হামলায় আহত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডিউটিরত বেসরকারি নার্সিং কলেজের ছাত্রীকে ইভটিজিং করাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় এবং ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর আগে বুধবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের আউটডোর বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় সার্জিক্যাল মাইনর ওটি’র (অপারেশন থিয়েটার) ড্রেসিং রুমে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা হলেন- সিলেটের গোলাপগঞ্জের রনখেলি হয়াগুল গ্রামের তুতিউর রহমানের ছেলে ও সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ (২১), দক্ষিণ সুরমার বলদি গ্রামের মো.কাউসার মিয়ার ছেলে ও আল-আমিন নার্সিং কলেজের ছাত্র রবিউল আউয়াল শুভ (২৩), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চঞ্চল কুমার দাসের ছেলে ও ওয়েসিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের ছাত্র প্রীতম রঞ্জন দাস (২৩)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওসমানী হাসপাতালে ইন্টার্ন ডিউটিরত বেসরকারি নার্সিং কলেজের ২ ছাত্রীর সঙ্গে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় (আউটসোর্সিং স্টাফ) জামাল ও অঞ্জন সরকার অশোভনীয় আচরণ করেন ও প্রায় সময় ইভটিজিং করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ওই ছাত্রীরা বেসরকারি নার্সিং কলেজের ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে জানান। পরবর্তীতে ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্র মো. তাহমিদ ও প্রীতম রঞ্জন দাশের নেতৃত্বে প্রায় ৮ জন ছাত্র মাইনর ওটি’র ড্রেসিং রুমে গিয়ে নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীরের কাছে এ বিষয়ে কথা বলতে যান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ওয়ার্ড বয় জামাল উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারি শুরু হয়। মারামারি চলাকালীন ওটি রুমের কাচ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়। এতে ৩ জন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থী আহত হন এবং ওটি রুমের বেশ কিছু জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়। আহত ৩ জনই বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আউটসোর্সিং স্টাফ জামাল ও অঞ্জন সরকার ইন্টার্ন নার্সিং ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন অশালীন কথাবার্তা বলেন ও তাদেরকে উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পূর্বে অবগত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। গতকালও একই ঘটনা ঘটলে এ বিষয়ে জানতে গিয়ে হামলার শিকার হন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্টাফ নার্স ও বিএনএ সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, কোনো কিছু হলেই আগে নার্সদের ওপর হামলা হয়। আগে রোগীর স্বজনরা হামলা করতেন এখন এখন হাসপাতালে কর্মরত ওয়ার্ড বয়রা করেন। এরকম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয়। আমরা চাই ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা.মোহাম্মদ বদরুল আমিন বলেন, ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মূল ঘটনা জানা যাবে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নাঈম/