হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ১১ বছরের এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই চুনারুঘাট থানায় গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর সোমবার (২১ এপ্রিল) ৩ জনের নাম উল্লেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শিশুটির ভাই। বিচারক মুমিনুল হাসান মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানাকে এফআরআই করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ওই এলাকার চেয়ারম্যানের চারা বাগানে নিয়মিত ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যেত দরিদ্র পরিবারের ওই শিশু। গত ৩ এপ্রিল দুপুরে ওই বাগান থেকে ছাগল আনতে গেলে ওঁৎ পেতে থাকা উপজেলার ইকরতলী গ্রামের সফিক মিয়া, বাপ্পি মিয়া, মনির মিয়া ও অজ্ঞাত আরেকজন গলায় ছুরি ধরে শিশুটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে করা হয় এবং এ বিষয়ে কাউকে জানালে শিশুটিকে হত্যার হুমকিও দেয় তারা। পরে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভয়ে শিশুটি পরিবারের কাউকে না জানালেও গত ১৬ এপ্রিল ওই ভিডিও ভিকটিমের ভাইয়ের নজরে আসে। পরে পুরো ঘটনা খুলে বলে ওই শিশু। পরিবারের লোকজন তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি, উল্টো আসামিরা পরিবারটিকে নানারকম হুমকি দিয়ে আসছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চুনারুঘাট থানায় গেলে পুলিশ মৌখিকভাবে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যে কারণে আজ ভিডিও সংযুক্ত করে আদালতে মামলা করেন ভিকটিমের ভাই।
মামলার বাদী ভিকটিমের ভাই বলেন, ‘তারা আমার ছোট বোনকে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনা যেন কাউকে না বলা হয়, সেজন্য ভিডিও ধারণ করে হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে আমার বোন বিষয়টি কাউকে বলেনি। গত বৃহস্পতিবার ভিডিওটি আমার নজরে আসে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনা জানাজানি হলে ওই যুবকরা আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। যে কারণে মামলা করতে সময় লেগেছে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুমিনুল হাসান অভিযোগ আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানাকে এফআরআই করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।’
কাজল সরকার/সুমন/