ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
‘চোরের দলের খেলা কবে’ সার্চ করলেই আসছে আর্জেন্টিনার ম্যাচ! কলকাতায় ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে নামাজ বন্ধ করলো বিজেপি সাতক্ষীরায় পেয়ারা দেওয়ার নাম করে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ৬ লাখ টাকার ঋণ ও বিকল রিকশা বৈধ নথি ছাড়া নেপালে যাওয়ার সময় ভারতে গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক দেশের ১৯ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের অদ্ভুত সব গল্প ব্র্যাক ব্যাংকের বিশেষ হোম লোন সুবিধা পাবেন এসইএলের গ্রাহক ও কর্মীরা অনন্ত রিয়েল এস্টেটের নতুন সিইও আলীনূর রহমান সোনারগাঁয়  জাপান প্রবাসীর পথ আটকে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪ ১৪ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি শুধু পলিথিন নয়, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও বাড়াচ্ছে রাজধানীর জলাবদ্ধতা হরমুজ বন্ধের ঘোষণায় বেড়েছে তেলের দাম হবিগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ২০ চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বার্নহ্যামকে নিয়ে বিশ্বনেতাদের ভাবনা চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট, ২ কোটি টাকা দাবি যেভাবে কাতারকে গড়ে তোলেন শেখ হামাদ সংবিধান সংশোধনে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট শ্রাবণে কী হবে কড়াইল বস্তিবাসীর! ইরানের টার্গেটে ট্রাম্পসহ যেসব বিশ্বনেতা গাইবান্ধার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র অর্থ পাচার মামলায় রিমান্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় জাককানইবির শিক্ষার্থী নিহত ফরাসি স্বপ্নের কাণ্ডারি এমবাপ্পে যশোর শহরের নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ ভাসমান ছেঁড়া স্যান্ডেলে ইঁদুরের আশ্রয়: যেন বন্যার্ত মানুষের প্রতিচ্ছবি ১৪ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ডুবছে গাজীপুর ফরাসি সৌরভ, না স্প্যানিশ সৌন্দর্য ১৪ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

অলোকরঞ্জন ছিলেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল শিক্ষালয়

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
অলোকরঞ্জন ছিলেন মানবিকতার এক উজ্জ্বল শিক্ষালয়
ছবি: লেখক

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু নাম আছে, যাদের উপস্থিতি ধরা যায় না; ছোঁয়া যায় না। অথচ তারা সকল বিন্দুতে উপস্থিত। তারা আলো হয়ে বাঁচেন - সময়ের বাইরে, মৃত্যুর প্রায় পরেও। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত সেই বিরল আলোকমানবদের একজন। তার প্রয়াণের পর এত বছর পেরিয়ে গেলেও মনে হয় তিনি যেন কোথাও আড়ালে দাঁড়িয়ে আছেন- নিঃশব্দ, দীপ্ত, কিন্তু গভীরভাবে উপস্থিত।

হাইডেলবার্গের নিকটবর্তী শান্ত, নিভৃত শহর হিসবার্গে তার বাস। সেই শহরটি আমার থেকে প্রায় দেড় শ কিলোমিটার দূরে হলেও আমাদের সম্পর্কের দূরত্ব ছিল শূন্য - সম্পর্কের প্রকৃত মাপে পরিমাপ করা যায় না কিলোমিটারে। হৃদয়ের ওপর হৃদয়ের যে বন্ধন, সেখানে দূরত্বের কোনো ভূগোল নেই।

অলোকরঞ্জনের সঙ্গে আমার প্রথম দেখার গল্পটি যেন সাহিত্যিক নিয়তিরই এক অনুপম বিন্যাস। ১৯৮৮ সাল। জার্মানিতে আমার ঘরে অতিথি হয়ে এসেছিলেন বাংলা সাহিত্যের তিন আলোকপুরুষ- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, এবং আনন্দ পাবলিশার্সের কর্ণধার বাদল বসু। তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেই অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত প্রথম আমার বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন। সেই প্রথম রাতেই আমাদের পরিচয় এমন এক সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছিল, যা আজও টিকে আছে স্মৃতির গভীরে অটুট হয়ে।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দেশে ফিরে ‘দেশ’ পত্রিকায় লিখেছিলেন ‘প্রবাসে বাংলা সাহিত্যপ্রেমী’ শিরোনামের কলাম; সেখানে তিনি অলকদা ও আমাকেও উল্লেখ করেন। তাঁর লেখায় ট্রুট বার্টা দাশগুপ্তকে নিয়ে এক স্নেহদীপ্ত আশ্চর্য উচ্চারণ ছিল- ‘তার মতো মহিলা এই যুগে শুধু গল্প-উপন্যাসেই পাওয়া যায়।’

অলোকরঞ্জনের বৃদ্ধা মায়ের প্রতি ট্রুট বার্টার যে মমত্ব, যত্ন ও দায়বোধ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তা তাকে মুগ্ধ করেছিল। সেই পরিবারটি আমার কাছে হয়ে উঠেছিল আপনজনের ঘর।

আমি বহুবার গিয়েছি অলোকদার সেই ছবির মতো সাজানো হিসবার্গের বাড়িতে। অদ্ভুত এক দৃশ্য আজও আমার চোখে ভাসে- আমরা পৌঁছানোর আগেই তিনি বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন, যেন বহুদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত।

তারপর শুরু হতো তার উষ্ণ ও পরিমার্জিত আতিথ্য। ট্রুট বার্টার হাতে রান্না হওয়া বাঙালি খাবার, অলোকদার স্বতঃস্ফূর্ত হাসি, এবং তার গভীর অথচ মোলায়েম কণ্ঠে ভেসে আসা সাহিত্যআলোচনা- সে সব মুহূর্ত আজও আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ।

একদিন গল্প করতে করতে অলোকদা হঠাৎ তার বইয়ের তাক থেকে একটি বই নামিয়ে আনলেন। তারপর একটি পাতা ফটোকপি করে আমার হাতে দিলেন। আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম- তিনি আমাকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছেন! আর সেটি তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে মুদ্রিত।

এ জীবনে কত প্রাপ্তি পেয়েছি, কিন্তু সেই মুহূর্তটি যেন সময়কে ছাপিয়ে উঠেছিল। পরে ফ্রাঙ্কফুর্টের পূজার অনুষ্ঠানে তিনি নিজেই কবিতাটি আবৃত্তি করেন। যখন আমার নাম তার কণ্ঠে কবিতার ছন্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, আমি অনুভব করেছিলাম অদৃষ্টের এক অচিন আলো আমাকে ছুঁয়ে গেল।  কবিতাটি পাঠকদের জন্য এখানে উল্লেখ করলাম।

ফ্রাঙ্কফুর্টে বাবুলের আয়োজিত বঙ্গসম্মেলনে

- অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত

ফ্রাঙ্কফুর্টে বাবুলের আয়োজিত বঙ্গসম্মেলনে
দিরাষ্ট্রিকতার মধ্যে পরবাসী রয়েছে বাঙালি ফ্রাঙ্কফুর্টে।
অনুজপ্রতিম বন্ধু বাবুলের আয়োজিত বঙ্গসম্মেলনে
আমি অচাম্বিতে ত্রোস্তময় রাগিণীতে
এই কথা বলে খুব দ্রুত লয়ে সরে যেতে থাকি,
যেন আমি
কোনদিন অংশই নিইনি কোন সংগ্রামের
ন্যূনতম ধ্রুব মূল্যবোধে।
আমি
শুধু ক্রমান্বয়ে সরে যাই
একক প্রভাতফেরি জারি করে
ভাষার শহিদ সেজে
শহরতলীর অভিমুখে।

অথচ এ সম্মেলনে
আরও বেশি স্পষ্ট সিদ্ধান্তের বড় প্রয়োজন ছিল।
এমনকি এই মর্মে দ্রিমিকি ধিক্কার দিয়ে চলে গেলো
সিরাজুল এবং নন্দিতা।

তবে কি অনপনেয় অনটন রয়ে গেছে
বাংলা ও বাঙালি নিয়ে
আমারই নিজস্ব অঙ্গীকারে?

তীব্র অভিমানে
আমি সেমিনার ছেড়ে এসে
লক্ষ করি
বাবুল ব্যতিত আর সকলেই
অন্তর্হিত–অন্তর্নিহিত হয়ে আছে।

আমি কিছু ব্যর্থ
এবং কিছু দ্ব্যর্থক
বাবুলের আয়োজিত বঙ্গসম্মেলনে।

অলোকদা মাঝেমধ্যেই আমাকে ফোন করতেন। তার কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত সঙ্গতি- গভীর, ধীরস্থির, পরিমিত। তিনি এত সুবিন্যস্ত ভাষায় কথা বলতেন যে অনেক সময় আমি ঢাকাইয়া উচ্চারণে লজ্জা পেতাম।

তিনি শুধু হাসতেন- দয়া করে নয়, স্নেহ দিয়ে। তারপর বড় বড় বাক্যের ভেতরে আমাকে জায়গা করে দিতেন। এ যেন ভাষার মধ্য দিয়েও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা।

চিঠিও লিখতেন। তার লেখা চিঠিগুলো আজও আমার কাছে ধনরত্নের মতো সযত্নে আছে। অনেক শব্দ বুঝতে বাংলা অভিধান খুলতে হতো। কিন্তু সেই অভিধান খোলা ছিল শুদ্ধ আনন্দের দ্বার।

২০২০ সালের ১৭ নভেম্বর তার ছোট ভাই দীপঙ্কর দাশগুপ্ত জানালেন তার মৃত্যুসংবাদ। আমার ভেতরে যেন এক শূন্য ঝড় বয়ে গেল।
বাংলা সাহিত্যের এক পর্ব, এক আলো, এক শিক্ষাগুরু নিভে গেলেন।

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল-পরবর্তী বাংলা কবিতার যে নতুন শাখাটি বিশ্বসাহিত্যের দিগন্তে নতুন আভা নিয়ে আসে - অলোকরঞ্জন ছিলেন সেই শাখার অন্যতম গর্ব। অনেকেই পাঠ করেন তার কবিতা; কিন্তু তার মতো মানুষকে যারা জানতেন, তারা জানেন- অলোকরঞ্জন ছিলেন কেবল কবি নন, মানবিকতার এক উজ্জ্বল শিক্ষালয়।

মানুষ চলে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া আলো থাকে। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত আমাদের জন্য রেখে গেছেন সেই আলো-
* ভাষার প্রতি দায়বদ্ধতা
* মানবিকতার গভীর শিক্ষা
* শিল্পমগ্ন দৃষ্টির পরিমার্জন
* প্রবাসেও বাংলা চর্চার দায়
* এবং সবচেয়ে বড় কথা—নম্রতাকে মহৎ করে দেখার সক্ষমতা

আজ তাঁকে স্মরণ করি এক অগাধ শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও চিরকালের ঋণবোধে। তিনি আর নেই- কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্নিগ্ধ আলো আমাদের পথ দেখিয়ে যাবে বহুদূর পর্যন্ত।

হাবিব বাবুল
প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম। জার্মানি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রসঙ্গে স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন
ছবি: লেখক কর্তৃক সংগৃহীত

সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফোন করেছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সহধর্মিণী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে আমাদের প্রায়ই কথা হয়। সাহিত্য, স্মৃতি, মানুষ এবং দুই বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গন- এসবই আমাদের আলাপের প্রধান বিষয়। কিন্তু এবারের কথোপকথনে একটি বিষয় বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আলাপের এক পর্যায়ে স্বাতী বৌদি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুললেন। তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমাদের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাকি খুবই বিনয়ী মানুষ?’

আমি উত্তর দিলাম, ‘বাংলাদেশের মানুষ অন্তত এখন পর্যন্ত তাঁর মধ্যে সেই বিনয়ী আচরণই দেখছেন।’

কথোপকথনটি ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিন্তু এর তাৎপর্য আমার কাছে ছিল অনেক বড়। কারণ বিষয়টি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়; বরং এটি ছিল প্রতিবেশী দেশের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিকের বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনীতি যেমন সীমান্ত তৈরি করে, সাহিত্য ও সংস্কৃতি তেমনি সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। বাংলা ভাষা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পদ্মার দুই পারে রাষ্ট্র আলাদা হলেও ভাষা, সাহিত্য, গান, কবিতা এবং সংস্কৃতির আবেগ আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

দুই বাংলার সাহিত্যিকদের পারস্পরিক যোগাযোগের ইতিহাস বহু পুরোনো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, জসীমউদ্দীন, শামসুর রাহমান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, শঙ্খ ঘোষ- তাঁদের সাহিত্য কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মানেনি। পাঠকের হৃদয়ে তাঁরা সমানভাবে স্থান করে নিয়েছেন।

আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপে বসবাস করছি। এই সময়ে লক্ষ্য করেছি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনা হয়, তখন খুব কম ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশকে আলাদা করে দেখা হয়। বিদেশিদের কাছে আমরা সবাই বাংলা ভাষার মানুষ। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতাই আমাদের যৌথ পরিচয়।

ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে কাজ করতে গিয়ে আমি অসংখ্য ভারতীয় ও বাংলাদেশি লেখক, প্রকাশক এবং গবেষকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। সেখানে প্রতিযোগিতা যেমন আছে, তেমনি সহযোগিতাও আছে। বই বিনিময় হয়, অনুবাদ হয়, যৌথ আলোচনা হয়, নতুন প্রজন্মের লেখকদের পরিচয় ঘটে। এই সাংস্কৃতিক বিনিময়ই ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

এই কারণেই স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তখন সেটিকে আমি কেবল রাজনৈতিক কৌতূহল হিসেবে দেখি না, বরং এটি দুই বাংলার মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের একটি স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।

আজকের বিশ্বে রাষ্ট্রের সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ People-to-People Contact বা জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক। কূটনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় সফট পাওয়ার। সাহিত্য, চলচ্চিত্র, সংগীত, নাটক, শিল্পকলা এবং ভাষা- এসবই সফট পাওয়ারের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

বাংলাদেশ আজ অর্থনীতি, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই দুই ধারার মধ্যে যত বেশি আদান-প্রদান হবে, ততই বাংলা ভাষার বিশ্বজনীন অবস্থান শক্তিশালী হবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, রাজনৈতিক উত্তেজনা অনেক সময় সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও অকারণে প্রভাবিত করে। অথচ ইতিহাস বলে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাহিত্যিকদের মধ্যে সংলাপ কখনো পুরোপুরি থেমে থাকেনি। লেখকেরা সব সময়ই সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন, দেয়াল নয়।

আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতাও তাই বলে। গত চার দশকে ফ্রাঙ্কফুর্টে আমার বাড়িতে দুই বাংলার বহু লেখক, কবি, সাংবাদিক ও শিল্পী অতিথি হয়ে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে মতাদর্শের ভিন্নতা ছিল, রাজনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য ছিল; কিন্তু সাহিত্য এবং মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই বিভাজন কখনো মুখ্য হয়ে ওঠেনি।

আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার পরিবর্তন হবে, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে, কিন্তু ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সম্পর্ক অটুট থাকলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াও টিকে থাকবে।

স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথন আমাকে আবারও সেই সত্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। একজন আশি-উর্ধ্ব সাহিত্যপ্রেমী মানুষ বাংলাদেশের খবর রাখছেন, নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে জানতে চাইছেন, আবার একই সঙ্গে একটি বইয়ের জন্য আশীর্বাদ করছেন। এই চিত্রটি আমাদের বলে দেয়- রাজনীতির বাইরে আরও একটি বাংলাদেশ আছে, আরও একটি বাংলা আছে; যার পরিচয় সাহিত্য, সংস্কৃতি, মানবিকতা এবং সম্পর্ক।

আমরা যদি সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারি, তবে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধ হয়ে পৌঁছাবে। ভাষার যে বন্ধন আমাদের এক করেছে, সেটিই হোক ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজনৈতিক সীমান্ত রাষ্ট্রকে আলাদা করতে পারে, কিন্তু বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির যে আত্মীয়তা, তাকে কোনো সীমান্ত কখনো বিভক্ত করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

লেখক: জার্মানভিত্তিক সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, মেয়ে আহত
নিহত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্য। ছবি: খবরের কাগজ

দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের গুলিতে মো. ইয়াছিন (৪০) নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথ শহরে নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. ইয়াছিন নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. সুজায়েত উল্যার ছেলে।

নিহতের ভাই মো. নাসির বুধবার রাতে বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রাইভেটকারে মেয়ে ফারহানাকে নিয়ে বাসার গেটে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা অস্ত্রধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। এ সময় গাড়িতে থাকা বাবা মেয়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়াছিনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ইয়াছিন দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করে আসছেন। সেখানে তার নিজস্ব বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত এক বছর আগে তিনি তার পরিবারকেও দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যান।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। আমাদের কাছে পরিবারটি কোনো সহযোগিতা চাইলে তা দেওয়া হবে।

ইকবাল হোসেন/আজহার/

ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ইতালিতে সড়ক দুর্ঘটনায় মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে গিয়েছিলেন মাদারীপুরের সোহান সরদার (২৫)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেল তার প্রাণ। মাত্র তিন মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে করা এই প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকাজুড়ে।

রবিবার (৫ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সোহান সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদি গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইতালির তুরিন শহরে স্কুটি নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সোহান।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তুরিনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

স্বজনরা জানান, মাত্র তিন মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। নব-দম্পতির সংসার শুরু হওয়ার আগেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সোহান।

জানা গেছে, ২০২২ সালে লিবিয়া হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছান সোহান। 

পরে ইতালিতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তার আশ্রয় আবেদন (অ্যাসাইলাম) প্রক্রিয়াধীন ছিল।

এদিকে সোহানের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা যৌথভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব  খবরের কাগজকে বলেন, ‘ইতালিতে মাদারীপুরের এক প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি জেনেছি। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রিফাত/

প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
প্রবাসীদের স্বস্তি, ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে নতুন সুযোগ দিল সৌদি
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট (রুখসা আমল) ইস্যু ও নবায়ন নিয়ে নতুন সুযোগ দিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মীর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১২ মাসের বেশি সময় পার হয়েছে এবং যেসব কর্মী সৌদি আরবে নতুন যোগদান বা অন্য প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফারের ছয় মাস পার হলেও এখনও ওয়ার্ক পারমিট পাননি, তাদের চলতি পঞ্জিকা বছরের মধ্যেই ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

দূতাবাস জানায়, শ্রম আইন মেনে চলার সংস্কৃতি জোরদার, নিয়োগকর্তা ও কর্মীর পারস্পরিক চুক্তিভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মতে, দেশটির শ্রমবাজারে আইন ও বিধি মেনে চলার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে এ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অনেক প্রতিষ্ঠান ও কর্মী ইতোমধ্যে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সব প্রতিষ্ঠান ও কর্মীকে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু বা নবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এসএন/

আমিরাতে জরিমানা এড়াতে প্রবাসীদের নিয়ে ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স সেমিনার

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
আমিরাতে জরিমানা এড়াতে প্রবাসীদের নিয়ে ট্যাক্স ও কমপ্লায়েন্স সেমিনার
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্যাট এবং নতুন করপোরেট ট্যাক্স আইন সঠিকভাবে না মানায় ইতোমধ্যেই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছেন। মূলত এ উদ্ভূত সংকট থেকে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ সচেতনতা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাতে রাস আল খাইমাহর হিলটন গার্ডেন ইন-এ ‘জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস’ এবং ‘ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। 

সেমিনারে অংশ নেন, ইউএই-এর আসন্ন ই-ইনভয়েসিং কাঠামো, ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, করপোরেট ট্যাক্স এবং বিজনেস প্রসেস অটোমেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। দুবাই, শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ এবং রাস আল খাইমাহ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অর্থ ব্যবস্থাপক এবং হিসাবরক্ষক।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। তিনি এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে একটি বিশাল এবং প্রাণবন্ত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিউনিটি থাকলেও তাদের আধুনিক কর ব্যবস্থার নিয়মকানুনের সঙ্গে অভ্যস্ত করতে এর আগে খুব বেশি উদ্যোগ দেখা যায়নি। ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস এবং জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস-এর এই যৌথ প্রয়াস প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ইউএই-এর ডিজিটাল অর্থনীতি এবং নতুন আইনি পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দারুণভাবে সহায়তা করবে।  

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আশীষ কুমার সরকার।  

কূটনৈতিক কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে আমিরাতের নতুন নিয়মনীতি ও ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স মেনে ব্যবসা পরিচালনার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন এবং কীভাবে আইনি জটিলতা এড়িয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যায়, তা ব্যাখ্যা করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, রাস আল খাইমাহ ইন্টারন্যাশনাল মেরিন স্পোর্টস ক্লাবের নির্বাহী চেয়ারম্যান আরিফ ইব্রাহিম আল হারানকি।

সেমিনারে ট্যাক্স এবং কমপ্লায়েন্সের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইজি অ্যাকাউন্টিং সল্যুশনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুমনা রহমান একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রদর্শন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ই-ইনভয়েসিং শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং এটি ব্যবসার স্বচ্ছতা এবং সঠিক কর প্রতিবেদনের একটি বড় মাধ্যম। এখনও যারা সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণ করছেন, তারা যে-কোনো সময় অডিট ঝুঁকি, নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে পারেন। ফেডারেল ট্যাক্স অথরিটির (এফটিএ) ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন মেনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে তিনি এখনই সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নের দিকটি তুলে ধরে জি স্প্রিঙ্ক আইটি সল্যুশনস এর সিইও মোহাম্মদ মাহফুজ উল আলম দেখান কীভাবে আধুনিক ইআরপি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভ্যাট কমপ্লায়েন্স, করপোরেট ট্যাক্স রিপোর্টিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। ইউএই-এর নির্মাণ খাত, পরিবহন, পোশাক ব্যবসা, আবাসন সামগ্রী কেনা-বেচা, রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি এই জি স্প্রিঙ্ক ইআরপি প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় কর কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে তৈরি করা হয়েছে। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রকিউরমেন্ট, এইচআর ও পে-রোল এবং অ্যাকাউন্টিং একই ছাদের নিচে এনে এই সফটওয়্যারটি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের ম্যানুয়াল কাজের চাপ কমিয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করছে। 

সবশেষে, ইউএই-এর দ্রুত অগ্রসরমান ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের আরও দক্ষ ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি/নাঈম