আফরোজা পারভীন দেশের একজন খ্যাতনামা সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা। নারীদের সৌন্দর্যচর্চা সেবা কেন্দ্র রেড বিউটি স্যালনের তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ ছাড়াও তিনি নারীদের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন উজ্জ্বলা ফাউন্ডেশন। উজ্জ্বলা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি দেশের বিউটি ও গ্রুমিং সেক্টরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।
সম্প্রতি তিনি পডকাস্টের মাধ্যমে নারীদের জন্য নিয়ে আসছেন নতুন বার্তা। আফরোজা পারভীন বলেন, ‘বহুদিন ধরে আমি দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারীদের নিয়ে কাজ করছি। এই কাজ করতে গিয়েই অনুভব করলাম, আমাদের দেশে মানুষ তার শরীরে অসুখ হলে চিকিৎসা নিলেও মনের ব্যাপারে একদমই অসচেতন। বিশেষ করে নারীরা। অথচ আমাদের সুস্থ থাকতে, যেকোনো কাজে নিজেকে দক্ষ প্রমাণ করতে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা খুব জরুরি। পডকাস্টে আমরা নারীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কথা বলব। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের নারীরা প্রায় পতিটি সেক্টরেই নিজেদের দক্ষ প্রমাণ করেছেন।
প্রায় প্রত্যেক সেক্টরে কাজও করছেন। তবু ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমছে। এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। যেমন- যাতায়াতব্যবস্থা নারীবান্ধব না হওয়া, কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে হয়রানি, ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের আটকে দেওয়া। এসব হয়রানির জন্য শুধু যে পুরুষ দায়ী, তা-ও কিন্তু না। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে নারীরাও নারীদের টেনে ধরছেন, কটাক্ষ করছেন, তাদের চলার পথে নানা রকম বাধার সৃষ্টি করছেন।
আমরা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলব। অনেক সময় দেখা যায়, একজন নারী তার চারপাশের পরিবেশের কারণে মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেন। হয়তো অল্পবয়সে তারও স্বপ্ন ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, স্বাবলম্বী হয়ে পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করার। অথচ সেই নারীই পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে তার সেই ইচ্ছা থেকে দূরে সরে যান। বিষণ্ণতায় ভোগেন। অথচ সময়মতো কাউন্সেলিং নিলে তিনি মানসিকভাবে সুস্থ হবেন, মনের জোর বাড়বে। আমরা এই কাজটিই করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনুষ্ঠানে প্রতি পর্বে আমার সঙ্গে একজন করে বিশেষজ্ঞ অতিথি থাকছেন। বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত নারীদের অভিজ্ঞতাও শুনব আমরা অনুষ্ঠানে। শুনব তাদের সাফল্যের গল্পটা, যা অন্য নারীদের উৎসাহিত করবে। আবার ভুক্তভোগীরাও আসতে পারবেন আমাদের শোতে।’আফরোজা পারভীন বলেন, ‘পাশাপাশি শিশুদের জন্যও আমরা কাজ করব। আমাদের শিশুরাও নানা রকম মানসিক সমস্যায় ভোগে, যা আমরা গুরুত্ব দিই না।
একটি শিশু বেড়ে ওঠার জন্য তার অনুকূল পরিবেশ খুব বেশি পায় না। অনেক সময় সহপাঠীদের দ্বারা বুলিংয়ের শিকার হয়, শিক্ষকের সঙ্গে সহজ হতে না পারা, এমনকি পরিবারেও তার কথা বলার এবং শোনার পরিবেশ না থাকলে সেসব শিশুর মানসিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আমাদের শোতে শিশু, অভিভাবক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। অলোচনার মাধ্যমে তারা সমস্যার সমাধান বের করতে চেষ্টা করবেন।’
/রোদসী