থেমে থেমে বৃষ্টি হতে থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) কাঁচাবাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যায়। চাহিদা কমতে থাকে মুরগি, সবজিসহ অন্যান্য জিনিসের। এ জন্য দামও কমে যায়। মুরগির দাম কেজিতে ১০-৪০ টাকা কমেছে। সবজির দামও বাড়েনি। বরং কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে।
অধিকাংশ সবজির কেজি ৪০-৬০ টাকায় নামে। গতকাল রাজধানী ঢাকার হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটসহ অন্য বাজারে ঘুরে সংশ্লিস্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কয়দিন আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭৫-১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল ছিল ১৭০ টাকা। ২৮০-৩০০ টাকার সোনালি মুরগি ২৫০ টাকায় নামে। হাতিরপুল বাজারের দরবার ট্রেডার্সের ফয়েজসহ অন্য মুরগি বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লার ১৭০-১৮০, সোনালি ২৮০ ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের বাংলা চিকেন হাউসের রাশেদসহ অন্য মুরগি বিক্রেতারা বলেন, ‘কারফিউ শিথিল করায় সরবরাহ অনেক বেড়েছে। এ জন্য মুরগির দামও কমেছে। ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকা কেজি, সোনালি ২৫০-২৮০ টাকা। দেশি মুরগির দামও কমে ৫৫০-৬০০ টাকায় নেমেছে।’
টাউন হল বাজারের ব্রয়লার হাউসের বেল্লাল জানান, ‘সোনালি মুরগির দাম বেশি কমেছে। সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম। চাহিদা কম থাকায় দামও কম। ব্রয়লার ১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৫০ টাকা কেজি। কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কমেছে। ডিমের ডজন ১৪০-১৫০ টাকা।’
মুরগির দাম কমায় গরু ও খাসির মাংসের দামও কমতির দিকে। বিক্রেতারা জানান, বর্ষা বাদলে ক্রেতা কম। কারওয়ান বাজারের মাংস বিক্রেতা মোবারক হোসেন বলেন, ‘আগের চেয়ে গরুর মাংসের দাম কমেছে। এখন ৭৫০-৭৮০ টাকা। খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি।’
পটোল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দলের কেজি ৪০ টাকা
অন্য দিনের মতো গতকালও কারওয়ান বাজারে প্রচুর সবজিভর্তি ট্রাক আসে। খুচরা বিক্রেতারা এসব সবজি কিনে দোকান সাজালেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রি কমে যায়। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-আমিন বলেন, ‘অন্য দিনের চেয়ে কেজিতে ১০-২০ টাকা কমেছে। বেগুন ৫০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দলের কেজি ৪০ টাকায় নেমেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা। অন্যান্য সবজির দামও কমেছে।
কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা শামিম এবং হাতিরপুল বাজারের আলম শেখসহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, ‘আগের চেয়ে সবজির দাম কমেছে। বেগুনের কেজি ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা, মুলা ৫০-৬০ টাকা, পটোল, ধুন্দল, পেঁপে, ঢ্যাঁড়স, শসার কেজি ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকা কেজি, টমেটো ও গাজর ১৮০ টাকা কেজি।’
পুঁইশাকের আঁটি ২৫-৩০ টাকা, লাল শাক, পালং ও পাট শাকের আঁটি ১৫ টাকা। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কমে ৪০-৭০ টাকায় নেমেছে।
কমেছে আদা রসুনের দাম
বৃষ্টিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমায় আদার বাজারেও প্রভাব দেখা গেছে। দামের ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা এরশাদ বলেন, ‘আগের চেয়ে সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য আদার দামও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে আমদানি করা আদা ২৬০-২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। যা আগে বেশি ছিল। টাউন হল বাজারের বিক্রেতা মিজান বলেন, ‘আগের চেয়ে আদার দাম কমেছে। বর্তমানে ২৬০-২৮০ টাকা কেজি। রসুনের দামও কমে ১৮০-২০০ টাকা ও আলু ৬০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়।
স্থিতিশীল চালের বাজার
সবজির দাম কমলেও চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই মিনিকেট ৭০ টাকা, আটাশ চাল ৫৬ টাকা, মোটা চাল ৫৫ টাকা ও বস্তার পোলাওয়ের চাল ১৩০ টাকা কেজি। মসুর ডাল ১২০-১৩৫ টাকা, ছোলা ১১০-১১৫ টাকা, ১ লিটার সয়াবিন তেল ১৬৫ টাকা ও ৫ লিটার ৮০০-৮১০ টাকা।
কমেনি মাছের দাম
মুরগির দাম কমলেও মাছের দাম কমেনি। বিক্রেতারা জানান, আগের মতোই রুই, কাতলা ৩৫০-৭০০ টাকা কেজি, চাষের চিংড়ি ৫৫০-৭০০ টাকা, নদীর চিংড়ি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি। পাবদা ৫০০-৭০০ টাকা, শিং ও মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। চাষের ট্যাংরা ৬০০-৭০০, দেশি ট্যাংরা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, কাচকি ও মলা মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, বাতাসি ৭০০-১২০০ টাকা কেজি। পাঙাশ, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা কেজি। এ ছাড়া এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছের কেজি ১ হাজার ৮০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ছোট ইলিশের কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।
বিক্রেতারা বলছেন, বন্যার কারণে সরবরাহ বাড়েনি। নদীর মাছ কমে গেছে। এ জন্য কমছে না দাম। তবে আগের চেয়ে ইলিশ মাছের দাম সামান্য কমেছে।