ভালো জায়গায় থাকতে হলে প্রত্যেককেই মাসিক ভাড়া দিতে হয়। ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতি বন্দির কাছ থেকে মাসিক ভাড়া হিসেবে তিন হাজার থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে দেড় হাজার থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। মহিলা ওয়ার্ডেরও একই অবস্থা।

পুরুষ বা মহিলা, যেকোনো আসামিকে কারাগারে পাঠানো হলে ওইদিনই তাকে পুরো মাসের অগ্রিম ভাড়া দিয়ে থাকার জায়গা নির্ধারণ করতে হয়। কেউ টাকা দিতে না পারলে তার জায়গা হয় ওয়ার্ডের টয়লেটের পাশের খালি মেঝেতে। কোনো আসামি যদি এক দিন বা এক সপ্তাহ পর জামিন পান, তারপরও তাকে পুরো মাসের ভাড়া দিয়ে আসতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে কারাগার থেকে জামিনে আসা মাটিরাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা মো. হোসেন বলেন, ‘জেলখানায় টাকা ছাড়া আসামির কোনো মূল্য নেই। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে কয়েদিকে ম্যানেজার (ওয়ার্ডের ম্যাড) বানিয়ে বন্দিদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হয়। আমি ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলাম। থাকার জায়গার ভাড়া হিসেবে ওয়ার্ডের ম্যাডকে দেড় হাজার টাকা দিতে হয়েছে।’

১০ শতাংশ কমিশনে নগদ টাকার লেনদেন
কোনো কারাগারেই নগদ টাকা লেনদেনের নিয়ম নেই। বন্দিদের প্রত্যেকেরই একটি করে প্রিজনার ক্যাশ (পিসি) বা ব্যক্তিগত তহবিল কার্ড রয়েছে। তবে খাগড়াছড়ি কারাগারে পিসি কার্ডের চেয়ে বেশি লেনদেন হয় নগদ টাকার। আর এসব নগদ টাকা প্রবেশ করানো হয় সাক্ষাৎ কক্ষের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে পাইপের মাধ্যমে। ডিউটিরত কারারক্ষীরা এর জন্য বন্দিদের কাছ থেকে ‘জেলারের কমিশন বাবদ’ শতকরা ১০ টাকা অর্থাৎ প্রতি হাজারে ১০০ টাকা করে কেটে রাখেন। এ ছাড়া বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও আসামি বা তার স্বজনের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। সাক্ষাতের আগে বাইরের ক্যান্টিনে মোবাইল জমা রাখতে ৫০ টাকা দিতে হয়েছে। পরে সাক্ষাৎ করতে দিতে হয়েছে আরও ৫০০ টাকা। ভেতরে তিন হাজার টাকা পাঠিয়েছিলাম, কমিশন বাবদ ৩০০ টাকা কেটে রাখা হয়।’

ক্যান্টিনে রমরমা বাণিজ্য
এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বাজার থেকে ১৮০ টাকায় কিনে সেটি কারাগারের বন্দিদের কাছে কাঁচা বিক্রি করা হয় ৫০০ টাকায়। এরপর যুক্ত করা হয় রান্নার খরচ। এভাবে ৭৫০ টাকার গরুর মাংস কেজি বিক্রি হয় ২৫০০ টাকায়।
যদিও বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্যান্টিনে রান্না করা তরকারি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন কারা অভ্যন্তরের ক্যান্টিন ম্যানেজার কারারক্ষী রিয়াদ। তিনি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে তরকারি রান্না করে বিক্রি করা হয়। জেলার স্যার সব জানেন।’

ফোন কলের মিনিট ২০ টাকা
নিয়ম হলো কারা অভ্যন্তরের টেলিফোন থেকে বন্দিরা প্রতিমিনিট এক টাকা হারে সপ্তাহে এক দিন সর্বোচ্চ ৫ মিনিট কথা বলতে পারবেন। আর কথা বলার চার্জ কাটা হবে পিসি কার্ড থেকে। বর্তমানে খাগড়াছড়ি কারাগারের ভেতরে বন্দিদের টেলিফোনে কথা বলার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন কারারক্ষী তুষার। নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি বন্দিদের কাছ থেকে প্রতি মিনিট নগদ ২০ টাকা করে চার্জ আদায় করেন। মিনিটে ২০ টাকা করে দিলে বন্দিরা যখন যত মিনিট ইচ্ছে কথা বলতে পারেন।

প্রতি মিনিট ২০ টাকা হারে কার নির্দেশে আদায় করছেন তা জানতে চাইলে দায়িত্বরত কারারক্ষী তুষার বলেন, ‘আমি ছোট চাকরি করি। বেশি কিছু বলতে পারব না। বেশি কিছু বললে শেষে আমাকেই বিপদে পড়তে হবে।’
 
খাবার পান না বন্দিরা
সদ্য জামিনপ্রাপ্ত আসামি পানছড়ি উপজেলার বাসিন্দা ইমন বলেন, ‘বন্দিদের যেসব খাবার দেওয়া হয় তার মান খুবই খারাপ। রান্না তরকারি এবং ডাল সবই খাবার অনুপযোগী। বাধ্য হয়ে তাই বেশির ভাগ আসামিকে ক্যান্টিন থেকে চড়া দামে তরকারি কিনে খেতে হয়।’

জেল কোড অনুযায়ী বন্দিদের জন্য সরকারিভাবে যে পরিমাণ খাবার বরাদ্দ থাকে তার অর্ধেকও পায় না খাগড়াছড়ি কারাগারের বন্দিরা। প্রতিদিনের বরাদ্দের ডাল, তেল, মসলা ও পেঁয়াজ অর্ধেকের বেশি লোপাট করা হয়। মাছ এবং মাংসও দেওয়া হয় বরাদ্দের চেয়ে অনেক কম। আর এই লোপাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী প্রধান কারারক্ষী ছবিরঞ্জন ত্রিপুরাকে। প্রতিদিন সকালে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব খাদ্যদ্রব্য নিয়ে কারা অভ্যন্তরের রান্না ঘরে যান। তবে ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানোর পর তা থেকে অর্ধেকের বেশি খাদ্যদ্রব্য সরিয়ে রাখেন তিনি। পরে বেলা ১২টার দিকে তিনি পুনরায় কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং সরিয়ে রাখা খাদ্যদ্রব্যগুলো বাইরে নিয়ে আসেন। এরপর সেসব খাদ্যদ্রব্য কাশেম নামের একজন অটোরিকশা চালককে দিয়ে খাগড়াছড়ি বাজারের একটি মুদি দোকানে বিক্রি করান ছবিরঞ্জন ত্রিপুরা। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান কারারক্ষী ছবিরঞ্জন ত্রিপুরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান এবং উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘জেলার স্যার চা খেতে দিয়েছেন।’ উৎকোচ দেওয়া প্রসঙ্গে জেলারের কাছে জানতে চাইলে জেলার আক্তার হোসেন শেখ বলেন, ‘আরে রাখেন এটা। মোটরসাইকেলে তেল ভরবেন।’
 
জেলারের নামে আরও অভিযোগ
এসব অনিয়ম প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির জেলার আক্তার হোসেন শেখ কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। উল্টো দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন বন্দিদের ম্যাড ও কারারক্ষীদের ঘাড়ে। তিনি বলেন, ‘যদি কারা অভ্যন্তরে এমন কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ম্যাড এবং দায়িত্বরত কারারক্ষীরা জড়িত থাকতে পারে। আমি বিষয়গুলো সিরিয়াসলি দেখব।’

এদিকে জেল সুপার মো. এনামুল কবিরও দিলেন দায়সাড়া জবাব। তিনি জানালেন কোনো অনিয়মই হয় না এই কারাগারে। পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বললেন- ‘খুব ছোট একটা জেল এটা। সাপ খাওয়া পাহাড়িরা কয় টাকা দিয়ে সিট কিনবে বলেন? এরা টাকা কোথায় পাবে বলেন?’

কারা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক টিপু সুলতান বলেন, ‘অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখব। সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-পেকুয়া, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
টানা বর্ষণে প্লাবিত চকরিয়া-পেকুয়া, অনিশ্চয়তায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। দুই উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এমন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢলের পানির তোড়ে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এতে বিস্তীর্ণ পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গতকাল সোমবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি ও কুপির আলোয় কোনোমতে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভ্যাপসা গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

বিদ্যুৎহীনতার পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থা। চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘চারদিকে শুধু পানি আর পানি। সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। পরীক্ষা স্থগিত হবে কি না, তাও জানি না। এই অবস্থায় কাল কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাব, তা ভেবেই বুক কাঁপছে।

পেকুয়ার উজানটিয়া এলাকার আরেক পরীক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন জানান, অনেক কেন্দ্রের নিচতলায় পানি উঠে গেছে। কেন্দ্রের ভেতরে পানি ঢুকলে বসার জায়গাও থাকবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নেবে নাকি পেছাবে, তা দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের তোড় ও জলমগ্ন সড়কের কারণে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো এবং নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অভিভাবকেরাও গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বন্যা উপদ্রুত এই অঞ্চলে দ্রুত পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অথবা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের জরুরি ও স্পষ্ট নির্দেশনা দাবি করেছেন।

এসএন/

জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চসিকের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ পিএম
জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চসিকের র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকায় দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও রেড ক্রিসেন্টের সমন্বয়ে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করেছে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে নগরের টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন মেয়র।

সভায় দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-রেড ক্রিসেন্টের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।

এ কমিটিতে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, আমরা রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল গঠন করেছি। যেকোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে এই র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে কাজ করবে।

এ সময় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে যেকোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

এরআগে সকালে টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র। এ সময় তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এসএন/

১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
১৩ জুলাই বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশাল সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১৩ জুলাই তার এ সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বরিশালের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে বরিশালে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন বিএনপির নেতা- কর্মীরা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, আগামী ১৩ জুলাই তারেক রহমানের বরিশাল সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই দিন সকালে তিনি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কসবায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করবেন। পরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক লেক এলাকায় বৃক্ষরোপণ
কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

তিনি জানান, বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে মহানগর, জেলা উত্তর ও জেলা দক্ষিণ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে একটি সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সফরকালে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল সফরে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোন কোন দাবি তুলে ধরা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, কুয়াকাটা–বরিশাল–ভাঙ্গা ছয় লেন সড়ক প্রকল্প, রেললাইন, বরিশাল–ভোলা সেতু, গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেড প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক রহমান অবগত আছেন। এরপরও সুযোগ অনুযায়ী বরিশালের মানুষের প্রত্যাশার বিষয়গুলো তার কাছে তুলে ধরা হবে।

বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানাতে জেলা দক্ষিণ, জেলা উত্তর, মহানগর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন বাবলু বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো দলের প্রধান বরিশালে আসছেন। তার সফরকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে যুবদল বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সবুজ/নাঈম

তারাকান্দায় মাদক সেবন করায় তিনজনের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
তারাকান্দায় মাদক সেবন করায় তিনজনের কারাদণ্ড
মাদক সেবনের দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং হিরোইনসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাদক সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া হিরোইনসহ আটক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সার্বিক সহযোগিতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. নাজমুস ছালেহীন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকার সেলিম ফকির, আবুল হাসেম ও মুসলিম ফকির। এ ছাড়া হিরোইনসহ আটক ব্যক্তির নাম ফারুক। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রাপ্ত অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাঁশতলা এলাকায় ফারুক নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় সেলিম ফকির, আবুল হাসেম ও মুসলিম ফকিরকে আটক করা হয়। পরে অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারোক্তি ও উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেলিম ফকিরকে ৬ মাস, আবুল হাসেমকে ২ মাস এবং মুসলিম ফকিরকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

এদিকে একই অভিযানে ফারুকের কাছ থেকে প্রায় ৪ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হিরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের পরিদর্শক কানিজ ফাতেমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তারাকান্দা উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে তারাকান্দা থানা পুলিশের একটি দল, আনসার সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।

কামরুজ্জামান/নাঈম 

জামালপুরে আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
জামালপুরে আইন কর্মকর্তার অফিস থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
সাবেক আইন কর্মকর্তার অফিসে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ইনসেটে মদ ও অস্ত্র। ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে সাবেক আইন কর্মকর্তা ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মনির ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র, গুলি, ককটেল, পেট্রোল বোমা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে শহরের পাঁচরাস্তার মোড় এলাকায় মনোয়ার আলী সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ওই কার্যালয় থেকে এসব উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জামালপুর সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর শহরের পাঁচরাস্তার মোড় এলাকায় মনোয়ার আলী সুপার মার্কেটের দোতলায় একজন আইনজীবীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দেশীয় তৈরি দুইটি পাইপগান, নাইন এমএম পিস্তলের ৪টি গুলি, শর্টগানের ৪টি গুলি, ৬টি ককটেল, ২টি পেট্রোল বোমা এবং ৬টি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

আজ বিকেলে তালা ভেঙে ওই আইনজীবীর অনুপস্থিতিতেই তার কার্যালয়ে পুলিশ প্রবেশ করে। এ সময় কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাব থেকে এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তা জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় গণমাধ্যম কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সঙ্গে রেখে পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। তবে এ ঘটনায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মনি বা সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কামরুল হাসান মনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে, তিনি আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তিনি জামালপুর আদালতে সরকারি আইন কর্মকর্তা (এপিপি) ছিলেন।

আসমাউল আসিফ/নাঈম