রক্ত ছাড়া মানুষ বেঁচে আছে, দিব্যি খাচ্ছে-দাচ্ছে চলছে। তাকে ভূত ছাড়া কী বলব? তেমনি যে ক্লোরোফিলের সাহায্যে গাছ খাদ্য তৈরি করে বেঁচে থাকে কোনো গাছে যদি সেই ক্লোরোফিলই না থাকে তাহলে কী তাকেও ভূত বলব? এরকমই এক গাছের দেখা মিলেছে উত্তর-পশ্চিম আমেরিকার জঙ্গলে।
মাইকোট্রফ গোষ্ঠীর ইরিকেসি পরিবারের ঘোস্ট প্লান্ট (Monotropa uniflora) নামের সেই গাছ কোনো ক্লোরোফিল ছাড়াই বেঁচে থাকে। ক্লোরোফিল নেই বলে সেসব গাছের রঙ সবুজ না হয়ে হয় সাদা। এজন্য এ গাছকে বলা হয় ভূতগাছ। তাহলে তারা খাদ্য পায় কোথায়?
একসময় বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, এসব গাছ মৃত কোনো বস্তুর ওপর জন্মে এবং তা থেকে খাদ্য ও পুষ্টি পায়। কিন্তু পরে জানা যায় আসলে ভূতগাছগুলোর পরের ধনে পোদ্দারি করার একটা স্বভাব আছে।
নিজেরা খাবার তৈরি করে না কিন্তু তাদের তো বাঁচতে হবে। তাই মাটির নিচে ওদের শিকড়ে থাকা এক ধরনের ছত্রাক থেকে ওরা সালোকসংশ্লেষণ ঘটানোর রসদ পেয়ে থাকে। এই গাছেরা মাটির নিচে থাকা মাইকোরাইজা নামের এক ধরনের ছত্রাকের কাছ থেকে তাদের পুষ্টি পেয়ে থাকে।
এ গাছ যেখানে জন্মে তার আশপাশে থাকে অনেক ঝাউগাছ। এসব ঝাউগাছেরও বাঁচার জন্য দরকার মাইকোরাইজা ছত্রাকের। এসব ছত্রাকের সুতোগুলো বেশ লম্বা হয়।
ঝাউগাছ এসব ছত্রাকসূত্রের সাহায্যে দূর থেকে হলেও পানি সংগ্রহ করে থাকে। পক্ষান্তরে মাইকোরাইজা সেসব ঝাউগাছের শিকড়ে বাস করে সেখান থেকে পুষ্টি পেয়ে থাকে। এতে দুজনই লাভবান হয়।
একজন ঝাউগাছের জন্য পানি এনে দেয়, আর অন্যজন সেই পানি ব্যবহার করে ক্লোরোফিল ও সূর্যের তাপে রান্না করে সেই খাবার থেকে কিছুটা মাইকোরাইজাকে খেতে দেয়। এভাবে তারা একে অপরকে সাহায্য করে দুজনই বেঁচে থাকে।
আসলে এই ভূতগাছও একটি পরজীবী গাছ। যেখানে ঝাউগাছ জন্মে, সেখানেই থাকে মাইকোরাইজা ও ভূতগাছ। এই ভূতগাছ মাইকোরাইজার কাছ থেকে সালোকসংশ্লেষণের ঘটক পায় ও নিজেরা সালোকসংশ্লেষণের মতো কঠিন কাজটি না করেও বেঁচে থাকে।
ভূতগাছের শিকড়ের ওপরে থাকে মাইকোরাইজা ছত্রাকের সুতোগুলো। ভূতগাছ মাইকোরাইজা ছত্রাককে কার্বন দেয়, পক্ষান্তরে সে তার কাছ থেকে পায় পুষ্টি, পানি ও রোগজীবাণু থেকে সুরক্ষা।
যদি এই মাইকোরাইজাসহ ঝাউগাছকে ওদের বসতি থেকে তুলে ফেলা হয় তাহলে আর ভূতগাছেরা বাঁচতে পারবে না। এসব গাছের কোনো কাণ্ড নেই, মাটি ফুঁড়ে কেবল কিছু পাতা আর ফুল বের হয়।
বসন্তে ফুল ফোটে। সেসব ফুল থেকে ফল ও বীজ হয় যা থেকে আবার নতুন গাছ জন্মে। এ গাছের বীজ এত ক্ষুদ্র যে তা খালি চোখে দেখা যায় না। বীজ আকারে অনেকটা ব্যাকটেরিয়া জীবাণুর মতো। রসাল বেরি প্রকৃতির একটি ফলের ভেতরে থাকে প্রায় ৪০ লাখ বীজ!
কলি