ঢাকা ১ শ্রাবণ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
তিন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বদলি হলেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ২৮ কর্মকর্তা আইইউবিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট মেজর চালু ‘ই-হেলথ কার্ড’ ও ‘ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ যুবকের বিশ্বের সম্ভাব্য সব জায়গায় শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবুধু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ হলো অপেক্ষা, মিলল নিখোঁজ ডুবুরির মরদেহ গণ-অভ্যুত্থানের বিচার জনগণের, আদালতের নয়: ল' ইয়ার্স কাউন্সিল তুরাগে বাবার আছাড়ে প্রাণ গেল ৭ মাসের শিশুর মাদকবিরোধী র‍্যালির জেরে যুবককে কুপিয়ে-পিটিয়ে জখম স্কুল পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাস্তবায়নের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সমান সুযোগ পাবেন: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মির্জা ফখরুলের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে ফিনল্যান্ড বিএনপি ক্যাশলেস স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে যৌথ উদ্যোগ উপায় ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির চুক্তি ১৪ অঞ্চলে বজ্রসহ ঝড়ের সতর্কতা তেঁতুলিয়ায় ১৩টি জাল পাসপোর্টসহ যুবক গ্রেপ্তার বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৫৮, ক্ষতিগ্রস্ত ১২ লাখের বেশি মানুষ সিলেটে রথযাত্রা মহোৎসব শুরু ক্লান্তি দূর করার মহৌষধ সন্তানদের অবহেলায় জীবিত থাকতেই কবর তৈরি মায়ের লৌহজংয়ে পদ্মাপাড়ে ভয়াবহ ভাঙন বরিশালে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার মাগুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত জয়পুরহাটে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠিত লিবিয়ার বন্দিশিবির থেকে দেশে ফিরলেন ১৭১ বাংলাদেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল: জেনে নিন আর্জেন্টিনা-স্পেন মহারণের সব তথ্য শ্রীমঙ্গলে ওয়ালটন ক্যাবলসের বার্ষিক ডিলার কনফারেন্স-২০২৬ অনুষ্ঠিত অসুস্থ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, এসএসসি/এইচএসসি/ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্র

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, এসএসসি/এইচএসসি/ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্র
বাংলাদেশের বা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ রচনা

প্রবন্ধ রচনা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

ভূমিকা:

‘সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
    অবাক তাকিয়ে রয়;
     জ্বলে-পুড়ে-মরে ছারখার
    তবু মাথা নোয়াবার নয়।’
(সুকান্ত ভট্টাচার্য: দুর্মর)


মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ও রক্তাক্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার মানুষ অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। স্বাধীনতা হলো একটি জাতির আজন্ম লালিত স্বপ্ন। স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার মধ্যে যেমন গৌরব থাকে, তেমনি পরাধীনতায় থাকে গ্লানি। আর তাই পরাধীন হয়ে কেউ বাঁচতে চায় না। দাসত্বের শৃঙ্খলে কেউ বাঁধা পড়তে চায় না। বাঙালি জাতিও চায়নি বছরের পর বছর শাসন-শোষণে পাকিস্তানিদের দাস হয়ে থাকতে। তাই তারা শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে পড়েছিল আন্দোলনে, সোচ্চার হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে। অবশেষে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে পেয়েছিল তাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা।


পটভূমি:
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি পৃথক রাষ্ট্র। পাকিস্তান রাষ্ট্রের ছিল দুটি অংশ, পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্বপাকিস্তান। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনোই পূর্বপাকিস্তানকে সমান মর্যাদা দেয়নি; বরং সবসময় চেয়েছে পূর্বপাকিস্তানকে দমিয়ে রাখতে। পশ্চিম পাকিস্তান সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যে জর্জরিত করতে থাকে পূর্বপাকিস্তানকে। শিল্প-কারখানার কাঁচামালের জন্য পশ্চিম পাকিস্তান নির্ভর করত পূর্বপাকিস্তানের ওপর। শ্রমিকদের অল্প বেতন দিয়ে উৎপাদনের কাজ করাত। রাজস্ব থেকে আয়, রপ্তানি আয় প্রভৃতির সিংহভাগ ব্যয় হতো পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় যেখানে ৯৫ শতাংশ ব্যয় হতো, সেখানে পূর্বপাকিস্তানের প্রতিরক্ষায় ব্যয় হতো মাত্র ৫ শতাংশ। আবার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হলেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কোনোভাবেই বাঙালিদের হাতে শাসনভার তুলে দিতে চায়নি। পূর্বপাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অভাব, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক শোষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলা, মৌলিক নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপসহ সব ধরনের বৈষম্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের দাবিকে জোরাল করে তোলে।


বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিকাশ:
বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সচেতনতা ও জাতীয়তাবাদের উন্মেষ পূর্ব থেকে হলেও রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে তা জোরাল হয়। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। এই ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভাষার দাবিতে রাজপথে শহিদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে। ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর শাসক গোষ্ঠীর আঘাত ছিল বাঙালির কাছে তাদের অস্তিত্বের মূলে আঘাতস্বরূপ। একদিকে বাঙালিরা যেমন সংকটের প্রকৃতি ও গভীরতা বুঝতে পারে, অন্যদিকে তা মোকাবিলার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। ১৯৫৪-এর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ, ১৯৬৩-এর গণবিরোধী শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬-এর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়, এই প্রত্যেকটি ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার স্ফুরণ ঘটে এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভ করে।


স্বাধীনতার ডাক:
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। বরং প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সরকার তখন ষড়যন্ত্র শুরু করে। ফলে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতায় উন্মুখ ১০ লক্ষাধিক মানুষের সামনে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এরপর গড়ে ওঠে তীব্র অসহযোগ আন্দোলন।


অপারেশন সার্চলাইট:
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ  রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পূর্বপাকিস্তানের ইতিহাসের ঘৃণিত গণহত্যা  ঘটে। ওই দিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে হত্যা করে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে।
মুজিবনগর সরকার গঠন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। ওই দিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও গৃহীত হয়। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা ইউনিয়নের আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে এই সরকার। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তখন থেকে এই জায়গার নতুন নাম হয় মুজিবনগর। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী দেশ চলতে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠন। এই সরকারের নেতৃত্বে ৯ মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাপী জনসমর্থন আদায়ে এই সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ও জনযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আক্রমণ চালালে বাঙালি ছাত্র, জনতা, পুলিশ, ইপিআর ও বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনা সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে বাঙালিরা ছাড় দেয়নি। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন রণাঙ্গনে শহিদ হন। মুক্তিযোদ্ধাদের এ ঋণ কোনো দিন শোধ হওয়ার নয়। জাতি চিরকাল মুক্তিযোদ্ধাদের সূর্যসন্তান হিসেবে মনে রাখবে।


মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের অংশগ্রহণ ও পাকবাহিনীর আত্মসমর্পন:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের বাঙালি অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। তাই এ যুদ্ধকে বলা হয় গণযুদ্ধ বা জনযুদ্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তাই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী, ছাত্র, পেশাজীবী, নারী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে। কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি করে মুক্তিবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এর সর্বাধিনায়ক। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের পরিকল্পনায় মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। ৩ ডিসেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্রবাহিনী যুক্ত হয়ে যৌথভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করে। যুদ্ধে পর্যুদস্ত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা নিয়ে জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় হয়।


মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা সক্রিয় ছিলেন কখনো সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে, কখনো-বা যুদ্ধক্ষেত্রের আড়ালে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন অসংখ্য নারী। অজানা-অচেনা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা-শুশ্রূষা করেছেন বহু নারী। চরম দুঃসময়ে পাকিস্তানি হানাদারের হাত থেকে রক্ষা করতে তারা নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। অনেক সময়ে শত্রুর কাছে নিজেদের সম্ভ্রম এবং প্রাণও দিতে হয়েছে তাদের।


মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের অবদান:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায় করার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন। তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছেন। পাকিস্তানকে অস্ত্র, গোলাবারুদ সরবরাহ না করতে বিভিন্ন সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা: ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি, মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি...।’ যুদ্ধের সময় দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ, মনোবল বৃদ্ধিসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। পত্রপত্রিকায় লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, আবৃত্তি, নাটক, কথিকা, জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।


মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব:
১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পক্ষে দাঁড়ায়। ভারত সে সময় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন রাশিয়া ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দেয়। তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের বিরোধিতা করলেও সে দেশের জনগণ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিবিদরা বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়। বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গানের দল বিটলসের জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সংগীতজ্ঞ পণ্ডিত রবিশঙ্কর ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর আয়োজন করেছিলেন। ফরাসি সাহিত্যিক আদ্রেঁ মালরো, জাঁ পল সার্ত্রে’সহ অনেকেই তখন বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিলেন।


মুক্তিযুদ্ধের চেতনা:
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ক্ষুধা-দারিদ্র্য-কুসংস্কার থেকে মুক্ত অসাম্প্রদায়িক একটি দেশের। নতুন প্রজন্মের কাছে এই চেতনাকে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কেননা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই চেতনার কোনো বিকল্প নেই।


উপসংহার:
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির অহংকার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এনে দেয়। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের নিবেদিতপ্রাণ হওয়া উচিত। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস জানানো যেমন জরুরি, তেমনি নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন হওয়া উচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কর্তব্যবোধ, ন্যায়নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশের যথার্থ অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা/আবরার জাহিন

সংগঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
সংগঠন অধ্যায়ের ১৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগে রিভিশন দিচ্ছে। ছবি- সংগৃহীত

চতুর্থ অধ্যায় : সংগঠন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

৫। ব্যবস্থাপনা সংগঠনের উপাদান নিচের কোনটি?
ক. ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন     খ. বিকল্প মূল্যায়ন 
গ. কার্য বিভাজন          ঘ. মান নির্ধারণ 

৬। নিচের কোনটি সংগঠন প্রক্রিয়ার বহির্ভূত?
ক. মান প্রতিষ্ঠা                   খ. কার্য বিভাজন 
গ. দায়িত্ব-কর্তৃত্ব নিরূপণ     ঘ. পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ

৭। দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণ ব্যবস্থাপনার কোন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
ক. পরিকল্পনা     খ. নিয়ন্ত্রণ 
গ. কর্মীসংস্থান     ঘ. সংগঠন 

৮। প্রাচীন ও সহজ ধরনের সংগঠন কাঠামো নিচের কোনটি?
ক. কমিটি            খ. মেট্রিক্স 
গ. কার্যভিত্তিক     ঘ. সরলরৈখিক

৯। নিচের কোন সংগঠনকে সামরিক সংগঠনের সঙ্গে তুলনা করা হয়?
ক. সরলরৈখিক    খ. সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী 
গ. কার্যভিত্তিক     ঘ. মেট্রিক্স 

১০। কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো অতিমাত্রায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক?
ক. সরলরৈখিক     খ. পদস্থকর্মী 
গ. কার্যভিত্তিক      ঘ. কমিটি 

১১। কোন সংগঠন কাঠামোর স্থায়িত্ব সবচেয়ে কম?
ক. কমিটি                খ. সরলরৈখিক 
গ. কার্যভিত্তিক         ঘ. সরলরৈখিক ও উপদেষ্টা 

১২। সাংগঠনিক কাঠামো দেখে নিচের কোনটি সম্পর্কে জানা যায়?
ক. ক্ষমতার প্রকৃতি     খ. প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য 
গ. নির্দেশনার ধরন     ঘ. কর্তৃত্ব শিকল 

আরো পড়ুন : সংগঠন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র

১৩। সরলরৈখিক সংগঠনের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি প্রতিষ্ঠিত হয়?
ক. জোড়া মই শিকল নীতি     খ. সমতার নীতি 
গ. আদেশের ঐক্য নীতি        ঘ. ভারসাম্যের নীতি 

১৪। কোন ধরনের সংগঠনে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়?
ক. সরলরৈখিক     খ. কার্যভিত্তিক 
গ. কমিটি              ঘ. মেট্রিক্স

১৫। নির্বাহীর দায়িত্বে বিশেষজ্ঞ কর্মী থাকলে তাকে কোন সংগঠন বলে?    
ক. সরলরৈখিক    খ. সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী 
গ. কার্যভিত্তিক     ঘ. কমিটি 

১৬। কোন সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীকে সহযোগিতা করার জন্য উপদেষ্টা কর্মী কাজ করে?
ক. সরলরৈখিক    খ. সরলরৈখিক ও পদস্থকর্মী 
গ. কার্যভিত্তিক     ঘ. কমিটি 

১৭। নিচের কোনটি সরলরৈখিক সংগঠনের অসুবিধা?
ক. নিয়ন্ত্রণ সহজ
খ. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়
গ. বিশেষায়নের অভাব রয়েছে
ঘ. পদোন্নতির স্পষ্ট পথনির্দেশক রয়েছে

১৮। সংগঠন কাঠামো ব্যবস্থাপনায় কী নির্দেশ করে?
ক. নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি     
খ. পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমন্বয়
গ. মানবিক গুণাবলি    
ঘ. সদ্ব্যবহার

 ১৯। সংগঠিতকরণের গুরুত্ব হলো-
i. উপকরণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় 
ii. কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পায় 
iii. জনশক্তির সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii     খ. i ও iii 
গ. ii ও iii    ঘ. i, ii ও iii

উত্তর: ৫. গ, ৬. ক, ৭. ঘ, ৮. ঘ, ৯. ঘ, ১০. ক, ১১. ক, ১২. ঘ, ১৩. গ, ১৪. ক, ১৫. গ, ১৬. খ, ১৭. গ, ১৮. খ, ১৯. খ।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান 
ব্যবস্থাপনা বিভাগ, মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা

কবীর

খাদ্য অধ্যায়ের ১টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
খাদ্য অধ্যায়ের ১টি বর্ণনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান
সুষম খাদ্য। ছবি- সংগৃহীত

তৃতীয় অধ্যায় : খাদ্য

বর্ণনামূলক উত্তর প্রশ্ন

প্রশ্ন: কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা কীভাবে করা যায়?

উত্তর: কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা সম্ভব যদি আমরা স্থানীয় ও মৌসুমি খাদ্যকে গুরুত্ব দিই। সুশৃঙ্খলভাবে পরিকল্পনা করলে অল্প খরচেই সুষম ও পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায়। কম খরচে সুষম খাদ্যতালিকা করার উপায়–
স্থানীয় ও মৌসুমি ফল-সবজি বেছে নেওয়া: এগুলো সস্তা এবং পুষ্টিকর।
ডাল ও শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া: ডাল সস্তা উৎস হলেও এতে ভালো আমিষ পাওয়া যায়। সুষম খাবারের যোগান দেওয়ার জন্য শাকসবজি নিয়মিত খেতে হবে।
মাছের ছোট জাত ব্যবহার: ছোট মাছ যেমন- মলা, কাঁচকি, ঢেলা, টেংরা, পুঁটি, খলসা, নলা মাছ এগুলো সস্তা কিন্তু পুষ্টিকর।

আরো পড়ুন : খাদ্য অধ্যায়ের ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান

ডিম সাশ্রয়ী আমিষ: সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ডিম খেলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা সহজে মেটে। এছাড়া ডিম সাশ্রয়ী আমিষ।
অতিরিক্ত তেল-চিনি এড়ানো: খাদ্য তালিকা থেকে তেল-চিনি যত কম খাওয়া যায় ততোই ভালো। কেননা এগুলোর দাম বেশি এবং পুষ্টিগুণ কম। অন্যদিকে এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
বাড়িতে খাবার রান্না করা খেতে হবে: বাইরের হোটেল ও রেস্টুরেন্টের খাবার খেলে ব্যয় বেড়ে যায় এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। এ জন্য বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতে হবে।
মানসম্মত কার্বোহাইড্রেট বেছে নেওয়া: ভাত, রুটি, আলু সুলভ এবং দামেও সস্তা। এগুলো কার্বোহাইড্রেট ও শক্তির ভালো উৎস।
খাদ্যের রান্নায় বৈচিত্র‍্য আনা: এতে পুষ্টি থাকে, খরচও কমে।

লেখক : সাবেক শিক্ষক
ফকিরেরপুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

কবীর

অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র
শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের লেকচার শুনছে ও নোট করছে। ছবি- খবরের কাগজ

প্রথম অধ্যায় : অর্থায়নের সূচনা

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: ঝুঁকি ও মুনাফার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: প্রত্যাশিত আয় থেকে প্রকৃত আয় কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তাকে ঝুঁকি বলে। অন্যদিকে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ সুবিধাকে মুনাফা বলে।
কোনো কোম্পানি যদি তার সংগৃহীত তহবিল ঝুঁকিমুক্ত প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তবে মুনাফার পরিমাণ কম হবে। কিন্তু কোম্পানি যদি তার মূলধন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তবে মুনাফার পরিমাণ যেমন বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তেমনি ঝুঁকির পরিমাণও অনেক বেশি হবে। তাই ঝুঁকি ও মুনাফার মধ্যে ধনাত্মক বা সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।

প্রশ্ন: অর্থায়ন বলতে তহবিল সংগ্রহ করাকেই বোঝায়, বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর: তহবিল সংগ্রহ বলতে তহবিলের বিভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং ওই উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে মূলধন সংগ্রহ করাকে বোঝায়। তহবিল সংগ্রহ অর্থায়নের কার্যাবলির একটি অংশ।
অর্থায়ন বলতে একটি প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কী পরিমাণ মূলধন বা তহবিলের প্রয়োজন, কোন কোন উৎস থেকে তা সংগ্রহ করা হবে এবং কোন কোন খাতে বা প্রকল্পে তা বিনিয়োগ করা যাবে তাকে বোঝায়। এ ছাড়া অর্থের পরিকল্পনা, সংস্থান এবং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাদি অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত। তাই অর্থায়ন বলতে শুধু তহবিল সংগ্রহ করাকেই বোঝায় না, কোন কোন খাতে তা বিনিয়োগ করা হবে তাকেও বোঝায়।

প্রশ্ন: ব্যবসায় অর্থায়ন বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার তহবিল সংগ্রহ ও বিনিয়োগের জন্য যে অর্থায়ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে তহবিল অর্থায়ন বলে।
ব্যবসায় অর্থায়ন বলতে একটি ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনের পরিমাণ, উৎস চিহ্নিতকরণ ও কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে তাকে বোঝায়। অর্থায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরন হচ্ছে ব্যবসায় অর্থায়ন।

আরো পড়ুন : অর্থায়নের সূচনা অধ্যায়ের ১০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, এইচএসসির ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র

প্রশ্ন: অর্থ ও অর্থায়নের মধ্যে সম্পর্ক কী?

উত্তর: অর্থ বলতে নগদ অর্থ বা ব্যাংকে জমা করা অর্থকে বোঝায়। এক্ষেত্রে অর্থ দিয়েই অর্থায়ন করা হয় বিধায় এটি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অর্থের পরিকল্পনা, সংস্থান, সংরক্ষণ, ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত অর্থের কার্যাবলিকেই অর্থায়ন বলে। অর্থায়ন অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে। কীভাবে, কোন উৎস থেকে, কখন অর্থ সংগ্রহ করলে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে অর্থায়ন সেই পথ দেখায়। সুতরাং বলা যায়, অর্থ ও অর্থায়ন একে অপরের পরিপূরক।

প্রশ্ন: তারল্য ও মুনাফা নীতি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: তারল্য ও মুনাফার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাকারী নীতি হলো তারল্য বনাম মুনাফা নীতি।
নগদ অর্থ তথা তারল্য ও মুনাফার মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। নগদ অর্থ বেশি রাখলে বিনিয়োগ কম হয়, ফলে মুনাফা কমে যায়। আবার মুনাফা বৃদ্ধিকল্পে বেশি বিনিয়োগ করা হলে তারল্য ঘাটতি হয়। ওই নীতি অনুযায়ী নগদ অর্থ তথা তারল্য এবং বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যেন তারল্য ও মুনাফার মধ্যে উপযুক্ত ভারসাম্য বজায় থাকে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ 
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা

কবীর

ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র
পৃথিবীর ভূমিরূপের পরিবর্তন। ছবি- সংগৃহীত

তৃতীয় অধ্যায় : ভূমিরূপ পরিবর্তন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩৬ ও ৩৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

কুবের মাঝি নদীতে মাছ ধরার জন্য যায়। সে লক্ষ করে নদীর পাশাপাশি দুটি বাঁক একসঙ্গে মিলিত হয়ে নদীটি সোজাপথে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বিচ্ছিন্ন জলরাশিটি নতুন ভূমিরূপ সৃষ্টি করছে।

৩৬। ওপরের উদ্দীপকের ভূমিরূপটি কোন ধরনের?
ক) নদীর সঞ্চয়জাত    খ) নদীর ক্ষয়জাত
গ) পলল গঠিত            ঘ) পার্শ্ব ক্ষয়জাত

৩৭। ওপরের উদ্দীপকের উল্লেখিত ভূমিরূপটি গঠনের কারণ-
i. নদীতে তীব্র বাঁক    
ii. নদীর মাটি বহন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি
iii. নদীর নিম্নগতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) ii ও iii
গ) i ও iii     ঘ) i, ii ও iii

৩৮। বাংলাদেশের কোন অংশে মৃতপ্রায় ব-দ্বীপ দেখা যায়?
ক) দক্ষিণ-পূর্বাংশে         খ) উত্তর-পশ্চিমাংশে
গ) দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে    ঘ) উত্তর-পূর্বাংশে

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩৯ ও ৪০ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল। নানা ধরনের বাহ্যিক ও প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ভূপৃষ্ঠের ওপর পতিত পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় যান্ত্রিক ও রাসায়নিক উপায়ে ভূপৃষ্ঠকে ব্যাপকভাবে ক্ষয় করে।

৩৯। ওপরের উদ্দীপকে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনকারী কোন নিয়ামকটি তুলে ধরা হয়েছে?
ক) বায়ু      খ) বৃষ্টি 
গ) নদী      ঘ) সমুদ্র

৪০। ওপরের উদ্দীপকের নিয়ামকটি ছাড়া ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনকারী অন্য নিয়ামকগুলো হলো-
i. নদী 
ii. সমুদ্র 
iii. হিমবাহ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

আরো পড়ুন : ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র

৪১। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের সর্বাধিক তীব্রতা কত?
ক) ১৬    খ) ১৪  
গ) ১২     ঘ) ১০

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪২ ও ৪৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর লেখ।

২০১৩ সালের ১৬ মে পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়ায় মহাসেন আঘাত হানার মাধ্যমে উপকূল অতিক্রম করে। এরপর তা ভোলা, বরগুনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ঝরিয়ে মেঘনা মোহনা দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করে।

৪২। ওপরের উদ্দীপকের দুর্যোগটি কোন ধরনের বায়ুমণ্ডলীয় গোলযোগ?
ক) টর্নেডো    খ) কালবৈশাখী
গ) ঘূর্ণিঝড়    ঘ) টাইফুন

৪৩। ওপরের উদ্দীপকের মহাসেনের প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়-
i. প্রাণহানি    
ii. অবকাঠামো বিনষ্ট হয়
iii. লবণাক্ত পানির প্রবেশ ঘটে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii     খ) i ও iii
গ) ii ও iii     ঘ) i, ii ও iii

৪৪। কার্বনেশন প্রক্রিয়ার জন্য কোনটি সঠিক?
ক) CaSO4+H2O=2Ca2SO4.2H2O
খ) CaSO3+H2O=CaHCO3
গ) CO2+H2O=H2CO3
ঘ) H2O=H++OH+

৪৫। নদীর গতিপথের নিম্নগতিতে দেখা যায়-
ক) জলপ্রপাত    খ) ব-দ্বীপ
গ) র‌্যাপিড         ঘ) কাসকেইড

উত্তর: ৩৬. ক, ৩৭. গ, ৩৮. গ, ৩৯. খ, ৪০. ঘ, ৪১. ঘ, ৪২. গ, ৪৩. ঘ, ৪৪. গ, ৪৫. খ।

লেখক : প্রভাষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

কবীর

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র
শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রশ্ন নিয়ে গ্রুপ ডিসকাশন করছে। ছবি- সংগৃহীত

অষ্টম অধ্যায় : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর-৪

ছকটি দেখে নিচের প্রশ্নের উত্তর লেখ।

(ক) UNDP-এর পূর্ণরূপ কী?
(খ) UNDP-এর একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো। 
(গ) উদ্দীপকে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। 
(ঘ) বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা সংস্থাটির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করো। 

উত্তর: ক. UNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development Programme.

খ. UNDP-এর একটি উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন। UNDP বিশ্বের সদস্য রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য হ্রাস করার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ উদ্দেশ্য অর্জনে UNDP অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিশ্চিত করে দেশগুলোর উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করে থাকে। সংস্থাটি দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে পাইলট প্রজেক্টে অনুদান দেয় এবং নারীদের উন্নয়নে সরকার ও জনগণকে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। সেই সঙ্গে এটি সরকারের সঙ্গে NGO-এর কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনে সহায়তা দেয়।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১টি সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র

গ. উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইউনিসেফ হলো- জাতিসংঘ পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা সারা বিশ্বের শিশুদের কল্যাণে কাজ করে থাকে।  বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশু কল্যাণে এ সংস্থাটির অবদান সর্বজনস্বীকৃত। সারা বিশ্বের শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সংস্থাটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের প্রতি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন সাধন এবং নারী-পুরুষ সমঅধিকার নিশ্চিত করতে ইউনিসেফ প্রচারিত ‘মিনা কার্টুন’ বর্তমানে বহুল প্রশংসিত হয়েছে ।
উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৪৬ এবং এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত। এটি বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাজ করে। সংস্থাটি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করে ১৯৬৫ সালে। উদ্দীপকের সংস্থাটির এ তথ্যগুলো ওপরে বর্ণিত সংস্থা ইউনিসেফের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইউনিসেফকে ইঙ্গিত করা হয়েছে ।

ঘ. বিশ্বব্যাপী শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা সংস্থা ইউনিসেফের কার্যক্রম সম্পর্কে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
সারা বিশ্বের শিশুদের অধিকার রক্ষা ও সার্বিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালে ইউনিসেফ যাত্রা শুরু করে। এর সদর দপ্তর নিউইয়র্কে। উদ্দীপকের ছকে উল্লেখিত তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকেই ইঙ্গিত করে। সারা বিশ্বের শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সংস্থাটি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সংস্থাটি শিশুদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় বিশ্বের অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দানে সরকারকে সহায়তা করে। পাশাপাশি দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সংস্থাটি বিনামূল্যে, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, যেমন- বই, খাতা-কলম বিতরণসহ স্কুল ড্রেস ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিও বিতরণ করে থাকে ।
ইউনিসেফ শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাতৃমঙ্গল ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র স্থাপন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনাসহ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে এটি জনসাধারণকে পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করা, শিশুদের জন্য বিস্কুট ও দুগ্ধ বিতরণ, শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানে উৎসাহিত করা প্রভৃতি কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আবার শিশুদের বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, শিশু পাচার ও শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এভাবে বিশ্বব্যাপী শিশুদের রক্ষা ও কল্যাণের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকার জন্য ইউনিসেফ ১৯৬৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার এবং ২০০৬ সালে প্রিন্স অব এসটুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড অব কনকর্ড লাভ করে।
ওপরের আলোচনা শেষে নিঃসন্দেহে বলা যায়, সারা বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় শিশুদের শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, বিকাশ ও উন্নয়নে ইউনিসেফ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

লেখক : প্রভাষক, সমাজকর্ম বিভাগ
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মধুবাগ, মগবাজার, ঢাকা

কবীর