কবিতা : প্রার্থনা
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: ‘তোমার দুয়ারে আজি রিক্ত করে’ বলতে কবি নিজেকে প্রভুর প্রশংসা করার অযোগ্য ও শূন্য বিবেচনা করেছেন। তার মতে, স্রষ্টার প্রশংসা করার মতো তার কোনো সম্পদ নেই।
কবি ভক্তি বা প্রশংসা করতে না জেনেও শুধু চোখের পানিতে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি স্রষ্টার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেন। কবি জানেন, স্রষ্টার অসীম করুণায় বিশ্বের প্রতিটি প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রাণ ধারণ করে আছে। কবি তাই চোখের পানিতে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন। কারণ, এ ছাড়া তার কাছে স্রষ্টার জন্য আর কিছুই নেই।
প্রশ্ন: ‘সদা আত্মহারা তব গুণ গানে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীর অরণ্যে হাজার ধরনের প্রজাপতি ও পাখি রয়েছে। সব পাখিই সর্বদা বিচিত্র কণ্ঠে প্রভুর স্তুতি করে যাচ্ছে। তারা এই স্তুতি করছে আনন্দে আত্মহারা হয়ে। সব পশু-পাখি সর্বদাই সর্বাবস্থায় প্রভুর গুণগানে ব্যস্ত থাকে। সব কাজেই তারা খুশি মনে স্মরণ করে মহান প্রভুকে। প্রভুর অসীম দয়া নিয়ে তারা পৃথিবীতে বেঁচে থেকে শুধু প্রভুর গুণগানই করে।
প্রশ্ন: কবির শোকানল কীভাবে নিভে যায়?
উত্তর: একান্ত হৃদয়ে প্রভুকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়। ‘প্রার্থনা’ কবিতায় কবি স্রষ্টার অপার মহিমার কথা বর্ণনা করেছেন। বিপদে-আপদে, সুখে-শান্তিতে সব সময় তিনি স্রষ্টার কাছ থেকে শক্তি কামনা করেছেন। কারণ কবি জানেন, স্রষ্টার অফুরন্ত দয়াতেই জগতের সবকিছু চলছে। সুখে-দুঃখে, শয়নে-স্বপনে তিনি আমাদের একমাত্র ভরসা। কবি তার সৃষ্টিকর্তাকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। এ কারণেই তাকে স্মরণের মধ্য দিয়ে কবির শোকানল নিভে যায়।
আরো পড়ুন : পাছে লোকে কিছু বলে কবিতার ৫টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্র
প্রশ্ন: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি স্রষ্টার কাছে কেন বল প্রার্থনা করেছেন?
উত্তর: ‘প্রার্থনা’ কবিতার কবি নিজেকে স্রষ্টার কাছে সমর্পণ করার জন্য স্রষ্টার কাছে বল প্রার্থনা করেছেন। সৃষ্টিকর্তাই আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। তার দয়ার সমগ্র বিশ্বসংসার চলছে। কবিতার মাধ্যমে কবি তার ভক্তি সম্পর্কে স্রষ্টাকে জানাতে চান। কিন্তু তিনি নিঃসম্বল। তার ভক্তি করার নিয়ম বা উপায় জানা নেই। তাই তিনি স্রষ্টার কাছে হৃদয়ে বল বা শক্তি কামনা করেছেন, যাতে স্রষ্টার কাছে নিজেকে নিবেদন করতে পারেন।
প্রশ্ন: ‘জীবনে মরণে, শয়নে স্বপনে তুমি মোর পথের সম্বল’ কবি কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি প্রভুকে সব সময়ের অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলেই ওপরের উক্তিটি করেছেন। কবি এই পৃথিবীতে এসেছেন প্রভুর অনুগ্রহে। আবার যাবেনও প্রভুর ইচ্ছায়। কবির জীবনের সবকিছুই প্রভুর অনুগ্রহে হচ্ছে। তাই কবি প্রভুকেই পথে একমাত্র সম্বল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই জীবনে মরণে, শয়নে-স্বপনে কবি শুধু স্রষ্টার কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেন।
প্রশ্ন: ‘ভুলিতে তোমারে, প্রাণে অবসাদ’ কথাটি বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি প্রভুকে কখনোই ভুলতে পারবেন না। কারণ, প্রভুকে ভোলার কথা বললেই কবির প্রাণে দারুণ অবসাদের সৃষ্টি হয়। কবি প্রভুকে ভুলতে না পারার একমাত্র কারণ হলো কবির জীবনের প্রতিটি ক্ষণ অতিবাহিত হয় প্রভুর অসীম অনুগ্রহে। কবির ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই পূর্ণ হয় প্রভুর করুণায়। তাই প্রভুকে ভুলে গেলে কবি যেন সম্বলহীন হয়ে পড়বেন। এ কারণেই কবি প্রভুকে ভুলতে পারেন না।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক, বাংলা
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর